Image description

পটুয়াখালীতে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টাকালে গণঅধিকার পরিষদের গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতিকে ধরেছেন স্থানীয়রা। তার নাম মো. মনির মীর। তিনি সাবেক ইউপি সদস্যও।

আজ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গলাচিপার নলুয়াবাগী গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ধরে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাকে আটক করে। আটক মনির মীর গোলখালী ইউনিয়নের পূর্ব গোলখালী গ্রামের আ. কাদের মীরের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নলুয়াবাগী গ্রামের কয়েকজন জেলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মজিবুল হক মেম্বারের বাড়ির পাশের সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তারা এক ব্যক্তিকে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করতে দেখেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা ওই ব্যক্তিকে আটক করে পূর্ব দক্ষিণ নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখেন। শুক্রবার সকালে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পল্লী বিদ্যুতের জুলেখা বাজার অভিযোগ কেন্দ্রের জুনিয়র ইনচার্জ সৈয়দ আবদুল হান্নান জানান, মনির মীরকে ট্রান্সফরমার চুরির সময় স্থানীয় জনতা হাতেনাতে আটক করেন।

এ সময় তার কাছ থেকে রেঞ্জ, প্লাস, রড, কাটিং প্লাস ও মিনি রোলকাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

উত্তর পক্ষিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান মিল্টন বলেন, ‘দেড় মাস আগে নতুনগ্রাম এলাকায় একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এতে ওই এলাকার ২৫টি পরিবার প্রায় এক সপ্তাহ অন্ধকারে ছিল।’

গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়া জানান, গত দুই মাসে ওই এলাকায় চার থেকে পাঁচটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গলাচিপা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জয় প্রকাশ নন্দী জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায়ই ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। গত এক বছরে ৬০ থেকে ৬৫টি ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় কেউ বাদী না হলে পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।