আকাশে ওড়ে হাজার হাজার উড়োজাহাজ। পৃথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু—নানা প্রান্তে এগুলোর গন্তব্য।
কেননা আকাশে উড়ে চলা এসব বিমানের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে সোনার রহস্য। এই রহস্যের জাল ছিঁড়তে তল্লাশি চালালেই দেখা যায়, টয়লেটের প্যানেলে কিংবা আসনের নিচে লুকিয়ে আছে চকচকে সোনার বার। যাত্রীর পায়ুপথ থেকে শুরু করে উড়োজাহাজকর্মীর বেল্ট-জুতায় সুনিপুণভাবে সোনা লুকিয়ে রাখার মতো চমকানো ঘটনাও উন্মোচিত হয়েছে।
নীল আকাশজুড়ে এই ‘সোনালি’ কারবারে কারা জড়িত, বহুদিনের সেই রহস্য ভেদ করতে মাঝেমধ্যেই জেগে ওঠেন গোয়েন্দারা। কিন্তু তাঁদের চমকে দিয়ে কারবারিরাও ধরছে নতুন নতুন কৌশল। ফলে একের পর এক বড় চালান ধরা পড়লেও থামানো যাচ্ছে না সোনা চোরাচালানের গতি।
দেশে নতুন সোনার বার্ষিক চাহিদা যেখানে আনুমানিক ১৮ থেকে ৩৬ টন, সেখানে শুধু ব্যাগেজ রুলসের সুবিধায় বৈধভাবে আসছে এর চেয়ে বেশি। ২০২২ সালে এক বছরেই এভাবে দেশে ঢুকেছিল ৫৪ টন সোনা।
এর বাইরে বিমানবন্দরগুলোতে নিয়মিত ধরা পড়ছে অবৈধ চালান। আবার অবৈধ সোনার বড় অংশই থেকে যাচ্ছে নজরদারির বাইরে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, বৈধ বা অবৈধ পথে দেশে আসা সোনার একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে সীমান্তের ওপারে, বিশেষ করে ভারতে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শুল্কসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার তদন্তেও বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে ভারতে সোনা পাচারের তথ্য উঠে এসেছে।
জানা গেছে, দেশটিতে ব্যাগেজ রুলসে সোনা আনায় কড়াকড়ি থাকায় বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে চোরাচালানের অনিবার্য রুট। যশোর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে নিয়মিতই সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে অবৈধ কারবারের সোনার চালান।
চমকানো তথ্য হলো, ২০২২ সাল থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পৌনে পাঁচ বছরে শুধু ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধরা পড়ে এক হাজার ৯৫৮ কেজি সোনা। বছরে গড়ে ৪১২ কেজি। তবে এটিকেই অবৈধভাবে আসা সোনার প্রকৃত পরিমাণ ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কেননা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ধরা পড়া সোনা মোট অবৈধ চালানের ১০ শতাংশেরও কম।
বিমানবন্দরকেন্দ্রিক গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে বলেছেন, সারা দেশে বিস্তৃত পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাস্টমসের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে খতিয়ে দেখতে পারে যে এসব স্বর্ণ দেশের কোনো সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে বাইরে পাচার করা হচ্ছে কি না।
কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুবাই রুট ব্যবহার করেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণ স্বর্ণ দেশে আসে। তবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কিংবা হংকং থেকেও স্বর্ণ আসার প্রমাণ রয়েছে। ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্য বলছে, বিদেশ থেকে আসা অবৈধ সোনার ৭৪ শতাংশই আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। ২০ শতাংশ আসে সৌদি আরব এবং বাকি ৬ শতাংশ অন্যান্য দেশ থেকে।
বিমানবন্দরে দায়িত্বরত একাধিক গোয়েন্দা সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, মূলত কয়েকটি উপায়ে স্বর্ণ আটক করা হয়ে থাকে। অনেক সময় যাত্রীরা নিজেদের শরীরের ভেতরে বা রেকটামে লুকিয়ে স্বর্ণ বহনের চেষ্টা চালায়। আবার গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় কাস্টমসের চ্যালেঞ্জ কিংবা স্ক্যানিং প্রক্রিয়ায় স্বর্ণ ধরা পড়ে। এ ছাড়া কাস্টমসের নিয়মিত কড়া নজরদারির কারণে ধরা পড়ার আশঙ্কায় যাত্রীরা অনেক সময় শৌচাগার বা অন্য কোনো লুকানো স্থানে স্বর্ণ ফেলে রেখে চলে যায়।
কৌশলী চালানে নাকাল গোয়েন্দারা
সোনা চোরাচালানের বহুল প্রচলিত কৌশল ছিল যাত্রীর শরীর কিংবা লাগেজ। গোয়েন্দাদের নাকাল করে এখন নিত্যনতুন কৌশল ধরেছে কারবারিরা।
গত ২৮ মার্চ রাতের ঘটনা। দুবাই থেকে উড়ে এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ বিজি-৩৪৮। নামার আগে থেকেই উড়োজাহাজটিকে নজরদারিতে রেখেছিলেন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। অবতরণের পর শুরু হয় তল্লাশি।
