Image description

সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র, পতিত সরকারের পলাতক নেতাদের অর্থায়ন এবং ভারতে অবস্থানরত রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ এনে সাতক্ষীরার বেসরকারি সংস্থা ‘প্রেরণা’র পরিচালক ও নারী নেত্রী শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়েছে।

পেনাল কোডের ১২৪-ক ধারার আওতায় শ্যামনগর থানায় এই মামলা করা হয়। বর্তমানে তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর থানার এসআই মো. রশিদুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। শম্পা গোস্বামী দেবহাটার তপন গোস্বামী ও অনিতা গোস্বামীর মেয়ে এবং আনন্দ চ্যাটার্জীর স্ত্রী।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি শম্পা গোস্বামী ভারতে পলাতক নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন। তিনি বর্তমান বৈধ সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ জোগান দিয়ে আন্দোলন বেগবান করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। পুলিশের দাবি, ৫ আগস্টের পর দেশের বহু সাবেক প্রভাবশালী নেতা তাঁর ছত্রচ্ছায়ায় ভারতে অবস্থান করছেন।

এজাহার অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে শ্যামনগর থানার ধানখালীর ‘প্রেরণা’ কার্যালয়ে অবস্থানকালে তিনি উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বর্তমান সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঘৃণা, অবজ্ঞা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

এছাড়া শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে এনজিওর তহবিলের অপব্যবহার এবং ভারতে অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, তাঁকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

মামলাটি গত মাসেই রেকর্ড করা হলেও তা হঠাৎ প্রকাশের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওসি জানান, মামলার বিষয়টি গোপন রেখেই তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল।

‘প্রেরণা’ এনজিওর মূল কার্যালয় শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে হলেও কালিগঞ্জে বন্ধ কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করে অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার এ বিষয়ে জানান, ঢাকা থেকে ‘প্রেরণা’ এনজিওর গত ১০ বছরের অনুদান উত্তোলনের তালিকা চাওয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে নারী নেত্রী জোৎস্না দত্ত জানান, শম্পা গোস্বামী একজন পরিচিত নারী নেত্রী এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় এলাকার বনজীবীসহ পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। ‘প্রেরণা’র মাধ্যমে যেকোনো সংকটে তিনি উপকূলীয় নারীদের পাশে এসে দাঁড়ান। তিনি কালিগঞ্জ মোজাহার মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

অভিযুক্ত শম্পা গোস্বামীর ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।