ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে আয়োজিত নারী শিক্ষার্থীদের আন্তঃহল বাস্কেটবল প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণীতে দেওয়া জামায়াতের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি মারদিয়া মমতাজের বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মারদিয়া মমতাজ মেয়েদের খেলাধুলা ও নিরাপদ খেলার পরিবেশের উপর জোরারোপ করেন।
তার ওই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামপন্থী, উগ্রবাদী ও বিএনপিপন্থী অ্যাক্টিভিস্টদের একটি অংশ তাকে আক্রমণ করে মন্তব্য করা শুরু করেন।
যে বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা
অনুষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি উৎসাহ দিতে গিয়ে মারদিয়া মমতাজ বলেন, “আমি এখান থেকে অল্প একটু দূরে একটা ক্যাম্পাসে পড়েছি, কিন্তু এরকম জিমনেশিয়ামে কোনদিন ঢুকিই নাই। আমি বুয়েটে পড়েছি, কিন্তু জিমনেশিয়ামে আমাদের ঢোকার কেউ কোনদিন আইডিয়া দেয় নাই। অথচ আমাদের ছাত্রী হলের পাশেই ছিল জিমনেশিয়াম। আমরা চিৎকার শুনতাম ছেলেরা খেলছে, এজন্য আমার মনে হয় তোমরা অনেক ভাগ্যবান।”
তিনি আরও বলেন, “কেন খেলতে হবে এটা নিশ্চয়ই জানো, মেয়েদের আরো বেশি দরকার তাই না? কারণ জাতির অর্ধেক আমরা আর বাকি অর্ধেক আমাদের থেকে আসে, সুতরাং খেলাটা ছেড়ে দিও না। এইযে সালমা আপারা আছেন, মুক্তা আপারা আছেন, তাদের মতন খেলবা, যেভাবে পারো, যে যেই ফ্যাসিলিটিতে পারো খেলবা, যে যেই সোসাইটিতে যাবা সেখানে খেলার জায়গা তৈরি করে নিবা। একটা জিনিস মনে রাখবা, আমাদেরকে কেউ জায়গা করে দেয় না। আমি সারাজীবন চেয়েছি খেলতে, কিন্তু একটা সিকিওর পরিবেশ পাই নাই। এই দোষটা আমি সমাজকে দিতে চাই।”
নারীদের জন্য আলাদা সিকিউরড পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটা সমাজের স্বপ্ন দেখি যেখানে আমাদের মেয়েদের জন্য, মহিলাদের জন্য সিকিউর শরীর চর্চার জায়গা থাকবে, থাকা দরকার তো তাই না? এবং আমরা চাই প্রত্যেকটা মসজিদের সাথে একটা করে শরীর চর্চা কেন্দ্র থাকবে, যেখানে মেয়েরা, মায়েরা, বাচ্চারা খেলতে পারবেন নিরাপদে। বাংলাদেশে সিকিওরড এমন জায়গা আমাদের দরকার যেখানে আমাদের বাচ্চারা গায়ের রোদ লাগাইতে পারবে, আমাদের মহিলারা গায়ে রোদ লাগাইতে পারবে, ঘরে বসে ভিটামিন ডি গিলতে হবে না, রাইট? আর আমি তোমাদের কাছে বলব কেউ খেলা ছেড়ে দিবা না, এনি ফরমেট, একাও খেলবা না, কমিউনিটিকে নিয়ে খেলবা, মানুষকে বলবা একটা বাসা ছেড়ে দেন আমরা খেলবো, কাউকে খেলা শিখাবো।”
বক্তব্যকে ইসলামবিরোধী বলে আখ্যা
তার এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অভিযোগ করেন, তিনি মেয়েদের শর্টস পরে পুরুষদের সামনে খেলাধুলার বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন। কেউ কেউ তার বক্তব্যকে ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া ইসলামী নারীবাদী, ইসলামপন্থীদের বেগম রোকেয়া বলেও অনেকে তাকে আখ্যায়িত করেছে। এমনকি ইসলামপন্থীদের তার শরীর নিয়ে মন্তব্য করতেও দেখা গেছে।
ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মারদিয়া মমতাজের সমালোচনা করে লিখেন, “মমতাজ আওয়ামী লীগেও একটা ছিল, এখন জামাতেও একটা আসছে। পার্থক্য, আওয়ামী লীগেরটা খোলামেলা, সে বাউল শিল্পী, তার কাজও সরাসরি, সে ওপেন ফাইট্টা যায় ছিঁইড়া যায় বলত!