এক পর্যায়ে নজর পড়ে উড়োজাহাজের কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেট প্যানেলে। বাইরে থেকে সবই স্বাভাবিক। প্যানেল খুলতেই বেরিয়ে আসে সারি সারি সোনার বার। সাদা কাপড়ে মোড়ানো বার গণনা করে দেখা গেল সংখ্যায় ১৫৩। ওজন প্রায় ১৭.৮ কেজি। বাজারমূল্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।
এত বড় চালান উড়োজাহাজের ভেতরে লুকানো ছিল, অথচ কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
তিন মাস পর ২ জুলাই একই বিমানবন্দরে আবারও একই দৃশ্যের অবতারণা। দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজে (বিজি-১৪৮) কার্গো হোল্ডে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ১৬০টি সোনার বার। ওজন ১৮.৭২ কেজি। বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। এবারও কাউকে আটক করা যায়নি।
এর মাত্র ১৭ দিন পর, ১৯ জুলাই, হংকং থেকে আসা ক্যাথে প্যাসিফিকের একটি কার্গো উড়োজাহাজে পাওয়া যায় প্রায় ১৬ কেজি সোনা। কাঠের ক্রেটে পণ্যের চালানের আড়ালে আনা হয়েছিল সেগুলো। বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। এবারও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
গত ২ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজ এফজেড-৫২৩ ঢাকায় নামলে তল্লাশি চালিয়ে ১৯-এ নম্বর আসনের নিচে কালো স্কচ টেপে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায় ৮০টি সোনার বার। ওজন ৯.৩৩১ কেজি।
৫ সেপ্টেম্বর আবারও সোনার চালান ধরা পড়ে দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের উড়োজাহাজ বিজি-১৪৮ থেকে। অভিযান চালিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক সহকারী টেকনিক্যাল হেল্পারের বেল্টের ভেতর থেকে ১২০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। ওজন ছিল ১৩.৯২ কেজি।
২১ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর থেকে আসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ বিজি-৫৮৫ ফ্লাইট। বিমানটি অবতরণের পর প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালান শুল্ক গোয়েন্দারা। শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজের টয়লেটের ভেতর মেলে ৫০টি সোনার বার। ওজন ৫.৮৩২ কেজি। বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি টাকা।
সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার। এদিন ভোরে দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের ইকে-৫৮২ উড়োজাহাজ শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযানে সন্দেহভাজন দুই টেকনিক্যাল হেল্পারকে আটক করা হয়। তাঁদের জুতার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে ৮০টি সোনার বার। উদ্ধার করা বারগুলোর মোট ওজন প্রায় ৯.৩৪ কেজি। বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের প্রধান বিমানবন্দর ঘিরে আন্তর্জাতিক সোনা চোরাচালান চক্র বেশ সক্রিয়। ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, শাহজালাল বিমানবন্দরে ২০২২ সালে জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৬৯৮ কেজি, ২০২৩ সালে ৫৫৫ কেজি, ২০২৪ সালে ৪১৭ কেজি, ২০২৫ সালে ১৬৯ কেজি এবং চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে জব্দ হয়েছে প্রায় ১১৯ কেজি সোনা।
একই সময়ে সোনা চোরাচালানের মামলার সংখ্যাও কম নয়। বিমানবন্দর থানার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত সোনা চোরাচালানসংক্রান্ত ৫৪০টি মামলা করা হয়েছে।
এদিকে বহুল আলোচিত এই সোনা চোরা কারবারে উড়োজাহাজকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগটিও পুরনো। ২০১৪ সালে গোয়েন্দা পুলিশ বিমানের উপমহাব্যবস্থাপক এমদাদ হোসেন, প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিউলিংয়ের প্রধান ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ আসলাম শহীদ, শিডিউল ম্যানেজার তোজাম্মেল হোসেনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ওই তদন্তের পর বিমানের ৫০ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নজরদারিতে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। এনবিআরের একটি তদন্তে তখন বিমানের ১৪ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। এক যুগ পরও নিত্যনতুন কৌশলে সোনা চোরাচালানের অভিযোগ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না তাঁরা।
দেশের পতাকাবাহী উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, যেকোনো ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রচলিত বিধি-বিধান ও নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে বিমানের সুস্পষ্ট অবস্থান রয়েছে।
