Image description

জুলকারনাইন সায়ের খান সামি

গতকাল আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি ক্যাম্পাসের ভেতরে স্কুলবাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার শায়ন। শায়নের লাশ যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেই বাসের নিচে পড়ে ছিল, তখন হতবিহ্বল পিতা সাজু আহম্মেদের সামনে স্কুল কর্তৃপক্ষ শর্ত রাখে: সন্তানের মৃতদেহ তখনই বুঝিয়ে দেওয়া হবে, যখন তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মতো সংযুক্ত অনাপত্তি সনদপত্রে স্বাক্ষর করবেন।

এ সময় স্কুলে উপস্থিত একাধিক অফিসিয়াল স্কুলের চেয়ারম‍্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল ইসলাম খান ও অধ্যক্ষ লেঃ কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফেরদৌস হাসান টিটোর মধ্যে এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণের জন্য নিজেকে সাজু আহম্মেদের জায়গায় বসালাম। কয়েক সেকেন্ডেই শরীর দিয়ে বিদ্যুৎ বয়ে গেল।

 

কী ভয়াবহ অমানবিকতা!

সকালে যে পিতা সুস্থ-সবল সন্তানকে স্কুলে পাঠালেন, তাঁকে ফোন করে প্রথমে বলা হয়—“আপনার বাচ্চার একটা ছোট দুর্ঘটনা ঘটেছে, সামান্য আহত, নিতে আসুন।” স্কুলে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সন্তান ক্যাম্পাসের ভেতরেই স্কুলবাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছে। লাশ হাসপাতালে নয়, তখনও পর্যন্ত বাসের নিচে পড়ে আছে—কেউ হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজনটুকুও বোধ করেনি।

এরপর তাঁকে লাশ দেখতে না দিয়ে প্রথমে নেওয়া হয় অধ্যক্ষের কক্ষে। সেখানে টাকা-পয়সা দিয়ে বিষয়টি মিটমাট করার চেষ্টা চলে। তাতে ব্যর্থ হয়ে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়: কর্তৃপক্ষের চাহিদামতো অনাপত্তিপত্রে স্বাক্ষর না করলে লাশ হস্তান্তর করা হবে না, ময়নাতদন্ত করানো হবে ইত্যাদি।

উপায় না দেখে তাদের লিখিত অনাপত্তিপত্রে তাঁকে অঙ্গীকার করানো হয়—সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা ফৌজদারি মামলার আশ্রয় নেবেন না!

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল ইসলাম খান ও লে. কর্নেল (অব.) ফেরদৌস হাসান টিটো—আপনারা নিজেদের কী মনে করেন? একজন শোকার্ত পিতার সঙ্গে এই আচরণের পর আয়নার সামনে দাঁড়ানোর সাহস আপনাদের আছে তো? শেইম অন ইউ!

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—এই ধৃষ্টতার দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে আপনাদেরকেই।

 

 

লেখক: অনুসন্ধানী সাংবাদিক