‘তারা আমাকে মারার জন্য ৯ এমএম পিস্তল নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে’—নিজের জীবন নিয়ে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন নেত্রকোণার দুর্গাপুরে গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুর জামান ফকির আলিফ। সম্প্রতি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় দেয়া তার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই তাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন বেসরকারি আইপি টেলিভিশন রূপসী বাংলার নেত্রকোণা প্রতিনিধি আলিফ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে বিকালে কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের ডিতপুর গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, আলিফের শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। অপর একটি গুলি তার পিঠের ভেতরে আটকে ছিল, যা ময়নাতদন্তের সময় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে তাকে গুলি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা সাত থেকে আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই দিন পার হলেও এ ঘটনায় কাউকে শনাক্ত বা আটক করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোণার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম। দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কার কথা আগেই প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিক আলিফ। তার সেই বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং কারা তাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত, তা উদ্ঘাটনের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।