ভারতের রাজনীতিতে খাবার এখন নতুন এক বিরোধের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সমকালীন ভারতে খাবারকে এখন শুধু মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে আর দেখা হয় না, ক্রমেই এটি বিতর্কিত আদর্শিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে। খাবারের শুদ্ধতা বা বিশুদ্ধতা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা এখন এক ধরনের নতুন মোহে পরিণত হয়েছে। এটি অনেকটা মানুষের অবচেতন মানসিক আসক্তির মতো। ধীরে ধীরে এই প্রবণতা এমন এক কঠোর ধারণায় রূপ নিচ্ছে, যা সমাজে বহুদিন ধরে চলে আসা আকাঙ্ক্ষা, নিষেধ, সামাজিক সীমারেখা ও মানসিক-সাংস্কৃতিক ভারসাম্যকে হুমকির মুখে ফেলছে। এর পাশাপাশি, খাদ্যের বিশুদ্ধতাকেও নৈতিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে। যেন খাদ্যাভ্যাসে বিশুদ্ধতা না থাকলে কোনো সমাজই সত্যিকার অর্থে অহিংস ও নৈতিকভাবে সুশৃঙ্খল হতে পারে না।
পশ্চিমবঙ্গে নিরামিষ ও আমিষ খাবার নিয়ে চলমান বিতর্ক এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ভারতের অসাধারণ খাদ্যবৈচিত্র্য দেশটির বহুত্ববাদী সভ্যতার এক জীবন্ত দলিল। এর অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো, খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের সম্পর্ক। বিশেষ করে হিন্দুধর্মের সঙ্গে নিরামিষভোজের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত আছে। নিরামিষভোজন যেন হিন্দুধর্মের স্বাভাবিক ও চিরায়ত বৈশিষ্ট্য। কিন্তু ইতিহাস বলছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কখনোই একক কোনো খাদ্যসংস্কৃতি ছিল না।
বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, অঞ্চল, ধর্মীয় মতপথ, আচার-অনুষ্ঠান ও স্থানীয় রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে তাদের খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক পার্থক্য ছিল। কেউ কঠোরভাবে নিরামিষভোজী ছিলেন, আবার কেউ মাছ, মাংস বা নির্দিষ্ট কিছু প্রাণীর মাংস খেতেন। তাই নিরামিষভোজনকে শুধু হিন্দুদের সর্বজনীন ধর্মীয় রীতি হিসেবেই নয়, বরং এটি বাঙ্গালি ইতিহাসের একটি অংশ। বাংলার খাদ্যসংস্কৃতি এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
বাংলা, ধর্মবিশ্বাস ও খাদ্যসংস্কৃতি
ঐতিহাসিকভাবে বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতিকে শুধু নিরামিষ ও আমিষ এই দুই ভাগে ভাগ করা যায় না। বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে মাছ গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও দৈনন্দিন জীবনেও নিরামিষ খাবারের আয়জনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। শাক্ত ধর্মীয় ঐতিহ্যে মাংস ও পশুবলিরও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কালী ও দুর্গাপূজার সঙ্গে যুক্ত বলির মাংস গ্রহণ বাংলার দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতির অংশ। এই ঐতিহ্যে মাংস খাওয়াকে হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থি হিসেবে দেখা হয় না। শাক্ত ভাবধারায় একে শক্তিরই একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ‘শক্তি’ বলতে এখানে বোঝানো হয়েছে নারীরূপী দেবত্বের শক্তিকে, যা মহাবিশ্বের সৃষ্টির আদি উৎস হিসেবে বিবেচিত।
বাংলায় বৈষ্ণব ঐতিহ্য ও নিরামিষভোজনের গুরুত্ব
বাংলা হিন্দুধর্মের বিভিন্ন ধারার মধ্যে বৈষ্ণব ঐতিহ্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা। চৈতন্য মহাপ্রভুর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বৈষ্ণব ভক্তি আন্দোলনে ধর্মীয় জীবনের কেন্দ্রে রাখা হয় ভক্তিকে। এই ধারায় অহিংসার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মালদহ ও মুর্শিদাবাদসহ গৌড় অঞ্চলের গৌড়ীয় বৈষ্ণবধারা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার ও প্রথাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো কৃষ্ণের উদ্দেশে নিরামিষ খাবার নিবেদন করা এবং পরে সেই খাবারকে ‘প্রসাদ’ হিসেবে গ্রহণ করা। ফলে বৈষ্ণবদের কাছে নিরামিষভোজন শুধু খাবারের পছন্দ বা সামাজিক মর্যাদার বিষয় নয়, এর সঙ্গে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানী এম এন শ্রীনিবাস যে ‘সংস্কৃতায়ন’-এর কথা বলেছেন, সেখানে নিরামিষভোজনকে শুধু সেই সামাজিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখলেই বিষয়টি পরিপূর্ণভাবে বোঝা যায় না। ধীরে ধীরে এটি বৈষ্ণবদের একটি ধর্মীয় জীবনধারার অংশ হয়ে ওঠে।
