Image description

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা। সোমবার সকাল থেকে তারা সড়ক আবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

 

এসময় গাজীপুরের নওজোড়ে পুলিশের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। শ্রমিকরাও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক, বিজিবির সদস্যসহ অনেকে আহত হয়েছেন।

 

এছাড়া আশুলিয়া, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শিব মার্কেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা । এ সময় একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা ।

 

ঢাকার মিরপুর-১০ নাম্বার থেকে মিরপুর-১২ নাম্বার পর্যন্ত যে প্রধান সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও ব্যাপক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। মিরপুর-১০ থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া কাফরুল থানা পুলিশ আরো পাঁচজনকে আটক করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

 

সকালে মিরপুর-১১ নাম্বারে কয়েক দফায় পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, এ সময় পুলিশের পাশাপাশি সড়কে ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিক দলের নেতা-কর্মীদের অবস্থান নিয়েছে।

 

শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা দূর করতে সোমবার সকাল থেকে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তারা সড়কে অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় গাজিপুরের সব কারখানা বন্ধ রয়েছে।

 

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেছেন, আজও শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও শিল্প পুলিশ কাজ করছে।

 

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে, তবে তারা আবার মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আসেন। সকাল থেকে এমন পরিস্থিতি চলছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।

 

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যেসব শিল্প মালিকদের নিষিদ্ধ সংগঠনের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, তারা পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে কাজ করছে বলে সরকারের কাছে প্রমাণ রয়েছে।