রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী তিনটি জাহাজ ভাড়ায় চলছে বিদেশে। আর দেশের জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে বিদেশ থেকে ভাড়া করা জাহাজে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জাহাজের প্রিমিয়াম বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে সাশ্রয় হচ্ছে না বৈদেশিক মুদ্রা।
জানা যায়, বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি দেশি জাহাজে আমদানি করা পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে করা হয় ‘বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (স্বার্থরক্ষা) আইন, ২০১৯’। ওই আইন অনুযায়ী আমদানি করা পণ্যের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ দেশি পতাকাবাহী জাহাজে বহন করতে হয়।
অথচ আইন থাকলেও খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই আইনের ব্যবহার নেই বলে অভিযোগ বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি)। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটিতে শতভাগ জাহাজই দেশি পতাকাবাহী।
বিএসসি দাবি করছে, আমদানি করা সরকারি খাদ্যপণ্য ও সার বিএসসি পরিবহন করে এলেও নীতিগত জটিলতায় পরিশোধিত জ্বালানি পরিবহন করতে পারছে না তারা। উল্টো নিজেদের মালিকানাধীন দেশি পতাকাবাহী ৩৯ হাজার টনের তিনটি ট্যাংকার জাহাজ বিশ্বের নানান দেশে ভাড়ায় পরিশোধিতসহ তরল জ্বালানি পরিবহন করছে।
বর্তমানে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির পদ্ধতি নিয়ে বিএসসি ও বিপিসির মধ্যে ১৩ বছর ধরে রশি টানাটানি চললেও কোনো সমাধান মিলছে না। এর মধ্যে গত তিন মাসের ব্যবধানে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির প্রিমিয়াম (জাহাজ ভাড়া, ইন্স্যুরেন্সসহ আনুষঙ্গিক খরচ) বেড়ে সাড়ে তিনগুণেরও বেশি হয়েছে।
চীনের ঋণসহায়তায় কেনা হয় তিন ট্যাংকার
২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১ হাজার ৮৪৩ কোটি ৫৮ টাকা ব্যয়ে জি টু জি ভিত্তিতে চীন থেকে ছয়টি জাহাজ কেনা হয়। পুরো প্রকল্পে চীন সরকারের ১ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা ছিল। এর মধ্যে ২০১৯ সালে ৮৮৫ কোটি টাকায় তিনটি ট্যাংকার আসে। এতে এমটি বাংলার অগ্রদূত ও এমটি বাংলার অগ্রগতি ২৯৬ কোটি ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে এবং এমটি বাংলার অগ্রযাত্রা ২৯২ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টাকায় কেনা হয়।
জাহাজ তিনটি চীনের তৈরি। এমটি বাংলার অগ্রযাত্রা ২০১৯ সালের ২২ মে, এমটি বাংলার অগ্রগতি ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি ও এমটি বাংলার অগ্রদূত ৩ জানুয়ারি বিএসসির বহরে যুক্ত হয়।
এমটি বাংলার অগ্রগতি বর্তমানে ভারতের চেন্নাই ও এমটি বাংলার অগ্রদূত ভারতের জয়গড় বন্দরে অবস্থান করছে। আর এমটি বাংলার অগ্রযাত্রা রাশিয়ার সেইন্টস পিটার্সবার্গ বন্দর থেকে ২ অক্টোবর ব্রাজিলের সুয়াপে বন্দরের পথে যাত্রা করেছে।
বিপিসিতে তিন মাসের ব্যবধানে প্রিমিয়াম বেড়ে সাড়ে তিনগুণ
দেশে বছরে জ্বালানির চাহিদা ৭২ লাখ টনের কাছাকাছি। এর মধ্যে ১৫ লাখ টন ক্রুড আমদানি করে দেশে পরিশোধন করা হয়। পাশাপাশি দেশি পাঁচটি বেসরকারি প্ল্যান্ট থেকে কিছু জ্বালানি পাওয়া যায়। অবশিষ্ট পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হয়।
