Image description

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিরোধী জোটের আন্দোলন ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। 

বুধবার (৭ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে তাকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। এ সময় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি।

প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ করেন, তাকে আটক করতে আসা নারী পুলিশ সদস্যরা জোর করে মাটিতে আছড়ে ফেলেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে খামচে দেন। পুলিশি বাধার প্রতিবাদে তিনি রাস্তায় শুয়ে পড়েন এবং সেখানেই অবস্থান নেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, তিনি সেখান থেকে এক ইঞ্চিও নড়বেন না। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানাচ্ছেন, কিন্তু সরকার তাদের সঙ্গে যে আচরণ করছে তা পুরো দেশ দেখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশি আচরণের সমালোচনা করে অবিলম্বে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।

এর আগে মঙ্গলবার রাজধানী দিল্লির আকাশবাণী ভবনের সামনে প্রায় নয় ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিরোধী জোটের নেতারা। বুধবারও সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আন্দোলন চালিয়ে যান তারা।

দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের আয়োজিত ঐক্যের মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার পর বিরোধী সাংসদরা যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা হন। তাদের একাংশ বাসে করে যাত্রা শুরু করেন। পথে কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা বাসের ছাদে উঠে জাতীয় পতাকা হাতে স্লোগান দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, দীপেন্দর সিং হুডা, ইমরান প্রতাপগড়ী, ইমরান মাসুদ এবং সেবা দল প্রধান বি ভি শ্রীনিবাস।

মিছিল প্রায় এক কিলোমিটার এগিয়ে গেলে অশোকা রোড এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে বাসের গতিরোধ করা হয়। সেখানে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। এর ফলে উইন্ডসর সার্কেল এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।   

 

 

কর্মসূচিতে কংগ্রেস ছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিআই (এম), সিপিআই, রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে সমাজবাদী পার্টির কোনো সাংসদকে মিছিলে দেখা যায়নি।

ভোট কারচুপি এবং বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলো মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তার জবাব দিতে হবে এবং জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।

বিরোধী নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হবে। এদিকে দিল্লির রাজপথে পুলিশ ও বিরোধী নেতাদের মুখোমুখি অবস্থান ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।