বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে অসদাচরণের জন্য নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী দাইয়ান অধ্যক্ষের পা ধরে ক্ষমা চান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ভুল করেছে। ওদের আমি সব সময় সন্তানের মতোই ভাবি। সকালে কলেজে এসেই একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী দাইয়ানের সঙ্গে কথা বলেছি। পরে দাইয়ানসহ অন্য শিক্ষার্থীরা এসে আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে গেছে। আমি ওদের ক্ষমা করে দিয়েছি। ওদের প্রতি আমার কোনো রাগ নেই।’
আন্দোলন প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ভুল বুঝে আন্দোলন করেছে। আমাদের কলেজে দুই বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। আমি নিজেও এটা চালুর পক্ষে না। বিষয়টা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বলেছি। ওরাও বিষয়টি বুঝতে পেরে আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে। বর্তমানে ক্লাস কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।’
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে বন্ধ হওয়া প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত বাতিল করা, শিক্ষক সংকট দূর করা এবং কলেজে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
এসময় কলেজে অবস্থানরত কয়েকজন অভিভাবক তাদের দাবি অযৌক্তিক এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘দুই দিনের বৈরাগী’ বলে মন্তব্য করেন। এতে আরও ক্ষুব্ধ হন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলন চলাকালে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী দাইয়ানের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে সাংবাদিকদের সামনে অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহার সাথে অসদাচরণ করে।
একই সময় মো. শাহজাহান নামের আরেকজন শিক্ষককে নামধরে ডেকে অসম্মান করেন শিক্ষার্থীরা। তখন অধ্যক্ষ তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা আঙুল তুলে তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি না মানলে মঙ্গলবার থেকে ক্যাম্পাসে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।