পরিশোধিত জ্বালানির মধ্যে ডিজেল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েল, মেরিন ফুয়েল নিজেরাই আমদানি করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে গত তিন মাসের ব্যবধানে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির প্রিমিয়াম বেড়ে সাড়ে তিনগুণেরও বেশি হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিটুজি ও উন্মুক্ত দরপত্রে ৫৫ লাখ টনের কিছু বেশি পেট্রোলিয়াম জ্বালানি আমদানি করে বিপিসি। এর মধ্যে ৪৩ লাখ টনের কার্যাদেশ পায় ডা. এজাজুর রহমানের ছয় প্রতিষ্ঠান, যা বার্ষিক মোট আমদানির ৭৮ শতাংশ।
গত জানুয়ারি-জুন মেয়াদে জিটুজি ও উন্মুক্ত দরপত্রে সর্বমোট ২৮ লাখ টনের মধ্যে ২৪ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি সরবরাহের কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয় দুই এজেন্ট প্রতিষ্ঠান সেভেন মার্ক ও ট্রান্সবাংলা কমোডিটিস লিমিটেডের মালিক ডা. এজাজুর রহমান।
এর মধ্যে গত এপ্রিল মাসের কিছু পার্সেল সরবরাহে অপারগতা জানায় ডা. এজাজ প্রতিনিধিত্বকারী দুই প্রতিষ্ঠান ইউনিপ্যাক (সিঙ্গাপুর) ও পিটিএলসিএল। এই সময়ের মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধ শুরু হলে পৃথিবীজুড়ে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়। এতে প্রথমদিকে বিপিসি বেকায়দায় পড়লেও পরে ওই মাসেই সর্বোচ্চ ১৭টি পার্সেল সরবরাহ দিয়ে সংকট সামাল দেওয়ার বিষয়টি জাগো নিউজের কাছে দাবি করেন প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বত্বাধিকারী ডা. এজাজুর রহমান।
২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন মেয়াদে উন্মুক্ত দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চার প্যাকেজে ১৪ লাখ ২০ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহের জন্য দুই প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘এ’ প্যাকেজে ব্যারেলপ্রতি সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৭২ ডলার প্রিমিয়ামে ৫ লাখ টন ডিজেল ও ব্যারেল প্রতি ৬ দশমিক ৮৬ ডলার প্রিমিয়ামে ১ লাখ টন জেট ফুয়েল সরবরাহের কার্যাদেশ পায় ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর, ‘বি’ প্যাকেজে ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৭৮ ডলার প্রিমিয়ামে ৪ লাখ ৬০ হাজার টন ডিজেল, প্রতি ব্যারেল ৬ দশমিক ৮৮ ডলার প্রিমিয়ামে ১ লাখ ১০ হাজার টন জেট ফুয়েল, ‘সি’ প্যাকেজে টনপ্রতি ৩৭ দশমিক ৮১ ডলার প্রিমিয়ামে দেড় লাখ টন ফার্নেস অয়েল এবং ‘ডি’ প্যাকেজে ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৭৮ ডলার প্রিমিয়ামে ১ লাখ টন অকটেন সরবরাহের কার্যাদেশ পায় ভিটল এশিয়া। প্রতিষ্ঠান তিনটির স্থানীয় এজেন্টের মালিক ডা. এজাজুর রহমান।
তবে বিপিসির তথ্য বলছে, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদের উন্মুক্ত দরপত্রে ‘প্যাকেজ-পিজি-০১’ এ আড়াই লাখ টন ডিজেল সরবরাহের জন্য ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর প্রিমিয়াম দাবি করে ব্যারেলপ্রতি ১৬ ডলার ৬২ সেন্ট। ভিটল এশিয়া দাবি করে ১৭ ডলার ১৬ সেন্ট। ওই প্যাকেজে ১৬ দশমিক ৪৯ সেন্টে সর্বনিম্ন দরদাতা হন ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেড সিঙ্গাপুর।
মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে ‘প্যাকেজ-পিজি-০২’ এ ২ লাখ ৩০ হাজার ডিজেল সরবরাহের জন্য ব্যারেলপ্রতি ১৭ ডলার ৫৯ সেন্ট দর দেয় ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর। তবে ভিটল এশিয়া ওই ডিজেল ব্যারেলপ্রতি ১৬ ডলার ৬৮ সেন্টে সর্বনিম্ন দরদাতা মনোনীত হয়। সবমিলিয়ে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদে ৬ লাখ ৫ হাজার টন ডিজেল, ৯০ হাজার জেট ফুয়েল এবং একলাখ টন ফার্নেস অয়েল কেনার জন্য দরপত্র ডাকা হলেও প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি দর পড়ায় মন্ত্রিসভা কমিটি ডিজেল ও জেট ফুয়েল কেনার প্রস্তাব