Image description
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পুনর্বহালের প্রতিবাদ ও অন্য নাম দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
 
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে নয়টায় হল প্রাঙ্গনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানানো হয়।
 
এ সময় ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘‘বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা কেউ অস্বীকার করছে না। কিন্তু বাংলাদেশের জন্মের পরে তার হাতে ৩৯ হাজার জাসদ কর্মী খুন হয়েছে। তার অপশাসনের কারণে ৭৪ এর দুর্ভিক্ষে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে। তার নাম ব্যবহার করে শেখ হাসিনা স্বৈরাচার হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশে শেখ পরিবারের নামে অনেক স্থাপনার নাম পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি না কেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মুজিববাদের পাহারাদার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’
 
 
তিনি বলেন, ‘‘আমরা এই হলের নাম ঠিক করে দিতে চাই না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের শিক্ষকরাই হলের নাম পরিবর্তনে সম্মত হয়েছিলেন। কিন্তু তারা বর্তমানে আওয়ামী পন্থীদের সাথে গোপনে কোন আঁতাত করেছে কিনা আমরা সে প্রশ্ন রাখতে চাই।’’
 
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে দেখেন তারা কী চায়। সে অনুযায়ী আপনারা নাম দিন। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল কেটে কুমির এনেছিলেন। প্রাণ দিয়ে তাকে সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছে। বর্তমানে ফ্যাসিবাদের আইকনকে ছাড় দিলে আপনাদের অতীতের পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। এর ঐতিহাসিক দায় আপনাদেরকেও নিতে হবে।’’
 
শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের জিএস আহমেদ আল সাবাহ বলেন, ‘‘যখন শহিদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের খবর আসে, তখন শিক্ষার্থীদের দাবি ছিলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে ফ্যাসিবাদের কোনো আইকন না রাখা হয়। এজন্য শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছিলো কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি কোনো কর্ণপাত না করে হলের নাম ফিরিয়ে আনতে যাচ্ছে।’’
 
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা বিজয় দিবসে শেখ মুজিবুর রহমান হল সংবলিত ব্যানার নিয়ে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়েছিলাম। তখন পুলিশ এসে আমাদের আরও লীগ মনে করে ব্যানার কেড়ে নেয়। এই নামের কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে।’’
 
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘ওসমান হাদীর নামে হল পছন্দ না হলে আপনারা কোনো বীরশ্রেষ্ঠর নাম দেন। ঢাবিতে বীরশ্রেষ্ঠদের নামে কোনো স্থাপনা নেই। কিংবা আপনারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে হলের নাম দেন। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন না।’’