আর এটা হিজাব পরে ইসলামের নামে ধোঁকা দিয়ে সবকিছু ফাটাইলতাছে, ছিঁড়ালতাছে, ইসলামের ক্ষতি করতাছে!
ঐ মমতাজও সংসদে সবজান্তা মাতব্বরের মতো সিয়াসিত্তার হাদিস কউত, এটাও সবজান্তা হাদিস বলে! ভাবসাবও সেইম! এগুলো করে পশ্চিমকে বুঝাচ্ছে এই দেখুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা প্রথম হাফ প্যান্ট পরে বাস্কেটবল আয়োজন করছি মেয়েদের! সারাদেশে এত এত সমালোচনা, তারপরও আমরা আমাদের মহিলা এমপিকে দিয়ে খেলার পুরস্কার দিয়েছি। এটাই আমাদের কাছে ইসলাম!”
বিএনপিপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট মোহাম্মদ ফারুক মিয়া লিখেছেন, “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কেমন শরীয়াহ কায়েম করবে সেটা শিবির ডাকসুতে ক্ষমতা পেয়ে প্রমাণ করেছে তাদের শরিয়া আইনের সামান্য নমুনা! জামাত এমপি ট্রফি আপা খ্যাত মারদিয়া মমতাজ বলেছিলেন, আমরা মেয়েদের হাফ প্যান্ট পরার সুযোগ করে দিবো। জামাত শিবির বাস্তবেই ঢাবিতে সেটা করে দেখালো কারণ ঢাবির নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে! বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ জামাতিদের হাতে গেলে কেমন শরিয়া কায়েম হবে এবার বুঝে আসছে তো?”
আনিসুর রহমান নামে একজন এক্টিভিস্ট লিখেছেন, “টকশো ব্যবসায়ী জামায়াতে নারী সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ কে থামান। নাহলে ধর্মীয় লেবাস লাগিয়ে নাস্তিক তাসলিমা নাসরিন হতে আর বেশি সময় লাগবে না। হিজাবের আড়ালে লুকিয়ে থাকা হাজারো বেগম রোকেয়া।”
আনিসুর রহমানকে তার আইডিতে নাইন ইলেভেনের হামলাকে উদযাপন করে পোস্ট দিতে দেখা যায়। পাশাপাশি ওসামা বিন লাদেনকে রাহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেও নিজ আইডি থেকে পোস্ট করেন তিনি।
নিজেকে ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মো. হেলালের ভাই পরিচয় দেওয়া মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী মারদিয়া মমতাজকে ইঙ্গিত করে তার ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তিনি বলেন,
“বোন, আপনাকে একটা কথা বলছি। আমরা দেখেছি, যারা অনেক সুন্দরী, সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারী, তাদের মুখে আমরা নারী স্বাধীনতার কথা শুনি না। তাদের মুখে আমরা তথাকথিত নারীবাদী বুলি কপচানো শুনি না। তারা কখনো লিবারেল-সেক্যুলার হওয়ার জন্য নারীদের দলে দলে ডাকেন না। এবার বুঝতে পারছেন, আপনি কেন এত নারীবাদী হতে চাচ্ছেন? কেন এত লিবারেল-সেক্যুলার হতে হচ্ছে? হিজাব-বোরকা পরে নারীদের নারী স্বাধীনতা শেখাতে হচ্ছে?”
