Image description

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ‘গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি যখন ধ্বংসপ্রাপ্ত, তখন দায়িত্ব নিয়েই প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছেন। বিগত সরকারের লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা থমকে ছিল; বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে সেই বকেয়া পরিশোধ নিশ্চিত করেছে।’

তিনি বলেন, শিক্ষকদের সম্মান জানানোর ক্ষেত্রেও আমরা এক নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছি। আগে প্রতিবছর মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে এই পরিধি বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে আজ আমরা শতাধিক শিক্ষককে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানাতে পারছি। সোমবার (৫ অক্টোবর) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে, যেখানে দেশের শিক্ষকসমাজকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদার সাথে স্মরণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিটি বাঁকে—১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে—শিক্ষকসমাজ সত্য, ন্যায়, দেশপ্রেম ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে সাহসিকতার সাথে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন।’

তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং একজন অনন্য শিক্ষানুরাগী। তিনি শিক্ষা কার্যক্রমকে গতিশীল করেছেন, বহু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষার প্রতিটি স্তর—প্রাথমিক, গণশিক্ষা, মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা—প্রতিটি ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সবচেয়ে বড় ও গঠনমূলক নীতিগুলো প্রণীত হয়েছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়েই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, বিপুল সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি, এনটিআরসিএ গঠন এবং কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো বিএনপির বিগত সরকারের হাত ধরেই এসেছে।’

তিনি বলেন, শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার একটি যুগোপযোগী কর্মসূচি—‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’—চালু করতে যাচ্ছে, যা ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করতে চাচ্ছি। বিভিন্ন দেশের সাথে ‘টিচার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ চালুর বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার করতে চাই আমরা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের মধ্যে মেলবন্ধন বাড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়নে শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে সরাসরি কাজে লাগানো হবে।

তৃতীয় ভাষা শিখন, লার্নিং হ্যাপিনেস, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মতো ক্ষেত্রে নতুন নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই শিক্ষাবান্ধব সরকার শিক্ষকসমাজের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। একটি সমৃদ্ধ, গতিশীল ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা শিক্ষকদেরকেই রাষ্ট্র বিনির্মাণের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।