Image description

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আশপাশে থাকা ব্যক্তিদের সাধারণ মানুষ আগে দেখেনি, ভবিষ্যতেও দেখবে না। সংকট তৈরি হলে তাদের অনেকে দেশ ছেড়ে আগের জায়গায় ফিরে যাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এনসিপির গণসংযোগ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলটির সমাবেশ সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আশপাশে লন্ডন থেকে কিছু মানুষ এসে যুক্ত হয়েছেন। এই লন্ডন থেকে যে মানুষগুলো যুক্ত হয়েছেন, তারা নিজেরাও জানেন, নিজেরাও বিশ্বাস করেন যে দুই বছরের বেশি থাকতে পারবেন না। যেহেতু দুই বছরের বেশি থাকতে পারবেন না, এটা তাদের বিশ্বাস। কিন্তু যারা তাদের ভোট দিয়েছেন, ময়মনসিংহের মেয়েটির মতো, তাদের বিশ্বাস ছিল পাঁচ বছরের। এখন যখন ভুলটা বুঝতে পেরেছেন, উপলব্ধি হয়েছে, এ কারণে নিজের গায়ে নিজে জুতা মারছেন, নিজের আঙুলে নিজের গালে নিজে জুতা মারছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে যে লোকগুলো আছেন, তারা তো আর পাবলিকের সামনে জুতা মারতে পারবেন না। সেজন্য দেখা যাচ্ছে, যতটা সম্ভব লুটেপুটে আবার বিদেশে যাওয়ার বন্দোবস্ত করছেন।’

 

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখবেন, প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে যে লোকগুলো আছেন, হয় তারা দ্বৈত নাগরিক, তাদের বিদেশে বিচার রয়েছে অথবা ফ্লাইটের টিকিট তাদের পকেটে সবসময় থাকে। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখবেন, প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে যে লোকগুলো আছেন, তাদের আগে আপনারা দেখেননি, ভবিষ্যতেও দেখবেন না। কোনো একটা সংকট আসুক, তাদের এই ফিরতি ফ্লাইটের টিকিটে করে তারা আবার আগের জায়গায় চলে যাবেন।’

বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে, বিএনপির সবাই চাঁদাবাজি করে না। এটা সত্য। বিএনপির সবাই চাঁদাবাজি করে না। আমরা বলি নাই, বিএনপির সবাই চাঁদাবাজি করছে। কিন্তু যারা চাঁদাবাজি করছে, তারা কিন্তু প্রত্যেকেই বিএনপি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘যারা টেন্ডারবাজি করে, বিএনপির সবাই কিন্তু টেন্ডারবাজি করে না। কিন্তু যারা টেন্ডারবাজি করে, অফিসগুলোকে দলীয়করণ করছে, তারা প্রত্যেকেই কিন্তু বিএনপি।’

প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের ব্যক্তিদের সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এই বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী, তার আশপাশে কিছু তেলবাজ যুক্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী, আমরা শুনতে পাই, উনি সবসময় কুমড়ার ভর্তা খান, সবজি খান। উনি রাতে ঘুমান না। উনি দুই-তিন ঘণ্টা ঘুমান।’

তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা বিরোধী দলের রাজনীতি করি। কিন্তু আপনার প্রতি আমাদের একটা মায়া আছে। সত্য হলো, আপনি বেগম জিয়ার সন্তান। আপনাদের প্রতি আমাদের একটা আন্তরিকতা আছে। আপনি পুষ্টিহীনতার মধ্যে ভুগছেন। আপনি যেহেতু নিয়মিত ঘুমান না, আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়া এ কারণে সবগুলো ভুল হয়। সেজন্য আমরা চাই, আমরা আপনার ভালো চাই। কিন্তু আপনার আশপাশে বেতনভুক্ত যে চাটুকার আছে, যারা আপনি কুমড়ার ভর্তা খান বলে, নিয়মিত সবজি খান বলে, রাতে ঘুমান না বলে—এগুলো উদ্‌যাপন করে। আপনি জাপানে গিয়েছেন শুনলাম। সেখানেও নাকি না ঘুমিয়ে পড়ে আবার মিটিংয়ে চলে গিয়েছেন।’

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘একটা মানুষ যদি নিয়মিত না ঘুমায়, একটা মানুষ যদি শুধুমাত্র কুমড়ার ভর্তা খায়, এই লোকটা কি কোনোভাবে একটা সঠিক সিদ্ধান্ত, পুষ্টিকর-সমৃদ্ধ একটা জীবনযাপন করতে পারবে? এটা কি কোনোভাবেই সম্ভব? একটা মানুষ যদি নিয়মিত পর্যাপ্ত না ঘুমায়, তার পক্ষে কি কোনো সূক্ষ্ম চিন্তা করা সম্ভব? যৌক্তিক চিন্তা করা সম্ভব?’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আপনাকে এই ধরনের একটা অস্বাস্থ্যকর জীবনে ব্যস্ত রেখে সালাহউদ্দিনরা (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ) লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এবং সেটা আপনি দেখতে পাচ্ছেন না। আপনাকে ব্যস্ত রাখা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে কিন্তু আপনার পক্ষ আমরা বলতে পারব না। এই কারণে বলতে পারব না, তখন আমাদের বলবে, সবাই খারাপ, কিন্তু উনাকে ভুল বোঝানো হয়েছে। এটা পূর্বের প্যাটার্নের সঙ্গে আবার পরিচিত লাগছে।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আমরা শেষবারের মতো আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে চাইবো, আপনার আশপাশের এই যে চোর, দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত—আপনারা জানেন, বাংলাদেশের বর্তমান যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, উনিও কিন্তু দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত। উনার দুর্নীতির দায়ে ১৩ বছরের জেল হয়েছে। উনার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ ছিল—১ কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ ছিল এবং সেটা প্রমাণিত হয়েছে। উনার বিরুদ্ধে ঘের দখলের অভিযোগ ছিল, টেন্ডারবাজির অভিযোগ ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আপনি একজন প্রমাণিত সাজাপ্রাপ্ত লোককে পবিত্র বানিয়ে আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা এই দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেখতে পাচ্ছি, উনি আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে নিয়ে এক ধরনের ছলনা শুরু করে দিয়েছেন।’

এ ছাড়া মোহাম্মদপুরে বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আগে সন্ত্রাসীদের অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামতে দেখা যেত, এখন মন্ত্রীদের অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামতে দেখা যাচ্ছে। তার প্রশ্ন, ‘সন্ত্রাসীরা মন্ত্রী হয়েছে, নাকি মন্ত্রীরা সন্ত্রাসী হয়েছেন?’

তিনি বলেন, একজন প্রতিমন্ত্রীকে নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামতে হলে বুঝতে হবে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে না। সরকারের উচিত সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা। এ প্রসঙ্গে তিনি সালাহউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ অসত্য কথা বলে সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজ না করে অন্য এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন বলে তাদের মনে হচ্ছে। বিএনপির অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য, বিএনপির ক্ষমতা হস্তান্তরের ইতিহাস, ১৯৯৬ সালের নির্বাচন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে দলটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির অতীতের নির্যাতন-নিপীড়ন, হাওয়া ভবন, দুর্নীতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের উদ্যোগে দলটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।