কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরিকল্পনা ছাড়াই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাস্তবায়িত হয়েছে একের পর এক প্রকল্প। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কোনো কাজে আসছে না। উপকারে আসেনি জনগণের। স্থানীয় মন্ত্রী-এমপিদের ‘মর্জি’ ও কর্মকর্তাদের ‘অর্থলোপাটের ধান্ধার’ অংশ হিসেবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হয়। সব মিলিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো এখন পরিণত হয়েছে গলার কাঁটায়।
সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া এবং যৌক্তিক প্রয়োজনীয়তা না থাকায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় থাকা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ২০৯টি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে চলমান ২৭ ও নতুন ১৮২টি প্রকল্প রয়েছে। বাতিলের তালিকায় থাকা চলমান প্রকল্পগুলোয় ইতোমধ্যে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৪৩৭টি প্রকল্প খতিয়ে দেখছে পরিকল্পনা কমিশন। এসবের মধ্যে বিদেশি অর্থায়নে ৩২২টি প্রকল্প রয়েছে। সূত্রমতে এসব প্রকল্পও বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানাসহ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নামে নেওয়া ৮২টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে চলমান ৪০টি প্রকল্পও কঠোরভাবে খতিয়ে দেখছে কমিশন। এর বাইরে বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এস এম শাকিল আখতার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বেশ কিছু ছোটবড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, যেগুলোর কাজ এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। আবার যেসব প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, সেগুলো থেকেও আশানুরূপ ফল বা প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষ ও সরকার যেন প্রতিটি প্রকল্প থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পায়, সেজন্য বর্তমানে প্রকল্পগুলো ব্যবহারকারীবান্ধব (ইউজার ফ্রেন্ডলি) পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হচ্ছে। কর্ণফুলী টানেলের কার্যকারিতা ও ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে বর্তমান সরকার আনোয়ারা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ছয় সারির (সিক্স লেন) সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’
পরিকল্পনা কমিশনের সচিব আরও বলেন, ‘হাইটেক পার্কগুলো থেকে কাক্সিক্ষত লাভ বা রিটার্ন আসছে না। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকার ইতোমধ্যে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়েছে, যেন এই উচ্চপ্রযুক্তি পার্কের জন্য আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায়।’ বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (আইসিটি) পুরো বিষয়টি তদারকি করছে বলে জানান পরিকল্পনা কমিশনের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সিলেটের কোটি টাকার ফুটওভার ব্রিজ ভবঘুরে ও নেশাখোরদের আস্তানা : তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ইচ্ছায় ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় সিলেট মহানগরের কোর্ট পয়েন্টে নির্মাণ হয় একটি ফুটওভার ব্রিজ। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) এ ফুটওভার ব্রিজ নষ্ট করে দেয় রাজনৈতিক সভাসমাবেশের জন্য সুপরিচিত কোর্ট পয়েন্টের স্বকীয়তা। অথচ গত ১০ বছরেও ওই ব্রিজে কোনো পথচারীর পা পড়েনি। রাত হলে ব্রিজটি ভবঘুরে ও নেশাখোরদের আস্তানায় পরিণত হয়। প্রকল্পটি ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়ানোর কারণে সিসিক সেটি বিক্রির জন্য দুবার দরপত্র আহ্বান করেও কাক্সিক্ষত সাড়া পায়নি। আর ব্যয়বহুল হওয়ায় তা নিজ উদ্যোগে অপসারণও করতে পারেনি করপোরেশন। কোর্ট পয়েন্টের ফুটওভার ব্রিজটির মতো নগরের আরও তিনটি স্থানে নির্মাণ করা হয় ফুটওভার ব্রিজ। এর মধ্যে ২ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে টিলাগড়ে, ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় হুমায়ূন রশীদ চত্বরে এবং ২০২৩ সালে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। চারটি ফুটওভার ব্রিজে ৯ কোটি ৬০ লাখ ২৮ হাজার ৫৮৯ টাকা ব্যয় হলেও সিলেটবাসী কাক্সিক্ষত সুফল পাননি। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে ব্রিজগুলো।
