সরকার সবসময় শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিগবা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ঢাকা কলেজের শহীদ আ ন ম নজীব উদ্দিন খান খুররম অডিটরিয়ামে শাখা ছাত্রশিবির কর্তৃক আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সিবগাতুল্লাহ বলেন, আমাদের তরুণরা পড়াশোনা করার জন্য প্রস্তুত আছে। কিন্তু সরকার পড়াশোনার সঠিক পরিবেশ চালু করছে না। কারণ যদি সবাই পড়াশোনায় ঢুকে যায়, তাহলে গাড়ির পেছনে দৌড়াবে কে? সরকার সবসময় শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে। আমরা আশাবাদী, যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে, তারা বিষয়গুলো দেখবেন।
তিনি বলেন, ‘শিবির তো শিবিরই, ছাত্রদল বা ছাত্রলীগ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আমাদের নেই। শিবির শিবিরেই থাকবে। আমরা এটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। মেধার ভিত্তিতে হোক, কিংবা যার যার যোগ্যতার ভিত্তিতেই হোক তারা তাদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবে। যাদের নিড (প্রয়োজন) বেশি, রাষ্ট্রের পক্ষ তাকেই সুযোগ দেওয়া হোক। এটাই মূলত শিবিরের চাওয়া-পাওয়া।’
ছাত্রসংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সিবগাতুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেকগুলো ক্যাম্পাসে ছাত্রসংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচন হয়েছে, সবগুলোতে ইসলামী ছাত্রশিবির বিজয়ী হয়েছে। এমন কি ঘটেছে যে, কোনো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয় পাওয়ার পরে সেখানে আবারও গেস্টরুম-গণরুম ফিরিয়ে নিয়ে আসেনি।’
হলের সিট বণ্টনের সুষ্ঠু নীতিমালার দাবি জানিয়ে ছাত্রশিবির সেক্রেটারি বলেন, ‘প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সুনির্দিষ্ট সিট বণ্টন নীতিমালা দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবগুলোতে আমরা বলেছি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে সিটগুলো দেওয়া হোক। হলের সিটের জন্য অন্যের পেছনে কেন দৌড়াব? কেন আমাকে অন্যের গাড়ির পেছনে দৌড়াতে হবে? একজন শিক্ষার্থীকে আপনার গাড়ির পেছনে ঘুরায়ে তাকে যোগ্য বানানোর কোনো দরকার নেই, সে যোগ্যতার তার দরকার নেই।’
ঢাকা কলেজের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা কলেজ ১৮৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি কলেজ। এত বছর হয়েছে, কিন্তু এখনো কি এই কলেজের শিক্ষার্থীদের সবার পড়ার জন্য পর্যাপ্ত রিডিংরুম আছে? লাইব্রেরিতে সব শিক্ষার্থী পড়তে পারে না। কিন্তু আমাদের সরকারের এগুলো মাথায় নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানকার শিক্ষার্থীরা রিডিংরুম পাচ্ছে, সেখানে সকালবেলা লাইন দিয়ে তারা পড়াশোনা করছে। আমার ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের কি রিডিংরুমের পড়ার ইচ্ছা জাগে না তাদের? একটি সুযোগ দিলে শিক্ষার্থীরা পড়ার সুযোগ পাবে।’