Image description

সরকারি সুবিধা দেওয়ার জন্য জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের যে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে, তা ভেঙে দুটি শ্রেণি করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি 'এ' ও 'বি' শ্রেণির আহতদের জন্য যে এককালীন অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার পরিমাণ বৃদ্ধি ও সবাইকে ভাতার আওতায় আনার দাবিও উঠেছে।

এসব দাবি নিয়ে আজ বুধবার সকাল থেকে ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনে আহত অন্তত ৩০ ছাত্র-জনতা।

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে যারা আহত হয়েছেন, তাদের 'এ', 'বি' ও 'সি'—এই তিনটি শ্রেণিতে (ক্যাটাগরি) ভাগ করে সরকারি সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয় সম্প্রতি।

প্রথম ক্যাটাগরিতে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের এককালীন ৫ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে এক অঙ্গহানি হয়েছে এমন অবস্থায় যারা আছেন, তাদের এককালীন ৩ লাখ টাকা এবং মাসে ১৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা। আর সিদ্ধান্ত অনুসারে তৃতীয় ক্যাটাগরিতে সামান্য আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, ভালো হয়ে গেছেন—তারা অগ্রাধিকারভিত্তিতে চাকরি ও পুনর্বাসনে অগ্রাধিকার পাবেন। কিন্তু ভাতা পাবেন না।

ছবি: প্রবীর দাশ/স্টার

আজ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনে আহত ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মো. মাসুদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আমরা সরকারকে স্মারকলিপির মাধ্যমে জানিয়েছি যে আমাদের ক্যাটাগরি দুইটা করতে হবে। 'সি' ক্যাটাগরি ভেঙে দিয়ে 'এ' আর 'বি ক্যাটাগরি করতে হবে। যারা কর্মে অক্ষম, হাত-পা-চোখ হারিয়েছেন, 'তাদের এ ক্যাটাগরির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

'যারা কর্মে সক্ষম অর্থাৎ এখন কিছুটা সুস্থ কিংবা পাঁচ বছর পর সুস্থ হবেন তাদের বি ক্যাটাগরিতে রাখতে হবে।'

মাসুদ আরও বলেন, সরকার 'এ' ক্যাটাগরির জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকার সম্মানি ভাতার ঘোষণা দিয়েছে। এককালীন ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে বলেছে। আমরা এককালীন টাকাটি আরেকটু বাড়ানোর কথা বলেছি। একইভাবে 'বি' ক্যাটাগরির এককালীন টাকা বাড়ানোর জন্য যেন বিবেচনা করা হয়, সেটা জানিয়েছি।'

তবে 'এ' ও 'বি' ক্যাটাগরির আহতদের জন্য ২০ হাজার ও ১৫ হাজার টাকার মাসিক ভাতার যে ঘোষণা এসেছে, তাতে তারা সন্তুষ্ট বলে জানান মাসুদ।

বিকেল সাড়ে ৩টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আহতরা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনের সড়কেই অবস্থান করছিলেন।