Image description

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের পর তার চাকরিচ্যুত হওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জনের মধ্যে এবার নতুন তথ্য দিলেন আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১০ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে বিমানবাহিনীর একটি হ্যাঙ্গারে (যেখানে যুদ্ধবিমান রাখা হয়) একাধিক পুরুষ ও নারী কর্মকর্তাকে অত্যন্ত আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যায়। বিমানবাহিনীর প্রভোস্টের হাতে আটক হওয়ার পর সাউরিসহ ওই কর্মকর্তাদের সবাইকে বরখাস্ত করে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ফেসবুকের এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। বিমানবাহিনীতে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য তিনি জেনেছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও লেখেন, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একাধিক কর্মকর্তাকে বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়। শুধু বরখাস্তই নয়, বিমানবাহিনীসহ সব সামরিক স্থাপনায় তাদের কালো তালিকাভুক্তও করা হয়। এই কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন কে এম তাহসিফ সাউরি।

মানচিত্র দেখুন

 

ফেসবুক পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের কাগজ দুটিও যুক্ত করেছেন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়েন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় তার দেশ ছাড়ার মুহূর্ত দাবি করে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি কে বা কারা ছড়িয়েছিল সেই প্রশ্নও সামনে এসেছিল।

পরবর্তীতে ওই ভিডিও ধারণ করা বা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুই কর্মকর্তা জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। একটি জাতীয় দৈনিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ওই দুই কর্মকর্তার একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় বলেও দাবি করা হয়েছিল পত্রিকাটির ওই প্রতিবেদনে।

মানচিত্র দেখুন

 

তবে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফীকে বিমানবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসর দেওয়া হয়েছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, তাদের অবসরের সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার কোনো সম্পর্ক নেই। এর আগে একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর দাবি করা হয়েছিল। আইএসপিআর সেই দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছিল।