রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা হতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্রটি নিরাপত্তার স্বার্থে ও অনিবার্য কারণবশত সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে, বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত সব পর্যটকদের আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনো পর্যটককে সাজেকে ভ্রমণ না করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
রাঙামাটির সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে সাজেকে সকালে ও বিকেলে মিলে প্রায় তিন হাজারের কাছাকাছি পর্যটন সাজেক প্রবেশ করেছে। এখন হঠাৎ বিকেলে এমন কর্মসূচি ঘোষণা করায় পর্যটক বের হতে পারেনি। এখন প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে কিভাবে পর্যটকদের নিরাপদে বের করা যায় সেটি আলোচনা করব। এই ঘন ঘন বন্ধে পর্যটন ব্যবসায় বিশাল ক্ষতিতে পরবে।
বুধবার বিকেলে তিন দফা দাবিতে তৃতীয়বারের মতো সাজেক সড়কে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ ঘোষণা করেছে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। বিবৃতিতে বুধবারের মধ্যেই পর্যটকদের সাজেক ত্যাগ করার অনুরোধ জানানো হয়।
বিবৃতিতে দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে জানানো হয়, জেএসএসের সশস্ত্র গ্রুপের কোম্পানি কমান্ডার চিনু মারমা ও সাইমন চাকমার নেতৃত্বে সাজেকের বিভিন্ন গ্রামে প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে। শতাধিক সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে ঘরছাড়া করেছে।
এলাকার জনগণের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার্থে এবং জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সন্ত্রাস ও উৎপাত বন্ধ করার জন্য তাদেরকে উক্ত এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলেও জানায় নেতারা।