Image description

সূর্যাস্তের পর পড়াশোনার একমাত্র ভরসা ছিল কেরোসিনের বাতি, আর গরমের দিনে স্বস্তি পাওয়ার উপায় কেবল হাতের পাখা। এমন পরিস্থিতিতে বড় হয়ে প্রকৌশলী হয়েছেন রাজু কাছাড়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনার উত্তর দমদম পৌরসভার মাঝেরহাটিতে তার পৈতৃক বাড়িতে নিয়মিত বিদ্যুৎ সংযোগ পেতেই লেগে গেলো দীর্ঘ ৫৬ বছর।

 

গত সপ্তাহে অবশেষে প্রবীর কাছাড় (৫৬) ও তার স্ত্রী অপর্ণা কাছাড়ের (৪৬) বাড়িতে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

ছোটবেলা থেকেই বাতির আলোয় পড়াশোনা করে রাজু মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও ডিপ্লোমা শেষ করে ভিন রাজ্যে চাকরি শুরু করেন। নিজের কষ্টের কথা স্মরণ করে রাজু বলেন, আমি যখন মাধ্যমিক পরীক্ষা দেই, তখন কেরোসিনের বাতির আলোতেই পড়াশোনা করতাম। তখন যদি বিদ্যুৎ থাকত, তবে পরীক্ষার ফলাফল আরও ভালো হতে পারত।

 

প্রবীরের দুই ছেলে রত্ন ও রাজু দুজনেই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়াশোনা করে প্রকৌশলী হয়েছেন। চাকরি পাওয়ার পর তারা বাড়িতে সৌর প্যানেলের ব্যবস্থা করলেও স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ এত দিন মেলেনি।

প্রবীর কাছাড়ের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ২০২৩ সালে পৌরসভা থেকে পানির সংযোগ মঞ্জুর করা হলেও তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস তা আটকে দেন বলে অভিযোগ তোলেন প্রবীর।

 

 

অবশেষে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় প্রবীরের ৮৫ বছর বয়সী মা পারুল কাছাড়সহ পুরো পরিবার স্থানীয় বিজেপি প্রার্থী সৌরভ সিকদারের কাছে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সৌরভ সিকদার জয়ী হয়ে সহায়তার আশ্বাস দেন। কথা অনুযায়ী চলতি বছরের ৭ মার্চ তাদের বাড়িতে পানির সংযোগ আসে এবং সম্প্রতি বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ পাওয়ার পর উত্তর দমদমের বর্তমান বিধায়ক সৌরভ সিকদার সোমবার কাছাড় পরিবারে যান এবং তাদের সঙ্গে এক ঘণ্টা সময় কাটান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় এবং রাজ্য সরকারবিষয়ক দফতর বিষয়টি দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়ার পর কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে এই সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে