'ডেকে নেওয়ার দুই মিনিট পরই তিনটি গুলির আওয়াজ শোনা যায়, দৌড়ে গিয়ে দেখি বাবা মাটিতে পড়ে আছেন। মাটি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আমার আব্বাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।’
আজ বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের কথাগুলো বলেন গুলিতে নিহত মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের (৪৫) মেয়ে প্রেমা আক্তার।
প্রেমার ভাষ্য মতে, তার বাবা ঘরে ছিলেন। তাকে ডেকে নিয়ে যান মজিদ আর মোরশেদ নামে দুজন। ২ মিনিট পরই গুলির তিনটি আওয়াজ শোনা যায়। আওয়াজ শুনে ঘটনাস্থল যাওয়ার পথে মোরশেদ আর মজিদ দৌড়ে এসে বলেন, ওয়ালিদ আর সোহাগ তার বাবাকে গুলি করেছে।
সঙ্গে সঙ্গে গেলেও ওই দুজনের কাউকে দেখেননি প্রেমা। গিয়ে দেখেন, তার বাবা মাটিতে পড়ে আছেন। পরে তার মা-ও সেখানে আসেন।
তবে মৃত্যুর আগে খোরশেদ হামলাকারী হিসেবে ওয়ালিদ ও সোহাগের নাম বলে গিয়েছিলেন বলে জানান তার মেয়ে।
প্রেমা আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা একসময় বিএনপির কর্মী ছিলেন। বিএনপি করার কারণে ১৭ বছর আওয়ামী লীগের আমলে নানান মিথ্যা মামলা খেয়েছেন।’
তবে বিএনপি-আওয়ামী লীগ দ্বন্দ্বের কারণে তাকে মারা হয়নি বলে মনে করেন প্রেমা।
‘যদি রাজনীতিকে কেন্দ্র করে মারা হতো, তাহলে তিনি আওয়ামী লীগের সময় মারা যেতেন। মূলত উনি মাটির ব্যবসা করতেন। মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ব্রিকফিল্ডের মালিক হিরুসহ তার অন্যান্য লোকেরা আমার বাবার পিছে লেগে গেছেন। এর আগে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বারবার ধমক দিয়েছে, মেরে ফেলবে। যাতে মাটির ব্যবসা না করেন। অন্য কোনো কারণ আছে কি না, আমি জানি না।’
খোরশেদ হত্যায় বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তার স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৩ জনের নামে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
এর আগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম ছুট্টু ও মাসুদ রানাকে আটক করে।
গ্রেপ্তার ছুট্টু সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের বক্স আলী ভূঁইয়া বাড়ির মৃত সৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে ও মাসুদ বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামের তোফায়েল আহমেদের ছেলে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
থানা পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে দিলশাদপুর এলাকায় খোরশেদকে গুলি করা হয়। একই এলাকার ওয়ালিদের নেতৃত্বে মান্না, ইব্রাহীম ছট্টু, কামরুল, বাচ্চু, হিরু, জহিরসহ আরও ৫-৬ জন সংঘবদ্ধ হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে বলে জানা যায়। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খোরশেদকে সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত খোরশেদ দিলশাদপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে ও পেশায় মাটি ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খোরশেদ হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।