Image description

মাথায় বুলেটের ক্ষত নিয়ে দীর্ঘ দুই বছর জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী ও জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা চন্দন সূত্রধর। অবশেষে সেই লড়াই থেমে গেল। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি।

কলেজ খুঁজুন

 

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের সঙ্গে সম্মুখসারিতে থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন চন্দন। সেই সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই বুলেটের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে তার সহপাঠী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আজ রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক চন্দন সূত্রধরকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় ভাই আনন্দ সূত্রধর।

মারা যাওয়া চন্দন সূত্রধর বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদের সাথে সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। আন্দোলনের সময় তার মাথায় বুলেট লাগে। চিকিৎসকেরা তখন তার মাথা থেকে বুলেট অপসারণ করতে পারেননি, ফলে মাথায় সেই বুলেট নিয়েই গত দুই বছর ধরে জীবনের সাথে লড়াই করে যাচ্ছিলেন এই তরুণ।

কলেজ খুঁজুন

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চন্দনের বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায়। তার বাবার নাম অনীল সূত্রধর এবং মায়ের নাম সন্ধ্যা সূত্রধর।

চন্দনের অকাল প্রয়াণে তার সহপাঠী আজিজুর রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ডেঙ্গুতে আমার বন্ধুকে এভাবে হারাতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। একজন প্রাণবন্ত মানুষ এভাবে অকালে চলে যাবে, বিষয়টি মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। তার চলে যাওয়ায় আমরা এমন একজন বন্ধুকে হারিয়েছি, যার অভাব কখনো পূরণ হওয়ার নয়। ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো বিষয় নয়, এটি ভয়াবহ প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। আর কোনো পরিবার যেন এভাবে প্রিয়জনকে না হারায়।

জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ত্বহা হুসাইন বলেন, খবরটি শুনে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। হঠাৎ করে চন্দনের চলে যাওয়া যেন বিশ্বাসই করতে পারছি না। ছেলেটি খুবই ভালো ছিল। সে একজন বীর জুলাই যোদ্ধাও ছিল, মাঝে মাঝেই তার সাথে আমার কথা হতো। তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের জন্য এক বিরাট ক্ষতি।