বাতিল করে। শুধু একলাখ টন ফার্নেস অয়েল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরবর্তীসময়ে ব্যারেলপ্রতি ১৪ ডলার ৮৫ সেন্টে ডিজেল এবং ১৬ ডলার ৪৯ সেন্টে জেট ফুয়েল জি-টু-জি সরবরাহকারী তিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্রের সমপরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে সাড়ে ৪ লাখ ডিজেল এবং ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল সরবরাহ দেবে বিএসপি-ইন্দোনেশিয়া ও ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর এবং ১ লাখ ৫৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ দেবে পেট্রোচায়না। বিএসপি ও ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুরের স্থানীয় এজেন্ট ডা. এজাজ।
১৩ বছরেও মেলেনি সমাধান
পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বিপিসি বিদ্যমান সিআরএফ বা সিঅ্যান্ডএফ (কস্ট অ্যান্ড ফ্রেইট) পদ্ধতি ব্যবহার করে। পাশাপাশি ক্রুড আমদানির ক্ষেত্রে এফওবি (ফ্রি অন বোর্ড) পদ্ধতি ব্যবহার করে। মূলত সিআরএফ পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে জাহাজ ভাড়া, বিভিন্ন দেশের বন্দরে বার্থিং স্লট ঠিক করা, পরিবহনের দুর্ঘটনা বিমার দায় বহন করতে হয় সরবরাহকারীকে। বিপিসির পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে তেলের গুণগতমান নিশ্চিতসহ চট্টগ্রামের পতেঙ্গা প্রধান স্থাপনায় পৌঁছানো পর্যন্ত দায়-দায়িত্ব পালন করে। এজন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তেলের নির্ধারিত প্ল্যাটস দরের সঙ্গে প্রিমিয়াম হিসেবে পূর্ব নির্ধারিত অর্থ পায়। তেল খালাসকালে গুণগত মান ঠিক পাওয়া না গেলে সরবরাহকারী নিজ দায়িত্বে ও খরচে ফেরত নিয়ে যান।
ফ্ল্যাট প্রটেকশন অ্যাক্ট-২০১৯ অনুযায়ী আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানির কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বিএসসির মাধ্যমে পরিবহন করার কথা। বিপিসি সিআরএফ পদ্ধতির পরিবর্তে এফওবি পদ্ধতিতে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করলে বিএসসি তথা দেশ লাভবান হতো।-বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (চার্টারিং অ্যান্ড ট্র্যাম্পিং) ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এফওবি (ফ্রি অন বোর্ড) পদ্ধতিতে জ্বালানি পরিবহনের অর্থ হলো- সরবরাহকারী বা বিক্রেতা কেবল তার নিজস্ব বন্দর বা টার্মিনালে জাহাজে পণ্য (জ্বালানি) তুলে দেওয়া পর্যন্ত খরচ ও ঝুঁকি বহন করেন। এরপর বাকি পুরো পরিবহনের দায়িত্ব ও ঝুঁকি ক্রেতার। এতে জ্বালানি পণ্যটি যখন লোডিং পোর্টে জাহাজের রেলিং বা পাইপলাইন পার হয়ে ক্রেতার জাহাজে প্রবেশ করে, ঠিক সেই মুহূর্তেই পণ্যের সব ঝুঁকি ক্রেতার কাছে স্থানান্তরিত হয়। মূলত এফওবি পদ্ধতিতে জাহাজ ভাড়া করা, বিমা করা, গন্তব্য বন্দর পর্যন্ত পরিবহন খরচ ক্রেতাকে বহন করতে হয়।
আর পরিশোধিত জ্বালানি এফওবি পদ্ধতিতে আমদানি করা হলে ফ্ল্যাট প্রটেকশন অ্যাক্ট-২০১৯ অনুসারে জ্বালানি পরিবহনের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ পরিবহনের সুযোগ রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) পেতো। এজন্য এফওবি পদ্ধতিতে আমদানির বিষয়ে ২০১৩ সাল থেকে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে বিএসসি। ওই বছরের ১৬ জুন পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য অনুরোধ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে চিঠি দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
