কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নাওটী স্টেশনের অদূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন কয়েকশ যাত্রী।
দুর্ঘটনার পর ঢাকামুখী লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে অন্য লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
ট্রেনের একাধিক যাত্রী জানান, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের পর ট্রেনটি নাঙ্গলকোট স্টেশন ছেড়ে যায়। অন্য দিনের তুলনায় ট্রেনটির গতি বেশি ছিল বলে তাঁদের মনে হয়েছে। নাওটী স্টেশন পার হওয়ার পর ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এতে কয়েকজন আঘাত পান।
ট্রেনযাত্রী নাহিদা আক্তার বলেন, ট্রেনে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। এরপর যাত্রীরা একে অপরের ওপর পড়ে যান। কয়েকজন পদদলিত হন। তাড়াহুড়ো করে ট্রেন থেকে নেমে তিনি ধোঁয়া বের হতে দেখেন।
আরেক যাত্রী নাজমা আক্তার বলেন, তাঁরা কুমিল্লায় যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তাঁর মেয়ে বগির মেঝেতে ছিটকে পড়ে, এবং প্রচণ্ড ব্যথা পায়। পরে কয়েকবার বমিও করে।
ট্রেনটির চালক (লোকোমাস্টার) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, লাকসাম স্টেশন বা অন্য কোনো জায়গা থেকে তাঁকে সিগন্যাল দেওয়া হয়নি। লাইন ক্লিয়ার থাকায় তিনি ট্রেন নিয়ে ওই পথে প্রবেশ করেন। হঠাৎ লাল পতাকা দেখতে পান। তখন ট্রেনটি থেকে পতাকার দূরত্ব ছিল প্রায় ১০০ গজ। এর মধ্যেই ব্রেক কষলে বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়।
নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার জামাল হোসেন বলেন, প্রকৌশল বিভাগ থেকে তাঁদের দুর্ঘটনার বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। এ কারণে তাঁরা লাইন ক্লিয়ার দিয়েছিলেন।
লাকসাম রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার ওমর ফারুক বলেন, প্রকৌশল বিভাগ থেকে তাঁদেরও কিছু জানানো হয়নি। নাঙ্গলকোট স্টেশন থেকে লাইন ক্লিয়ার পাওয়ার পর তাঁরা গ্রিন সিগন্যাল দেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রকৌশল বিভাগ থেকে লাকসাম ও নাঙ্গলকোট স্টেশনের স্টেশনমাস্টারদের বিষয়টি জানানোর কথা।
ওমর ফারুক বলেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বিষয়টি বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করবে।
তিনি আরও জানান, লাকসাম থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন লাইনচ্যুত না হওয়া বগিগুলো নিয়ে নাঙ্গলকোট স্টেশনে পৌঁছায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। লাইনচ্যুত চারটি বগি ঘটনাস্থলে রয়েছে। সেগুলো উদ্ধারে কাজ চলছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রেলওয়ে ফেনীর উপনির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব শীলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।