Image description
2

রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্পের সামনে গাড়িচাপায় এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রিকশা ও পথচারীকে চাপা দেয় একটি মাইক্রোবাস। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আহত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

মৃত্যুফাঁদ তিন শ ফিট সড়কএভাবে কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়ক এখন এক ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, গত দুই মাসে এই সড়কে প্রাণ হারিয়েছে ১১ জনেরও বেশি।পরিণত হয়েছে।

এরই মধ্যে গতকালের দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, র‌্যাম্পের সামনের সড়কে রিকশা ও পথচারী পার হচ্ছে। এ সময় পেছন থেকে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস এসে তাদের চাপা দেয়।

 

এতে কয়েকজন রাস্তায় পড়ে যায়। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এআইইউবি) শিক্ষার্থী ফাহমিদা রাইয়াদ জিন্তা মারা যান।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খিলক্ষেত থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, ওই দুর্ঘটনায় একজন শিক্ষার্থী মারা গেছেন। গাড়িসহ চালককে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক বলেছেন, তিনি ব্রেকফেল করেছেন। ফলে গাড়ি তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল না।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে সব ধরনের তৎপরতা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

৩০০ ফিট সড়কের এই নৈরাজ্য বন্ধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি জানিয়ে স্থানীয়রা বলছে, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনই এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনার খবর জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। গত ১৯ ডিসেম্বর রাত ৩টার দিকে বালু ব্রিজের পূর্ব পাশে বেপরোয়া গতির প্রাইভেট কারের চাপায় বুয়েট শিক্ষার্থী মোহতাসিম মাসুদ ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় গুরুতর আহত হন আরো দুই ছাত্র। এ ঘটনার পর বুয়েট শিক্ষার্থীরা রূপগঞ্জ থানায় অবস্থান নিয়ে অভিযুক্ত তিনজনের শাস্তির দাবি জানান।

এ ছাড়া কিশোর-তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল রেসের কারণেও অহরহ এই সড়কে অকালে প্রাণ ঝরছে। গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের ছাত্র কাব্য তার বন্ধু সুজানাকে নিয়ে ঘুরতে আসে পূর্বাচলের এই সড়কে। বউরারটেক এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লেকে ডুবে যায়। ১৭ তারিখে সুজানার মরদেহ এবং ১৮ তারিখ কাব্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর এই সড়কের সুলফিনা ভূঁইয়াবাড়ি ব্রিজে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে মারা যান আব্দুর রউফ ও সিপন নামের দুই ব্যবসায়ী।

শুধু দুর্ঘটনাই নয়, এই সড়ক ঘিরে রয়েছে আরো নানা অনিয়ম। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, উল্টো পথে যানবাহন চলা থামছে না। হকারদের অবৈধ দখলদারিও রয়েছে এখানে। সেই সঙ্গে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করার চিত্র চোখে পড়ছে নিয়মিত। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয় না, যা নিরাপত্তাহীনতা আরো বাড়িয়ে তুলছে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সড়কের আশপাশে খোলা বাজার থাকায় সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিদের ভিড় থাকে। এ সময়ে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার কিশোররা মাতাল অবস্থায় প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাড়ি চালায় এই সড়কে। চেকপোস্টের অভাব ও প্রশাসনের নজরদারির শিথিলতার সুযোগেই তারা এমন ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।