Image description

রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সড়কে ষষ্ঠদিনের মতো অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে আন্দোলনকারীরা। প্রায় সপ্তাহ জুড়ে অবরোধে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে সাজেক ভ্যালি।

এদিকে আন্দোলনকারীদের পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটিতে প্রশাসনের সমঝোতা হলেও একটি দাবি ঘিরে আটকে গেছে চলমান সংকটের সমাধান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে সাজেক সড়কের মাচালং ১৪ কিলোমিটার, বাঘাইহাট হাজাছড়া ১০ নম্বর এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ পালন করা হয়েছে।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারী অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেক সড়কে অবরোধ চলছে। এই সংকট নিরসনে গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্দোলনকারী দুই সংগঠনের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। এতে দাবি-দাওয়া নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় বৈঠক অমীমাংসিতভাবেই শেষ হয়।

আন্দোলনকারীদের অমীমাংসিত দাবির হলো, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ তাদের জুলুম বন্ধ করতে হবে। এ নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় বৈঠকটি সোমবারের বৈঠক অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়।

সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা বলেন, প্রশাসন আমাদের পাঁচটি দাবি মধ্যে চারটি দাবি মানতে রাজি হলেও একটি দাবি মানতে কিছুটা সময় চেয়েছে। আমরা তাদের পাঁচ দিনের সময় দিয়েছিলাম, কিন্তু প্রশাসন তা মানতে রাজি হয়নি। তাই আলোচনাটি অমীমাংসিত ভাবেই শেষ হয়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবরোধ চলবে বলে তিনি জানান।

সোমবারের সাজেকের উজোবাজারে বৈঠক শেষে রাতে খাগড়াছড়ি সদরে ফিরে জেলার সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে উপস্থিত থাকা খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন,‘আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়েছে। তাদের ৫টি দাবি ছিল। এতে মোটামুটি সমঝোতা হয়েছে। তবে আর একটি বিষয়ে একটু বাকি রয়েছে৷ আশা করি, দুই একদিনের মধ্যে বাকি পয়েন্টটা আলোচনা করে একটা সমাধানের দিকে যাবে এবং সহসাই অবরোধ প্রত্যাহার করে রাস্তা ওপেন হবে।’

সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে জানতে চাইলে সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অবরোধ চলমান রয়েছে। যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার রয়েছে।