Image description

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা ভূমি অফিসের আত্মসাৎ করা ১২ লাখ ৭ হাজার ৯১০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) নকিব হোসেন শান্ত এ টাকা জমা করেন।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের হিসাব তত্ত্বাবধায়কের অডিটে তাদের আত্মসাতের ঘটনাটি বেরিয়ে আসে। দুই জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দফতরগুলোতে আদান-প্রদান করা চিঠির কপি থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের চান্দিনা ভিটির একসনা লিজমানি বাবদ এক লাখ ৯ হাজার ১৩০ ও ভি পি লিজমানির নথি বাবদ ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮০ টাকা আদায় করে কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেরা আত্মসাৎ করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসককে টাকা উদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

লক্ষ্মীপুরের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টবর হাবিবুর রহমান গত ৪ অক্টোবর এক পত্রে রায়পুরের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করতে ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেন।

রায়পুরের সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা গত ৯ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত প্রধান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম (বর্তমানে রামগতি উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত) ও সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) নকিব হোসেন শান্তকে টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই চিঠিতে সরকারি টাকা যথাসময়ে কোষাগারে জমা না করার কারণে কেন তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা-২০১৮ এর ৩ ধারা এর উপধারা (ঘ) (ই) মতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না সেজন্য জবাব দিতে বলেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্মীপুরের হিসাব তত্ত্বাবধায়ক মনজুরুল আলম গত ৯ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো পত্রে উল্লেখ করেন, দুটি ডিসিআর বইয়ের মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলম ওই টাকা আদায় করেন। এ টাকা আত্মসাতের সঙ্গে সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) নকিব হোসেন শান্তর যোগসাজশ রয়েছে। নকিব হোসেন অর্থ আদায়ের ও জমার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে মিথ্যা বিবরণী দাখিল করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে আত্মসাতে সহযোগিতা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার গিয়েও জাহাঙ্গীর আলমকে তার কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। বার বার মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।

সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) নকিব হোসেন শান্ত বলেন, জাহাঙ্গীর আলমকে বিশ্বাস করে আমি প্রতি মাসের টাকা প্রতি মাসে জমা হয়েছে মর্মে উপজেলা ও জেলা কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেই। আমি কোনও টাকা আত্মসাৎ করিনি। আমি আমার নোটিশের জবাব দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ পরবর্তী বিষয়টি দেখবেন।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, টাকা ইতিমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানার জন্য লক্ষ্মীপুর প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুব হাসানকে ফোন ও মেসেজ দেওয়া হলেও তারা কোনও উত্তর দেননি।