মাসরুর বিএনপির পক্ষে একটিভিজম করলেও তাকে বিভিন্ন সময় তালেবান, খেলাফত, ‘জঙ্গি নাটক' ইত্যাদি নিয়ে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।
আফিফা আদিবা নামের একজন লিখেছেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্কেটবল প্রতিযোগিতায় পুরষ্কার দিতে এসে, মারদিয়া মমতাজ যে বক্তব্য দিলেন তা শুনে রীতিমতো আমি 'থ' হয়ে গেলাম!
কি বলতেছেন এগুলা উনি! মেয়েরা হাফ প্যান্ট পরে খেলছে! সেখানে পুরুষেরা উপস্থিত আছে!
সেটা বিভিন্ন প্রেস ও মিডিয়া দিয়ে ভিডিও করা হচ্ছে। এরপর দুনিয়ায় সবাইকে দেখানো হচ্ছে। যেই সময় ছেলেদের হাফ প্যান্ট পরা নিয়ে বিতর্ক চলছে! আর মারদিয়া মমতাজ কি সুন্দর এপ্রিশিয়েট করে বলছেন, তোমরা সৌভাগ্যবতী! কারণ তোমরা সিকিউরড একটা এনভায়রনমেন্ট পেয়েছো! তোমরা যে যেখানে থাকো, খেলাটা কখনো ছাড়বা না! মানে মেয়েরা যে হাফ প্যান্ট পরে ছেলেদের সামনে খেলছে এটা একটুও দৃষ্টিকটু লাগছে না তার কাছে, এটা কোনো কনসার্ন ই না!”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কন্টেন্ট প্রচার করা একজন ব্যক্তি তার পেজ চরমোনাই মিডিয়া সেন্টারে এই ইস্যুতে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে দেখা যায় তিনি মসজিদের মিম্বারে বসে উক্ত ঘটনার সমালোচনা করছেন। সে ভিডিওর ক্যাপশনে লিখেন, “জামাতের নতুন ট্রফি আপা জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে কট খাচ্ছেন আর ধরা খাচ্ছেন, রহস্যটা বোধহয় আজ পরিষ্কার! ”
কওমী ওয়াজিন ওমর ফারুক মারদিয়া মমতাজের বক্তব্য শেয়ার করে লিখেন, “এসব কথা আগে মূলত বলতো কুখ্যাত তাসলিমা নাসরিন , সেদিন দেখলাম, সাদিক কায়্যুমও খুব খুশি মেয়েদেরকে হাফপ্যান্ট পড়ে খেলতে দেখতে পারায়। এসব তাদের জন্য বড় ধরনের মাইনাস পয়েন্ট।”
মুফতি মহিউদ্দিন কাসেমী নামের একজন নিজের ফেইসবুকে লিখেন, “জামায়াতের একজন আলেম গতকাল আমাকে বললেন, মারদিয়া মমতাজ হল "ইসলামী তসলিমা নাসরিন" ঠিক বলেছে?”
যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
ডাকসুর ক্রাড়ী সম্পাদক আরমান হোসেন বেঙ্গল লেন্স কে বলেন, “ডাকসু তো শুধু শিবিরের না, সবার। আমরা ছেলে শিক্ষার্থীদের যেমন খেলার আয়োজন করেছি তেমনি মেয়েদের ও আয়োজন করেছি। এখানে খেলাধুলা বন্ধ করার ক্ষমতা ডাকসুর নাই। আবার মারদিয়া মমতাজ নারী প্রতিনিধি হিসেবে এসেছে, তিনিও একজন মেয়ে। কেন তিনি এখানে আসতে পারবে না, থাকতে পারবে না, মেয়েদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারবে না? মেয়েদের সাথে না মিশলে তো মেয়েরা ইসলাম যে ন্যায্য ভারসাম্যপূর্ণ একটা জীবন বিধান, সেটা সম্পর্কে জানবে কিভাবে? আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মেয়েদের এনভায়রনমেন্ট তৈরি করা। আর ফিজিক্যাল ফিটনেস তো এজ এ হিউম্যান বিং ছেলেদের যেরকম দরকার, মেয়েদের বেশি দরকার। একটা ফ্যামিলিতে মা যদি অসুস্থ হয় তাহলে পুরো ফ্যামিলি বিপদে পড়ে। দেখা যায় কনজারভেটিভ ফ্যামিলিতে শারীরিক অসুস্থতার পরিমাণ বেশি, কারণ তাদের ফিটনেস ডেভেলপের সূযোগ কম। যারা সমালোচনা করছে তাদের কাছে প্রশ্ন হচ্ছে তারা আসলে মেয়েদের এই ফিটনেসের জায়গাগুলোতে সুযোগ রাখছে কিনা? আপনারা বলছেন খেলার পরিবেশ নেই তাই খেলার দরকারই নাই, তাহলে মেয়েদের ফিটনেস ডেভেলপমেন্ট কিভাবে হবে? আর বলে রাখি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্কেটবল খেলা নিয়মিত হয় দুপুরের আগে মেয়েদের টাইম দুপুরের পরে ছেলেদের কিন্তু নারী শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা হয় না। মেয়েদের অধিকারের ব্যাপারে প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে। এজন্য এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে।”
জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, “সম্ভবত খুব কম মানুষই আমি ওখানে পুরোটা কী কথা বলেছি, সেটা শুনেছে। তাদের কাছে যে ছবিটা—এই এআই-জেনারেটেড ছবিটা—দেওয়া হয়েছে, সেটা হচ্ছে আমার পাশে রোকেয়া হলের ক্যাপ্টেন, সম্ভবত ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়া প্রমা দাঁড়িয়েছিল শর্টস পরা, ছবিটা দেখেই বেচারারা খুব এক্সাইটেড হয়ে গেছেন। তাদের কাছে মনে হয়েছে, আমি সমাজ, ধর্ম—সবকিছু রসাতলে নিয়ে যাচ্ছি।
আমার বক্তব্যে এটার ওপর সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল যে মেয়েরা কী পরে খেলবে, তার চেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে মেয়েদের একটা পরিবেশ পাবে—এটা তাদের পাওনা। আর এটা নিশ্চিত করার জন্য আমি আহ্বান করেছি, প্রত্যেকটা মসজিদের পাশেই আমি এমন একটা সমাজের স্বপ্ন দেখি, যেখানে প্রত্যেকটা মসজিদের পাশে মেয়েদের এমন জায়গা থাকবে, যেখানে তারা, বাচ্চারা—মেয়েরা, বাচ্চারা—নিরাপদে এবং আকাশের নিচে খেলতে পারবে, রোদ লাগাতে পারবে।
আমার কথা এটুকুই ছিল। এখন যারা শুনেছে, তাদের অবশ্য আরও বেশি খারাপ লাগার কথা। কারণ, তাদের মসজিদে বাংলাদেশে তো আমরা মেয়েরা মসজিদে নামাজই যেতে পারি না, দূরে থাক খেলাধুলার জায়গা। তাদের হয়তো এটাতে মনে হয়েছে যে আমি তাদের হকে আঘাত করছি, তাদের হকের ভাগ নিচ্ছি বা নিতে চাচ্ছি। হয়তো এ কারণে তারা ক্ষেপেছেন। আর যারা শোনেনি, ছবি দেখে উত্তেজিত হয়ে গেছে, এটা হয়তো তারা ওই কারণে হয়েছে। আমি জানি না। আমি জাস্ট একটা টুর্নামেন্ট খেলা শেষ, আমি গেছি পুরস্কার দিতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে। আমার কি অধিকার আছে সেখানে গিয়ে প্রশ্ন করার যে তারা ড্রেস কি পরবে?
