বাংলাদেশ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মিজানুর রহমানের মৃত্যু নিছক সড়ক দুর্ঘটনা নয়, এর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান (সিপিএস) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম। তাঁর মতে, দায়িত্ব পালনকালে একজন পুলিশ সদস্যের এমন মৃত্যুতে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জহিরুল ইসলাম জানান, মিজানুর রহমান তাঁর নিজ জেলা ও থানা কালীগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে একটি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
মিজানুর রহমানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে শিক্ষক জহিরুল ইসলাম তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং মাভাবিপ্রবি পরিবারের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি কামনা করেন।
তবে ঘটনাটিকে নিছক সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যের এমন মৃত্যুর বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটির পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি।
জহিরুল ইসলাম মনে করেন, মিজানুর রহমানের মৃত্যুর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এ বিষয়ে তিনি পুলিশের ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জহিরুল ইসলামের পোস্টে কমেন্ট করে তার মতামতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে একই বিভাগের সহযোগী অধ্যপক মেরিনা খাতুন।
প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে (আনুমানিক ৩টার দিকে) গাজীপুরের কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের সামনে দায়িত্ব পালনকালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন এসআই মিজানুর রহমান।