Image description

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র ব্যবহারের জেরে পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গতকাল সোমবার তিনি পদত্যাগ করেন। শুধু ইশরাকই নন, বাংলাদেশে ১৬ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ দুই উপদেষ্টাকেও পদত্যাগ করতে হয়েছিল। অতিসম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। গত ১ জুন শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

নির্বাচনকালীন সরকার ঘিরে দেশে ছোট মন্ত্রিসভা করা হয়। তখন প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা-অনিচ্ছায় মন্ত্রিসভা ছোট হয়ে থাকে। সেগুলো বাদ দিলে অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা কেউ পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন, কেউবা নিজেরাই পদত্যাগ করেছেন। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভা থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। এর আগের বছর বিতর্কে জড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন মিজানুর রহমান চৌধুরী।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সরকারের নীতিবিরোধী বক্তব্যের জন্য ১৯৮০ সালের ২ জানুয়ারি জিয়ার মন্ত্রিসভার উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর সংসদীয় ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভা থেকে (১৯৯১-১৯৯৬) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ফর্মূলা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের দায়ে পদত্যাগে বাধ্য হন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। ২০০২ সালে বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারে ‘দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আদর্শগত’ কারণে অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর প্রতি অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে রাষ্ট্র্রপতির পদ থেকে সরে যেতে হয়েছিল তাকে। এই মন্ত্রিসভা থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকেও পদত্যাগ করতে হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভা থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মন্ত্রী এনায়েতউল্লাহ খান, উপদেষ্টা আকবর কবির ও একেএম হাফিজ উদ্দিন পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন। এরপর প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুস সাত্তার সরকার থেকে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম ও আকবর হোসেন পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আফসার উদ্দিন আহমেদ খান পদত্যাগে বাধ্য হন। তিনি তাজউদ্দীন আহমদের ছোট ভাই ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শেখ হাসিনার তৃতীয় মেয়াদে (২০১৪-২০১৮) পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে প্রথমে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। পরে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয় এবং তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরে দলীয় পদও হারান বর্ষীয়ান এ নেতা। শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদে (১৯৯৬-২০০১) মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হয় প্রয়াত সৈয়দ আবুল হোসেনকে। ওই মন্ত্রিসভায় আবুল হোসেন বিমান প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। একই মন্ত্রিসভায় বিতর্কে পড়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামকে। পরে তিনি নিজেই পদত্যাগ করেন।

২০০৯-২০১৪ সালে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভা থেকে আবারও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন আবুল হোসেন। পদ্মা সেতু নির্মাণে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে বিশ্বব্যাংক। সে অভিযোগের ভিত্তিতে অনেকটা বাধ্য হয়ে মন্ত্রিসভা থেকে সরাতে হয়েছিল তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে। একই মন্ত্রিসভা থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ফারুক খানকে সরিয়ে দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার টানা তৃতীয় মেয়াধে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ হারান ডা. মুরাদ হাসান। সামাজিক মাধ্যমে নারীবিদ্বেষী, অশালীন ও চরম আপত্তিকর মন্তব্য এবং একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন মুরাদ হাসান। দলীয় পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। এর আগে নিজ থেকেই সরে যান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।