
এমন অনেকেই আছেন যারা শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়ে থাকেন। শুরুতে ছোট ছোট সমস্যা হলেও পরবর্তীতে তা জটিলতায় রূপ নেয়। তবে শুরুতেই যদি লক্ষণ দেখে পদক্ষেপ নেয়া যায়, তাহলে তা বড় ধরনের অসুখ হয় না।
শরীরে যখন কোনো কিছুর অভাব হয়, তখন ক্রমশ সংকেত পাঠাতে থাকে শরীর। সূক্ষ্ম সংকেতগুলো এ সময় গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। তা না হলেই বিপদ। সাধারণত পুষ্টির ঘাটতি ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় কিছু সাধারণ শারীরিক লক্ষণ দেখা যায়। শরীরের এসব লক্ষণ নিয়ে কথা বলেছেন হার্ভার্ড এবং স্ট্যানফোর্ডের সাবেক ছাত্র, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি।
ডা. শেঠি জানিয়েছেন, শরীরের সংকেত পাঠানো লক্ষণগুলোর অর্থ আপনার পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব রয়েছে। এ থেকে ক্রমাগত ক্লান্তি থেকে শুরু করে ত্বকের সমস্যাসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
নখ ভঙ্গুর হলে প্রোটিন-আয়রনের অভাব: অনেকেরই নখ ভঙ্গুর দেখা যায় বা অল্পতেই ভেঙে যায় বা খাঁজকাটা দেখায়। এর অর্থ প্রোটিন বা আয়রনের অভাব রয়েছে আপনার। প্রোটিন হচ্ছে কেরাটিনের একটি মৌলিক একক, যা নখের কাঠামোগত ভিত্তি। অপর্যাপ্ত প্রোটিন খাদ্যের অভাবে নখ নরম ও ভঙ্গুর হতে পারে। আয়রন হিমোগ্লোবিন মধ্যস্থ অক্সিজেন পরিবহনে বিশেষভাবে অবদান রাখে। আর এসবের অভাবে নখের তলায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ হয় না। যা থেকে ভঙ্গুরতা ও ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
চোখের পাতা, হাত-পা কাঁপতে থাকলে ম্যাগনেশিয়ামের অভাব: মাঝে মধ্যেই যদি পেশী ঝাঁকুনি, বিশেষ করে চোখের পাতা বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাঁপতে থাকে, তাহলে আপনার ম্যাগনেশিয়ামের অভাব রয়েছে। পেশীর কার্যকারিতা, স্নায়ু সংক্রমণ ও ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যে ম্যাগনেশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা কম থাকলে স্নায়ু কোষগুলো অতিরিক্ত সক্রিয় হয়। ফলে পেশীতে খিঁচুনি বা ঝাঁকুনি দেখা দেয়।
জয়েন্টগুলোয় কড়কড় শব্দ করলে ভিটামিন ডি৩ ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি: এমন অনেকেই আছেন যাদের শরীরের জয়েন্টে কড়কড় বা ফাটার শব্দ হয়। যা মূলত ভিটামিন ডি৩ ও ক্যালসিয়ামের অভাবে হয়। ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে ভিটামিন ডি৩ ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। এসব উপাদান অপর্যাপ্ত হলে হাড় ও পেশী দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নড়াচড়ার সময় জয়েন্টগুলোয় কড়কড় বা ফাটার মতো শব্দ হয়।
অকালে চুল পেকে গেলে ভিটামিন বি১২ ও কপারের অভাব: অকালে চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। প্রায় সময়ই দেখা যায়, ভিটামিন বি১২ এবং কপারের অভাবে হয়ে থাকে। ভিটামিন বি১২ মেলানিন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যা চুলের রঙের রঞ্জকের জন্য দায়ী। কপার মেলানিন সংশ্লেষণেও সহায়তা করে এবং এর অভাবে অকালে চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।
ঘা হলে ভিটামিন সি, কে১-এর অভাব: যদি লক্ষ্য করেন কোনো উল্লেখযোগ্য কারণ বা আঘাত ছাড়াই কয়েকদিন পরপর ঘা হচ্ছে, তাহলে এটি ভিটামিন সি, ভিটামিন কে১ এর অভাবে হতে পারে। কেননা, কোলাজেন উৎপাদনের জন্য ভিটামিন সি অপরিহার্য উপাদান, যা রক্তনালীকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে। আবার ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধায় ভূমিকা রাখে। আর দুটি উপাদানেরই অভাব হলে অতিরিক্ত রক্তপাত ও ঘা হতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া