Image description

ঢাকার জিঞ্জিরা। নামিদামি ব্র্যান্ডের হুবহু নকল পণ্য তৈরির জন্য পরিচিত একটি এলাকা। আসলের মোড়কে নকল। ক্রেতার চোখে ধুলো দিয়ে রমরমা কারবার। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এমন ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু একই ধরনের প্রতারণার কারবার যদি দেখা যায় ব্রিটেনে? যেখানে নামি প্রতিষ্ঠানের পণ্য মানেই কঠোর মাননিয়ন্ত্রণের নিশ্চয়তা বলে বিশ্বাস করেন অনেকে। সেই ব্রিটেনেই এবার নকল প্রসাধনীর আড়ালে মিলেছে ভয়ংকর বিষ। রূপচর্চার সামগ্রীতে পারদ, সীসা, এমনকি বিষাক্ত মিথানল। প্রশ্ন উঠেছে, বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশেও যদি এমন প্রতারণা চলে, তবে নিরাপদ কোথায় সাধারণ ক্রেতা?

গত শুক্রবার স্কাই নিউজ, দ্য গার্ডিয়ান এবং দেশটির বাণিজ্যমান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক এই চিত্র। দেশজুড়ে জব্দ করা ৫০টি নকল প্রসাধনী পরীক্ষায় ২০টিতে ক্ষতিকর কিংবা নিষিদ্ধ রাসায়নিক পাওয়া গেছে। অর্থাৎ পরীক্ষিত নমুনার ৪০ শতাংশই অনিরাপদ।

একটি ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে প্রতি ১০ লাখ অংশে ১৩ হাজার ২০০ অংশ পারদ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ পণ্যটির ১ দশমিক ৩২ শতাংশই পারদ। লিপস্টিক ও চোখের প্রসাধনীতে মিলেছে অতিরিক্ত সীসা। আরও বিস্ময়কর তথ্য সুগন্ধিতে। একটি নকল সুগন্ধির প্রায় ৮০ শতাংশই বিষাক্ত মিথানল। অন্যটিতে পাওয়া গেছে নিকোটিন।

শুধু নকল পণ্য বিক্রি নয়, ব্রিটেনের ভেতরেও সন্দেহজনক উৎপাদন কার্যক্রমের সন্ধান মিলেছে। গত জুনে ইংল্যান্ডের বোল্টনের একটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে সুগন্ধি ও অন্যান্য পণ্য তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক, তরল পদার্থ এবং বিপুল সন্দেহজনক অবৈধ পণ্য উদ্ধার করেন কর্মকর্তারা। জব্দ করা সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি।

বাংলাদেশের জিঞ্জিরা কিংবা কেরানীগঞ্জের নকল পণ্যের কারখানার সঙ্গে ঘটনাটির মিল এখানেই। ২০২১ সালে কেরানীগঞ্জে তিনটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ কাঁচামাল দিয়ে নামি প্রতিষ্ঠানের মোড়কে প্রসাধনী তৈরির প্রমাণ পেয়েছিল র‍্যাব। আর গত বছরও জিঞ্জিরায় নকল পণ্য উৎপাদনের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ব্রিটেনেও জুলাইয়ে ম্যানচেস্টারের একটি গুদাম থেকে ১ হাজার ৬৬৬টি নকল চুলের প্রসাধনী জব্দ করে পুলিশ।

আরও উদ্বেগজনক তরুণদের কেনাকাটার প্রবণতা। ব্রিটিশ মেধাস্বত্ব দপ্তরের হিসাবে, ২০২৫ সালে প্রসাধনী কেনা ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ২০ শতাংশ জেনেশুনেই নকল পণ্য কিনেছেন। ২০২৩ সালে হার ছিল মাত্র ৬ শতাংশ। নকল প্রসাধনী কেনার ৭১ শতাংশই হয়েছে অনলাইনে।

স্বাধীন বিষতত্ত্ববিদ রানি ঘোষ সতর্ক করেছেন, পণ্যের মোড়ক দেখে ভেতরের বিপজ্জনক রাসায়নিক বোঝা যায় না। পারদ ও সীসা মানুষের মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ ঝুঁকিতে শিশু ও গর্ভবতী নারীরা।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘নকলের মুখোশ খুলুন’ নামে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক অভিযান শুরু করেছে ব্রিটিশ মেধাস্বত্ব দপ্তর। বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য কেনা এবং অস্বাভাবিক কম দামের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।