আর এখানে একজন পুরুষের চাইতে আমি যাওয়াটা অবশ্যই যুক্তিযুক্ত। আমি মেয়েদের খেলা দেখছি, তাদের সঙ্গে এনজয় করছি, তাদের সঙ্গে কথা বলছি। অবশ্যই যে কোনো—যেমন সাদিক গিয়ে এটা উদ্বোধন করছে, সেটার চাইতে আমি যাওয়াটা বেশি এলিজেবল।”
মারদিয়া মমতাজের বক্তব্য সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুল আলম বেঙ্গল লেন্সকে বলেন , “মারদিয়া মমতাজ সঠিক কথা বলছে, যথার্থ বলছে। আর ইসলামে নারী-পুরুষের এসব ব্যাপারে কোনো পার্থক্য নাই। নারীদেরকে আরও বেশি ফিট হওয়া দরকার, কারণ সে গর্ভ ধারণ করে, সে বাচ্চা লালন-পালন করে, তার শারীরিক সক্ষমতা দরকার। নারী কি রোগী হবে নাকি? এগুলো তো যারা সমালোচনা করে, তারা বেয়াক্কাল ছাড়া আর কিছু না। ইসলামের আধুনিক ব্যাপারগুলো জানে না। ইসলাম সব যুগে মানানসই। দুই-চার কলম কিতাব পড়লেই তো মানুষ ইসলাম বোঝে না। বাস্তবতা বুঝতে হবে। এটা এখনো ইসলামী রাষ্ট্র হয় নাই। উনি এখানে অতিথি হিসেবে ছিল, কোন মেয়ে কী হাফ প্যান্ট পরে আসল—এটা উনার কী করার আছে? উনি কি ওদের বলছে, ‘হাফ প্যান্ট পরে আইসো’? মানে কিছু লোকের কোনো কাম-কাজ নাই। এর চেয়ে বড় অপরাধ হয় টু শব্দটি করে না।
আমি মনে করি ঢাকা ইউনিভার্সিটির মেয়েরা খেলাধুলা করবে, মার্শাল আর্ট শিখবে, যাতে ছিনতাইকারী ধরলে সে প্রতিরোধ করতে পারে। ইসলাম আধুনিক, অত্যাধুনিক ইসলাম। মারদিয়ার মতো চিন্তাভাবনার আমাদের দেশে আরও শিক্ষিত মহিলার জন্ম হওয়া দরকার, যারা ইসলামও বুঝবে, আধুনিকতাও বুঝবে।
আমি তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই, অনেক মেয়ে হিজাব পরে, অনেক মেয়ে পরে না। তা আমি কি তাকে বোরকার জন্য চাপাচাপি করবো? বরং তাকে আমি বুঝাবো, ইসলামের সৌন্দর্য বলবো, সে যদি গ্রহণ করে আলহামদুলিল্লাহ। কোনো চাপাচাপির সুযোগ ইসলামে নাই। এটা এখনো ইসলামিক স্টেট হয় নাই, কোরআন-সুন্নাহ মাফিক বাংলাদেশ চলে না। আমি মনে করি আধুনিকতা এবং ইসলাম দুইটাকে মিলিয়ে আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের কোনো জায়গায় পশ্চাৎপদ হয়ে থাকা যাবে না। আপনি মেয়েদেরকে কেন শরীরচর্চা থেকে দূরে রাখবেন? কেন তাদেরকে সুস্থ এবং সাবলীল থাকার ব্যাপারে বাধা প্রদান করবেন? একজন সুস্থ মা না হইলে একজন সুস্থ সন্তান পৃথিবীতে কিভাবে হবে, সুস্থ জেনারেশন কিভাবে হবে? ইসলামের কোথাও নারী-পুরুষকে আলাদা করেনি।”