পরের বছর ২০১৪ সালের ২৮ মে একই অনুরোধ করে পুনরায় চিঠি দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে ২০১৭ সালের ২২ মার্চ ওই সময়ে নৌপরিবহন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে সভাও হয়। ওই সভায় উল্লেখ করা হয়, জ্বালানি তেল পরিবহনে দেশি জাহাজ ব্যবহার করা হলে বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। সরকারের জ্বালানি নিরাপত্তা অধিকতর নিশ্চিত হবে।
এফওবি পদ্ধতিতে জাহাজ ভাড়া (প্রিমিয়াম) স্থানীয় মুদ্রায় বিএসসিকে পরিশোধযোগ্য, বিধায় প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তথা আপৎকালীন দেশি জাহাজে জ্বালানি তেল পরিবহন করা রাষ্ট্রীয় বৃহত্তর স্বার্থে অধিকতর নিরাপদ হবে। কার্গো ভাড়া ও জাহাজের বিমা কভারেজ খাতে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা সাধারণ বীমা করপোরেশন প্রচুর অর্থ আয়ের সুযোগ পাবে।
ওই সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (শুল্ক) মো. ফিরোজ শাহ আলম এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আরফিন আরা বেগম বলেন, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি চুক্তি কোন প্রক্রিয়ায় করবে, তা একান্তভাবে আমদানিকারকের ওপর নির্ভর করে। সরকারের আমদানি পলিসি ২০১৫-২০১৮ মোতাবেক এফওবি পদ্ধতিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির এলসি করা হলে সরবরাহকারীর তেল সাপ্লাই না দেওয়ার কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না।
বিপিসি এফওবি এলসির মাধ্যমে তেল আমদানি করলে প্রিমিয়াম বাবদ সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি সরকারি জাহাজের বাণিজ্যিক নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে পণ্য পরিবহনের ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি অপরাপর প্রতিষ্ঠানও লাভবান হবে।
এ নিয়ে ২০২২ সালের ৯ নভেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনলাইন সভায়ও সিআরএফ পদ্ধতির পরিবর্তে এফওবি পদ্ধতিতে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির চ্যালেঞ্জগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হলেও এখনো সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বিপিসি কিংবা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
বিএসসি ও বিপিসি কী বলছে
এ বিষয়ে কথা হলে বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (চার্টারিং অ্যান্ড ট্র্যাম্পিং) ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফ্ল্যাট প্রটেকশন অ্যাক্ট-২০১৯ অনুযায়ী আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানির কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বিএসসির মাধ্যমে পরিবহন করার কথা। বিপিসি সিআরএফ পদ্ধতির পরিবর্তে এফওবি পদ্ধতিতে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করলে বিএসসি তথা দেশ লাভবান হতো।’
এতে দেশি জাহাজে পরিশোধিত জ্বালানি পরিবহনের ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা সুদৃঢ় হতো জানিয়ে বলেন, ‘বিদ্যমান সিআরএফ পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য এক যুগের বেশি সময় ধরে বিএসসি অনুরোধ করে আসছে। এখনো বিষয়টি সুরাহা হচ্ছে না।’
এ বিষয়ে বিপিসির সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। এর মধ্যে এফওবি পদ্ধতিতে আমদানিতে জটিলতা রয়েছে বলে দাবি করেন তারা। সবশেষ বিপিসিতে সদ্য পদায়িত চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি বিপিসিতে নতুন যোগদান করেছি। পুরো বিষয়টি অবগত হওয়ার চেষ্টা করছি। পরিশোধিত জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রেও আশা করছি দেশ লাভবান হয় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’