প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের : চট্টগ্রামের ৪ হাজার ৩১৪ কোটি টাকার প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটিতে প্রয়োজনীয় র্যাম্প না থাকায় প্রত্যাশিত যানবাহন চলাচল করছে না। উদ্বোধনের প্রায় তিন বছর পরও যানবাহন চলছে অনেক কম। আদায় হচ্ছে না কাক্সিক্ষত টোল। তিন বছর আগে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন আগামী ডিসেম্বরে শেষ করার কথা বলা হচ্ছে।
কর্ণফুলী টানেলে প্রতিদিন ঘাটতি ১১ লাখ টাকা : চট্টগ্রাম মহানগরের সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগে নতুন পথ তৈরি, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ প্রান্তে শিল্পায়ন ও আবাসনের বিস্তার ঘটিয়ে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ধারণার ধারাবাহিকতায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণ করা হয় দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম আন্ডারওয়াটার রোড নেটওয়ার্ক ‘কর্ণফুলী টানেল’। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার আকাশচুম্বী প্রাক্কলন আর বাস্তবতার মেলবন্ধন না ঘটায় বিপুল ব্যয়ে নির্মিত এ মেগা প্রকল্প থেকে খরচ তোলাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। টানেল কর্তৃপক্ষের হিসাবে দৈনিক ১৭ হাজার গাড়ি চলাচলের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বর্তমানে গড়ে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ গাড়ি চলাচাল করছে, যা থেকে দৈনিক টোল আদায় হচ্ছে ১১-১২ লাখ টাকার মতো। অথচ টানেলটির দৈনিক পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ই ২৩ লাখ টাকার বেশি। সে হিসেবে প্রতিদিনের ঘাটতি ১১ লাখ টাকার বেশি।
রংপুরে হাইটেক পার্ক, নভোথিয়েটারসহ একাধিক মেগা প্রকল্প গতিহীন : রংপুরে পরিকল্পনা ছিল মহানগরের পচনশীল বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদনের। ১ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় জৈব সার উৎপাদন প্ল্যান্ট। প্রকল্পটির ব্যয় ছিল প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা। কিন্তু পাওয়া যায়নি পচনশীল বর্জ্য, নষ্ট হয় টাকা ও জমি। নগরের খলিসকুড়ি ও পীরগঞ্জে ২০০ কোটি টাকার হাইটেক পার্ক নির্মাণের কাজ পেয়েছিলেন ভারতীয় ঠিকাদার। ৫ আগস্টের পর ভারতীয় ঠিকাদার কাজ গুটিয়ে চলে যান। ফলে বন্ধ হয়ে যায় কাজ। একইভাবে অর্ধনির্মিত পড়ে রয়েছে রংপুর-দিনাজপুর সড়কের পাশে ১০ একর জমিতে দেড় শ কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার।
রাজশাহীতে ‘অপ্রয়োজনীয়’ একটি উড়ালসড়কের নির্মাণ স্থগিত ও আরেকটি বন্ধের দাবি : রাজশাহীতে ‘অপ্রয়োজনীয়’ ও ‘অপরিকল্পিত’ উল্লেখ করে একটি উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ স্থগিত করা হয়েছে। আরেকটি নির্মীয়মাণ উড়ালসড়ক বন্ধের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন এলাকাবাসী। এ এইচ এম খায়রুজ্জামান মেয়র থাকাকালে ৬৬০ কোটি টাকায় এ উড়ালসড়কগুলো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
ময়মনসিংহে কোটি টাকার প্রকল্প বিফলে : ময়মনসিংহে কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণের পরও চালু হয়নি কার্যক্রম, কোনোটির নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি উন্নয়নকাজ, আবার কোনোটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ফেরত গেছে বরাদ্দের অর্থ। নগরের শম্ভুগঞ্জে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রবীণদের জন্য শান্তিনিবাস তিন বছরেও চালু হয়নি। ভবনটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
