Image description

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর গর্ভপাতের ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

 

ভুক্তভোগী শিশুটির মায়ের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে গর্ভপাতের পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

 

অভিযুক্তরা হলেন কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কমল শেখের ছেলে আহাদ (২১), মৃত ইসলামের ছেলে শামীম (৪২) এবং মৃত আনছার আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৪৫)। এ মামলায় আরও একজন অভিযুক্ত রয়েছেন।

 

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে শিশুটির গর্ভপাত হয় বলে তার মায়ের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা কালীগঞ্জ থানায় চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা প্রায় ছয় বছর আগে মারা যান। তার মা ও বড় বোন স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

 

শিশুটির মায়ের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ মাস আগে এক সন্ধ্যায় আহাদ শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের পুরোনো বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে পরিবারের অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে বাকি তিন অভিযুক্তও তাকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার বিষয়টি আহাদকে জানালে তিনি গর্ভপাত ঘটানোর ওষুধ এনে দেন। ওই ওষুধ সেবনের পর ২১ অক্টোবর ভোরে শিশুটির গর্ভপাত হয়। পরে তার মা গর্ভপাত হওয়া ভ্রূণটি পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির এক কোণে রেখে দেন।

 

গর্ভপাতের পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, ঘটনার সত্যতা পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।