বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১০তলা ভবনের ছয়তলা থেকে পড়ে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের কোষাধ্যক্ষ নাজমুল হকের (৩৫) মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাজমুল বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি নগরীর কাশীপুর এলাকার এনামুল হকের ছেলে।
আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আদালত ভবনের নিচে শব্দ শুনে লোকজন ছুটে গিয়ে নাজমুলকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পরে কোতোয়ালি মডেল থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে মৃত অবস্থায় পায়। পরে লাশ উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, ‘নাজমুলের পকেটে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের একটি পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। পরে কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।’
আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরও জানান, সেখানে থাকা একাধিক ব্যক্তি নাজমুলকে ছয়তলা থেকে পড়ে যেতে দেখেছেন। তবে তিনি নিজে লাফ দিয়েছেন, নাকি কোনোভাবে পড়ে গেছেন—এ বিষয়ে কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি। আদালত ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।
কলেজের প্রধান সহকারী হাফিজা আক্তার বলেন, নাজমুলের বাসা নগরীর কাশীপুর এলাকায়। তার সাবেক স্ত্রী তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। মামলাটি ঢাকার আদালতে চলছিল। তবে মামলার বিস্তারিত তিনি জানেন না। বরিশালে নাজমুলের বিরুদ্ধে কোনও মামলা আছে কি না, সেটিও তার জানা নেই। নাজমুল আত্মহত্যা করার মতো কোনও কারণ দেখেননি বলেও জানান তিনি।
বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালাম হাওলাদার বলেন, ‘নাজমুল কলেজের কোষাধ্যক্ষ পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ভালো প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তার আত্মহত্যা করার মতো কোনও কারণ ছিল বলে আমার মনে হয় না। বরিশাল আদালতে নাজমুলের বিরুদ্ধে কোনও মামলা ছিল কি না, তা আমার জানা নেই।’
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে নাজমুলের পকেট থেকে একটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তার নাম ও কর্মস্থল সম্পর্কে জানা যায়। পরে কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।’
ওসি বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন নাজমুল ছয়তলা থেকে পড়ে গেছেন। তবে তিনি লাফ দিয়েছেন, নাকি অন্য কোনও কারণে পড়ে গেছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হবে। লাশ শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।’