Image description
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, সবুজের সমারোহ, মেঘের আনাগোনা আর ঝরনার কলতান; প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের কাছে বরাবরই আকর্ষণীয় বান্দরবান। কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রশান্তির খোঁজে পাহাড়ি এই জেলায় ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা। এবার পূজা ও প্রবারণা উৎসবের টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত হয়ে উঠেছে বান্দরবান। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে আগাম বুকিং বাড়ছে, প্রস্তুত রাখা হয়েছে চার শতাধিক চাঁদের গাড়িও।
 
বান্দরবানের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত, দেবতাখুম, নাফাখুম, আমিয়াখুম ও লাংলোক ঝরনা। পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য উপভোগ, ছবি তোলা কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে অবসর কাটাতে এসব স্থানে ভিড় করেন পর্যটকেরা। টানা ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে এসব কেন্দ্র ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায় আরও গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, ছুটিকে সামনে রেখে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। ছুটি যত ঘনিয়ে আসবে, বুকিংয়ের পরিমাণ তত বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
 
গ্র্যান্ড ভ্যালির ব্যবস্থাপক সুমন বলেন, পূজা ও প্রবারণা উৎসবের টানা ছুটিতে পর্যটকদের বরণে তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের হোটেলের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। টানা ছুটি থাকায় এবার পর্যটকের ভালো সমাগম হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
 
পর্যটকদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে চার শতাধিক চাঁদের গাড়ি। পাহাড়ি পথে চলাচলের উপযোগী এসব জিপ বান্দরবানের পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। পর্যটকের চাপ বাড়লে পরিবহনসেবা সচল রাখতে চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
 
জিপ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির লাইনম্যান কামাল বলেন, বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য চার শতাধিক চাঁদের গাড়ি প্রস্তুত রয়েছে। জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো উন্মুক্ত থাকায় এবার পর্যটকদের আগমন বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। আগের বিভিন্ন সমস্যায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা কিছুটা পুষিয়ে নেয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে তাদের। পর্যটকদের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন চালকেরা।
 
পর্যটকদের আগমন বাড়লে পরিবহনকর্মীদের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পর্যটননির্ভর অন্যান্য পেশার মানুষের কর্মব্যস্ততাও বাড়বে। ফলে টানা ছুটিতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
 
আশাবাদের পাশাপাশি পর্যটকদের চাপ সামলানো নিয়ে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে ব্যবসায়ীদের। শেষ মুহূর্তে পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে গেলে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে কক্ষসংকট দেখা দিতে পারে। এ কারণে আগেভাগে আবাসন বুকিং করে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
 
বান্দরবান হোটেল-মোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, পূজার টানা ছুটি উপলক্ষে হোটেল-মোটেলগুলোতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়া হচ্ছে। দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকের চাপ বাড়লে আবাসনসংকট তৈরি হতে পারে। তাই ভ্রমণে আসার পরিকল্পনা করা পর্যটকদের আগেই কক্ষ বুকিং করে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
 
টানা ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার।
 
তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
সব মিলিয়ে পূজা ও প্রবারণা উৎসবের টানা ছুটিকে ঘিরে পর্যটকদের আগমনের অপেক্ষায় বান্দরবানের পর্যটন খাত। আগাম বুকিং, পরিবহন প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত সংশ্লিষ্টরা। এখন পর্যটকদের পদচারণায় পাহাড়ি এই জেলা আবারও প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠার অপেক্ষা।