‘মুসলমানরা যেমন আমার পরিবারের সদস্য, তেমনি অন্য ধর্মাবলম্বীরাও আমার পরিবারের সদস্য’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ বজায় রেখে সব ধর্মের মানুষকে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
শুক্রবার শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধানকাটি ইউনিয়নের পৈতকাটি দুর্গা মন্দির পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মন্দিরের সার্বিক নিরাপত্তা, পূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি এবং ভক্তদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে মন্দির পরিদর্শনের সময় তিনি নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করেন।
হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, ‘‘আপনারা দেখেছেন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সাধারণত পূজার দিনই আসেন। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পূজা যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সব এমপিকে আগাম যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই আমি আগাম এসেছি।’’
বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে হুইপ অপু বলেন, এখানে সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বসবাস করে আসছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভেদ বা উসকানি সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া যাবে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কেউ যাতে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পর হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ ডামুড্যা উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা উন্নয়ন তহবিলের আওতায় ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য ৫০০টি ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট হস্তান্তর করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চিকিৎসক শাহ আলম সিদ্দিকীর হাতে এসব কিট তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় হুইপ অপু বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, ডামুড্যা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিল্লুর রহমান মধু, উজ্জ্বল শিকদার, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম ও পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন মাদবরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।