Image description

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে ইসলামে বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে অনৈক্য দূর করে একতাবদ্ধ হতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থারও প্রয়োজন রয়েছে। তবে এ দুই ধারার শিক্ষার মধ্যে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে হবে।

 

সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ১৪তম হিফজুল কোরআন অ্যাওয়ার্ড ও কোরআন উৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠানে মাহমুদুর রহমান এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যদি টিকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে আমাদের ঐক্য অপরিহার্য। আমাদের একতাবদ্ধ হতে হবে। আমরা যারা ইসলামে বিশ্বাস করি, সত্যিকারের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রাখি, তাদের একতাবদ্ধ হওয়া আবশ্যক। তাহলেই আমরা ২০ কোটি মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ধরে রাখতে পারব।’

 

মাহমুদুর রহমান বলেন, মুসলমানদের অনৈক্য দূর করতে হবে। লেখাপড়ার মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা—দুটিই প্রয়োজন। কিন্তু এ দুই ধারার মধ্যে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা বন্ধ করতে হবে। ধর্মীয় ও প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সমন্বয়ের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

 

বিশ্বে প্রায় ২০০ কোটি মুসলমান থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন আমার দেশ সম্পাদক। তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনের সুরা আলে ইমরান, সুরা আল-হুজুরাত ও সুরা আল-আম্বিয়ায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু মুসলমানেরা সেই ঐক্য ধরে রাখতে পারেননি।

 

তার মতে, মুসলমানদের এই অনৈক্যের কারণে ফিলিস্তিনে ফিলিস্তিনিরা প্রতিদিন গণহত্যার শিকার হচ্ছেন। ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা চালাচ্ছে। ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের মতো ঘটনাও ঘটছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনৈক্যের কারণে মুসলমানদের চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

মাহমুদুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, আগের প্রজন্ম যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, নতুন প্রজন্ম তা অর্জন করতে পারবে।

 

অনুষ্ঠানে সদ্য পুরস্কার ও পাগড়ি পাওয়া তরুণ হাফেজদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এসব তরুণের জীবন এখনই শুরু হচ্ছে। তাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা পালনের জন্য নিজেদের উপযুক্ত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে সমাজ, ধর্ম ও রাজনীতির ক্ষেত্রে তারাই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন।

 

বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কর্মকাণ্ডের দিকে নজর রাখা হয় উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান তরুণদের ব্যক্তিগত জীবনে আদর্শ মুমিনের চরিত্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ইসলামের প্রকৃত সৈনিক হিসেবে ভূমিকা পালনের জন্যও তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

মুসলিম বিশ্বের সম্পদ ও জ্ঞানের প্রাচুর্যের কথা তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান বলেন, মুসলমানদের সম্পদ কিংবা জ্ঞানের অভাব নেই। একসময় বিশ্বসভ্যতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণায় মুসলমানেরা শীর্ষে ছিলেন। আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি তৈরিতেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

 

গণিতে আল-খারেজমির বীজগণিত ও অ্যালগরিদম এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে ইবনে সিনার অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তরুণ আলেমদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানেও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে মুসলমানদের হারানো নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

 

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেম-ওলামা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।