Image description

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল সাভার, আশুলিয়া, মিরপুর ও গাজীপুরে হঠাৎ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা। ফলে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এসব এলাকায়। বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মহাসড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। এতে অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আকস্মিক এই বিশৃঙ্খলার পেছনে শুধু সাময়িক দাবি-দাওয়াই নয়, এর পাশাপাশি বাজারদরের সঙ্গে মজুরির সামঞ্জস্যহীনতা এবং বিভিন্ন গ্রুপের উস্কানি রয়েছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ কেন এই শ্রমিক অসন্তোষ? এর পেছনে কি কেবল মজুরি বৃদ্ধির দাবি, নাকি অন্য কোনো এজেন্ডা আছে? এদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে আজ (রোববার) মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের আন্দোলনে থাকার কোনো কারণ নেই।

শ্রমিকরা বলছে, ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের অসামঞ্জস্য। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার খরচ বাড়লেও শ্রমিকদের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে মাস শেষে বেতন হাতে পেয়েও সংসারের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এই বাস্তবতা থেকেই ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এরপর থেকেই আশুলিয়াসহ একাধিক এলাকায় বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেয় কর্তৃপক্ষ। আশুলিয়ায় ৩০টি কারখানা বন্ধ রাখা হয়। একই সময়ে গাজীপুরেও শ্রমিকদের বিক্ষোভে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু গত কয়েক বছরে খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসার ব্যয় বেড়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান আয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও কারখানার শ্রমিকরা ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি তুলেছেন। তথ্য বলছে, অনেক শ্রমিক ওভারটাইমসহ মাসে ১৯ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করেও সংসারের ব্যয় মেটাতে পারছেন না। কয়েক বছর আগে যে বাসাভাড়া ছিল আড়াই হাজার টাকা, তা বেড়ে প্রায় সাড়ে সাত হাজার টাকায় পৌঁছেছে।

শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার তৈরি পোশাক খাতের জন্য নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বোর্ড গঠন, আলোচনা এবং নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ হতে কতো সময় লাগবে, তা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

শ্রমিক নেতারা মনে করছেন, নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া আরও আগে শুরু করা প্রয়োজন ছিল। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। তবে দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে হবে। মানুষের জানমালের ক্ষতি বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। কারখানা মালিকদের কেউ কেউ দাবি করছেন, মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ চলার মধ্যেই আকস্মিক আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের পেছনে স্বার্থান্বেষী মহলের ভূমিকা থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রমিক অসন্তোষকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে স্থায়ী সমাধান আসবে না। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, বকেয়া বেতন পরিশোধ, স্বচ্ছ মজুরি কাঠামো, চাকরির নিরাপত্তা এবং শ্রমিক-মালিকের মধ্যে কার্যকর আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তারা মনে করেন, মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অসন্তোষে ইন্ধনদাতা বহিরাগত ও ঝুট ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকারীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে আজ রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের আন্দোলনে থাকার কোনো কারণ নেই।
বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, সম্প্রতি শ্রমিকদের পক্ষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের কাছে বেতন বাড়ানোর জন্য দাবি জানিয়েছে। এখন দরকার আলোচনার টেবিলে বসে সমস্যার সমাধান বের করা। যদি সমাধান না হয় তখন তাদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন করা যৌক্তিক ছিল। কিন্তু আলোচনা এখনো হয়নি। তার আগেই হঠাৎ করে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করাটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে মূলত দেশের ইমেজ ও অর্থনেতিক ক্ষতি হয়।

স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে: ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ কয়েকটি দাবিতে ঢাকার আশুলিয়ায় বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকেরা। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে কাঠগড়া ও আশপাশের অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিল্প পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার সকাল ৮টার পর আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার, আমতলা, নয়াপাড়া ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সকালে নাঈম নিটওয়্যারের শ্রমিকেরা প্রথমে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা আশপাশের কয়েকটি কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে কন্টিনেন্টাল গার্মেন্টস, এআর জিন্স ও সিডব্লিউএসহ কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

শিল্প পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে- মিলিনিয়াম টেক্সটাইল লিমিটেড, হেসং কোরিয়া লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল গার্মেন্টস লিমিটেড, টেক্সটাউন গ্রুপ, আফিয়া নিটওয়্যার লিমিটেড, নাঈম নিটওয়্যার লিমিটেড, জিহান গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, লেদারেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড, এভারব্রাইট সোয়েটার লিমিটেড, গ্রিন লাইফ নীটেক্স লিমিটেড ও পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেডসহ অন্যান্য কারখানা। সব মিলিয়ে অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে শিল্প পুলিশের এক সদস্য মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘শ্রমিক অসন্তোষের কারণে এ পর্যন্ত ১৩টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের একজন সদস্য আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।’ তবে এ বিষয়ে কারখানাগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর থেকে: ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধের দাবিতে রাজধানী ঢাকার প্রবেশমুখ গাজীপুরে তুমুল বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। আন্দোলনের মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকার সমস্ত পোশাক কারখানা শনিবার দুপুরের পর ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের পর গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে প্রথমে ‘ইন্টারস্টপথ কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শত শত শ্রমিক এসে তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেয়ার জন্য পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরবচ্ছিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিক্ষোভ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। শনিবার দুপুর থেকে উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকরা জড়ো হয়ে এ কর্মসূচি পালন করছেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতন দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনের আয় দিয়ে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। শ্রমিকরা জানান, পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ। চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, ডিম ও শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় মাস শেষে হাতে কোনো টাকা থাকছে না। অনেককে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। বর্তমান বেতন কাঠামোতে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

এদিকে মহাসড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শ্রমিকদের অবরোধের খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। এ সময় তারা আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন। এ বিষয়ে নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনের খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে শ্রমিকদের দাবি পূরণে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।