খুলনায় কাজে লাগে না হাজার কোটি টাকার প্রকল্প : ২০২২ সালের ৩০ জুন খুলনার রূপসায় ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর কথা ছিল। কিন্তু তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিচালিত কেন্দ্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতায় শিল্পনগরী খুলনায় দীর্ঘদিনেও পাইলাইনে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রায় ৮ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নামে মূলত লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়।
যশোরে ভৈরব খননে ২৭৯ কোটি টাকা শেষ, সুফল নেই : যশোর অঞ্চলে মৃতপ্রায় ভৈরব নদ বাঁচাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকল্পে সংশোধিত বাজেটে খরচ হয় ২৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। আট বছরে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের পর আজ পর্যন্ত যশোর শহরবাসী ভৈরব নদে জোয়ারভাটার দেখা পায়নি। যেটুকু খনন করা হয়েছিল, তাও আস্তে আস্তে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পাউবোর কর্মকর্তারা বলছেন, ভৈরব নদের ওপর বিভিন্ন সময়ে অপরিকল্পিতভাবে ছোটবড় ৫২টি সেতু নির্মাণ করা হয়। ভৈরব নদের প্রশস্ততা যেখানে গড়ে ১৫০ থেকে ২৫০ ফিট, এসব সেতুর দৈর্ঘ্য ১৬ থেকে ১২০ ফিটের মধ্যে। এসব সেতু অপসারণ না করলে জোয়ারভাটার প্রবাহ নির্বিঘ্ন করা যাচ্ছে না।
চুয়াডাঙ্গায় ১০ কোটির পানি শোধনাগারে সুফল নেই : চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার ৯ বছর অকেজো পড়ে আছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শোধনাগারের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়। প্রকল্পটি হস্তান্তরের পরও চালু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৮০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার একটি ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণ করা হলেও সেটিও কার্যকর হয়নি। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আনিছুজ্জামান বলেন, ‘পানি শোধনাগারটি চালু রাখা ব্যয়বহুল। যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল আসবে তাতে ব্যয়সংকুলান কষ্টকর হবে।’
কুষ্টিয়ায় কোটি টাকার ইউপি ভবন মাদকসেবীদের আখড়া : কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স আট-নয় বছর উদ্বোধনের অপেক্ষায়। এলাকা থেকে দূরে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে অভিযোগে নতুন ভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু করা হয়নি। ২০১৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৯৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করে।
মাগুরায় সংযোগ সড়কের অভাবে চালু হয়নি সেতু : মাগুরায় সংযোগ সড়কের অভাবে প্রায় ১৬ কোটি টাকার সেতু দুই বছরেও চালু হয়নি। মাগুরা-যশোর মহাসড়কের শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজারসংলগ্ন ফটকী নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির মাগুরা অংশে সংযোগ সড়কের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হলেও আড়পাড়া বাজার অংশে (দক্ষিণ পাশ) জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে ২৩৫ মিটার অ্যাপ্রোচ রোডের নির্মাণকাজ।
বরিশালে ৮০ কোটির আইটি সেন্টার চার বছরেও চালু হয়নি : বরিশাল মহানগরের নথুল্লাবাদে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার চার বছরেও চালু হয়নি। ২০১৭ সালে এ সেন্টার নির্মাণ শুরু হয়। ২০২২ সালে এটি উদ্বোধন করা হলেও এখন পর্যন্ত এর কার্যক্রম শুরু হয়নি। নগরের আমানতগঞ্জে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পাশে ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বরিশাল শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমানে নির্মাণকাজ শেষ হলেও ২৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটি চালু হয়নি। বাবুগঞ্জ উপজেলা সদরের কলেজ গেট মোড়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় সাত বছর আগে কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য দুটি আধুনিক আবাসিক হোস্টেল (বালক ও বালিকা) ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ওই এলাকায় কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী না থাকায় এবং সমাজসেবা বিভাগের সঠিক সমন্বয়ের অভাবে ভবন দুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।