সিলেটের গোয়াইনঘাটে বদরুল আলম (৩৩) নামে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের গোরাগ্রাম মসজিদ-সংলগ্ন সড়কে এই ঘটনা ঘটে।
বদরুল আলমের সঙ্গে থাকা সাদেক হোসেন আহত হয়েছেন। ছিনতাই চেষ্টা ও পূর্ববিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
বদরুল আলম উপজেলার হাদারপার গ্রামের মৃত তজম্মুল আলীর ছেলে। তিনি রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বদরুল গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবদলের পদপ্রত্যাশী ছিলেন বলে জানা গেছে।
আহত সাদেক হোসেনের দাবি, স্থানীয় মনরতল বাজার থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে হাদারপার গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। গোরাগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন তাদের পথ আটকে টাকা, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নেওয়ার চেষ্টা করেন। বদরুল বাধা দিলে দা, চাকু, ছুলফিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বদরুল মারা যান। দৌড়ে প্রাণে বেঁচে গেছেন বলে জানান সাদেক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আনা গরু সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বদরুল আলম। এই নিয়ে চোরাকারবারিদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি ওমর ফারুক মোড়ল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য বদরুল আলমের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সঙ্গে নিহত ও তাঁর সঙ্গীর পূর্ববিরোধ ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে তাদের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকা থাকার দাবি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ওই এলাকায় ব্যাংক-বিমাসহ কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেই। তারপরও ভোরে এত টাকা বহন সন্দেহজনক। প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।