গতকাল সরেজমিনে গেলে বিমানবন্দরের একজন গোয়েন্দা কালের কণ্ঠকে জানান, যত দিন যাচ্ছে, সোনা বহনের ধরনও তত বদলে যাচ্ছে। আগে মূলত সোনার বার শরীরে বা লাগেজে লুকিয়ে আনা হতো। আর এখন সোনা গলিয়ে পেস্ট কিংবা পাউডার বানানো হচ্ছে। কখনো কাপড়ের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ভেতরেও লুকানো হচ্ছে।
এমন একটি ঘটনার কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, গত বছরের এপ্রিলে দুবাই হয়ে সিলেট থেকে ঢাকায় আসা এক যাত্রীর চার জোড়া অন্তর্বাস, ট্রাউজার ও তিনটি টি-শার্ট অস্বাভাবিক ভারী মনে হয় কাস্টমস কর্মকর্তাদের। পরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কাপড়গুলো থেকে ২.৪১৭ কেজি সোনা পাওয়া যায়।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক বড় চালানগুলোতে সোনা সরাসরি যাত্রীর কাছে না রেখে উড়োজাহাজের ভেতরে লুকানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, এর উদ্দেশ্য হলো, আন্তর্জাতিক যাত্রীকে সোনা নিয়ে কাস্টমস পার হতে না দেওয়া। বিমান থেকে পরে সুবিধাজনক সময়ে অন্য কাউকে দিয়ে চালান বের করে নেওয়া।
জানতে চাইলে বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, চোরাকারবারিরা ফলের ঝুড়ি, বিমানের শৌচাগার কিংবা জুতার মধ্যে লুকিয়ে সোনা পাচারের চেষ্টা করে। এমনকি পেটের ভেতরে ট্যাবলেটের মতো বানিয়ে সোনা বহনের মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে নিয়ে বের করতে হয়। বিমানে কোনো যাত্রী ছাড়াই বাথরুমে ১৬ থেকে ১৮ কেজির মতো সোনা পাওয়ার নজিরও রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, একক পথে সোনা না এনে তারা রুটও ঘন ঘন পরিবর্তন করে। মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুর থেকে সরাসরি না এসে শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড কিংবা নেপাল হয়ে পর্যটক হিসেবে যাতায়াত করে কিংবা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সুযোগ নেয় কারবারিরা।
জানতে চাইলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান কালের কণ্ঠকে জানান, গোয়েন্দা সংস্থা ও কাস্টমসের নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে বিমানে বিশেষ তল্লাশি (রামাজিং) চালিয়েও স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়, যা সাধারণত সিটের নিচে কিংবা কার্গো হোল্ডে লুকিয়ে রাখা থাকে। পাশাপাশি সম্প্রতি কার্গোতে অন্যান্য পণ্যের আড়ালে, যেমন—ফলের চালানের মিথ্যা ঘোষণায় আনা স্বর্ণও চিহ্নিত করা হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো আসামি আটক হলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। কার্গোর মাধ্যমে আনা স্বর্ণ আটকের ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এজেন্টের লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আটক যাত্রীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অধিকতর তদন্ত চালিয়ে এই চোরাচালানচক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করার কাজ করছে।
চট্টগ্রাম-সিলেটও বড় রুট
ঢাকার বাইরে চোখ রাখলে প্রথমেই আসে চট্টগ্রামের নাম, তারপর সিলেট। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ২৬২টি ঘটনায় প্রায় ১৬২ কেজি সোনা জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় বাহক হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯৭ জন পুরুষ এবং ৫৫ জন নারী। ১০টি চালান পাওয়া গেছে মালিকবিহীন অবস্থায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বেশির ভাগ বাহকই এসেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বিভিন্ন সময়ে ধরা পড়েছে বড় চালান। ২০১৬ সালের নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা বিমানের একটি ফ্লাইটের আসনের নিচে পাওয়া যায় ৮০টি সোনার বার, ওজন প্রায় ৯.৩ কেজি। ২০১৮ সালে মাসকাটফেরত এক যাত্রীর লাগেজ থেকে উদ্ধার করা হয় ৬০টি বার বা প্রায় সাত কেজি সোনা।
বড় চালান ধরা পড়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। দুবাই থেকে আসা বিমানের একটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে শুল্ক গোয়েন্দারা উদ্ধার করেন ২৮০টি সোনার বার এবং ছয়টি সোনার ‘ডিম’। মোট ওজন ছিল ৩৪ কেজির বেশি। এ ঘটনায় আটক করা হয় চার যাত্রীকে।
পরের বছর দুবাইফেরত এক যাত্রীর তিনটি জুসার-ব্লেন্ডারের ভেতর থেকে প্রায় ১৬ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শারজা থেকে আসা দুই যাত্রীর পোর্টেবল ফ্যান, রিচার্জেবল লাইটসহ বিভিন্ন সামগ্রীর মধ্যে লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায় আরো সাড়ে ১৭ কেজি সোনা।