সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) অনুদান, কর-সুবিধা ও অর্থের লেনদেন নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ আটজন এ মামলার আসামি।বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ কে এম মর্তুজা আলী সাগরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দেন।দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে সিআরআইয়ের অনুকূলে অনুদান গ্রহণ, প্রতিষ্ঠানটিকে আয়কর সুবিধা দেওয়া এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সিআরআইয়ের টিআইএন নম্বরের বিপরীতে কর অঞ্চল-৬, ঢাকার সার্কেল-১১৬ এ সংরক্ষিত ২০২৫-২০২৬ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রেকর্ড জব্দ করা প্রয়োজন।মামলার অন্য আসামিরা হলেন সিআরআইয়ের ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক শাব্বির বিন শামস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং কর আপিলের সদস্য রওশন আরা আক্তার।দুদকের আবেদনে সিআরআইয়ের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কয়েকটি তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২৩টি কোম্পানির কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে। ২০১৩-২০১৪ থেকে ২০২৩-২০২৪ করবর্ষ পর্যন্ত সিআরআইয়ের মোট আয় দেখানো হয়েছে ১০০ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৪৮৬ টাকা। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫২১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সিআরআইয়ের ২৫টি ব্যাংক হিসাবে ২৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি জমা এবং ১৯১ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৪৩৯ কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া ৩৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২ টাকা আয়কর পরিশোধ না করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগও রয়েছে।দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিআরআইকে আয়কর সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ এবং সেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় করা হয়েছে বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সিআরআইয়ের সংশ্লিষ্ট আয়কর নথি ও রেকর্ডপত্র জব্দের মাধ্যমে মামলার তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।