Image description

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বরিশাল ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মসূচি পালনের ঘটনা সামনে এসেছে। ‘প্রত্যাবর্তন ২.০ লোডিং’ ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মিছিল ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি-সংবলিত পোস্টার স্থাপনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়।

কলেজ খুঁজুন

 

গতকাল (২৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মসূচির ভিডিও প্রকাশ করেন। এতে বরিশাল ক্যাম্পাসে মিছিল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং শেখ মুজিবুর রহমানের নামফলকে তাঁর ছবি-সংবলিত পোস্টার স্থাপনের দৃশ্য দেখা যায়। পোস্টটি প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচিটি পূজার ছুটির সময় অনুষ্ঠিত হয়। তবে কর্মসূচিতে কারা অংশ নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ক্যাম্পাসে এ ধরনের কর্মসূচি পালিত হলো, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাঁদের মতে, প্রক্টরিয়াল বডির নজরদারি ও দায়িত্ব পালনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ থাকা ব্যক্তিরা কীভাবে ক্যাম্পাসে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করেন, তা বোধগম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি কঠোর অবস্থানে থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না।’

পবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. রেদোয়ান বলেন, ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাসে মিছিলের ঘটনা উদ্বেগজনক। ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন কর্মকাণ্ড কীভাবে সংঘটিত হলো, তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’

ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল নাহিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ছুটিতে থাকাকালে বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাসের গেট খোলা ও অরক্ষিত থাকার সুযোগে কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে বহিরাগতরা জোরপূর্বক ক্যাম্পাসে ঢুকে ঝটিকা মিছিল করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ভিডিওসহ প্রমাণ দিয়ে প্রক্টর ও উপ-উপাচার্যকে মামলা করার অনুরোধ জানাই। প্রক্টর দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, ‘ঘটনাটি গত ২১ তারিখে ঘটেছে। মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কেউই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না। ছাত্রলীগ মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের কর্মসূচি পালন করে। আমরা তাদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অপেক্ষায় ছিলাম। পরে ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার জন্য থানায় জিডি করার পদক্ষেপ নিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ওই দিনই ভিডিওসহ অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ দিয়ে প্রক্টরকে বিষয়টি অবহিত করার দাবি করা হলেও এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতারা যে ভিডিও দিয়েছেন, সেটি স্পষ্ট ছিল না। এ কারণে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারিনি।’

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এ. বি. এম. সাইফুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রক্টরকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন বিলম্ব হলো, জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, ‘এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য স্যারের সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব প্রক্টরকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রক্টরই বিস্তারিত জানাতে পারবেন। ঘটনাটি নিয়ে কোনো ধরনের বিলম্ব হয়ে থাকলে তা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হয়েছে। দায়িত্ব দেওয়ার পরও কেন বিলম্ব হলো, সে বিষয়ে প্রক্টরের সঙ্গে আবারও কথা বলব। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’

কলেজ খুঁজুন