উপনিবেশ-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উদ্বেগের মধ্যেও নতুন করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব এই বৈষ্ণব ঐতিহ্যকে আলাদা রূপ দেয়। পরে ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রভুপাদের (অভয় চরণ দে) আন্তর্জাতিক প্রচারণার মাধ্যমে গৌড়ীয় বৈষ্ণবধারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে নিরামিষভোজনও আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
পশ্চিমা সমাজে হিন্দুদের অনেক সময় স্বভাবতই অহিংস, নিরামিষভোজী ও আধ্যাত্মিক জাতি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ফলে বৈষ্ণবধারার আন্তর্জাতিক বিস্তারের সঙ্গে নিরামিষভোজনের এই ধারণাও নতুন করে যুক্ত হয়। তবে নিরামিষভোজনকে ধর্মীয় শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ইসকন একমাত্র উদাহরণ নয়। স্বামীনারায়ণসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক হিন্দু ধর্মীয় আন্দোলনও নিরামিষভোজনকে ধর্মীয় অনুশাসন, নৈতিক আচরণ এবং নিজেদের গোষ্ঠীগত পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। এভাবে ‘হিন্দু নিরামিষভোজন’ শুধু খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তা পবিত্রতা, আত্মসংযম, ভক্তি এবং ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য জীবনযাপনের ধারণার সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বিস্তৃত সাংস্কৃতিক অর্থ লাভ করেছে।
বাংলায় খাদ্যাভ্যাসের ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহ্য
গৌড়ীয় বৈষ্ণববাদের বিকাশের ইতিহাস বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলার খাদ্যাভ্যাসের ঐতিহ্য বেশ পুরনো। এর সঙ্গে ব্রাহ্মণ্য সামাজিক মর্যাদার ধারণা, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জাতীয়তাবাদী ভাবনার সম্পর্ক রয়েছে। এর একটি ভিন্ন দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় বঙ্গীয় নবজাগরণে। ব্রাহ্মসমাজ ও এর প্রধান ব্যক্তিরা হিন্দুধর্মের প্রচলিত আচার ও রক্ষণশীলতার সমালোচনা করেছিলেন। তবে তাঁরা নিরামিষভোজনকে হিন্দু সংস্কারের মূল বিষয় হিসেবে দেখেননি।
রাজা রামমোহন রায়, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কেশবচন্দ্র সেন ছিলেন সেই সংস্কারপন্থী বুদ্ধিবৃত্তিক ধারার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। ধর্মীয় কর্তৃত্ব, জাতপাত, নারীর মর্যাদা ও সামাজিক নানা প্রথা নিয়ে তাঁরা প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। কিন্তু ধর্মীয় বা সামাজিক আধুনিকতার প্রধান মাপকাঠি হিসেবে তাঁরা খাদ্যসংযম বা নিরামিষভোজনকে প্রতিষ্ঠা করেননি। এই বৃহত্তর সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে বাঙালির চেতনা ও খাদ্যসংস্কৃতিতে মাছ এতটাই গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে ওঠে যে, মাছ খাওয়ার সংস্কৃতি শুধু ‘ভদ্রলোক শ্রেণি’র মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি সমাজের বৃহত্তর বাঙালি জনগোষ্ঠীর সঙ্গেও এক অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধন তৈরি করে।
খাবার শুধু খাবার নয়, বাঙালি পরিচয়েরও অংশ
বঙ্গের বিপ্লবী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ইতিহাসেও দেখা যায়, হিন্দু পরিচয়কে শুধু নিরামিষভোজনের সঙ্গে মিলিয়েই দেখা হয় না। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’, ‘অনুশীলন তত্ত্ব’ এবং চণ্ডী ও ভবানীর মতো শক্তি-উপাসনার ঐতিহ্য ও অনুশীলন সমিতির রাজনীতিতে হিন্দু ধর্মীয় ভাবধারার বেশ প্রভাব ছিল। এর মাধ্যমে বিপ্লবীরা ভক্তি ও দেশপ্রেমের চেতনা জোরদার করার চেষ্টা করেন। তবে তরুণ বিপ্লবীদের মধ্যে আধ্যাত্মিক অনুশাসন, শারীরিক শক্তি ও খাদ্যাভ্যাসকে একসঙ্গে দেখা হলেও, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নিরামিষভোজনকে বাধ্যতামূলক আদর্শ হিসেবে দেখা হয়নি। অর্থাৎ তৎকালীন বাংলায় হিন্দু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যাভ্যাসের সহাবস্থান ছিল।
বিভক্তির আগের বাংলার হিন্দু রাজনীতিতেও এই খাদ্য বৈচিত্র্যের প্রভাব দেখা যায়। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নেতৃত্বাধীন হিন্দু মহাসভা বাংলার বহুত্ববাদী সমাজে হিন্দু পরিচয়কে রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরেছিল। ১৯৩৯ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হিন্দু মহাসভার সর্বভারতীয় অধিবেশনে নিরামিষ ও আমিষ দুই ধরনের খাবারের জন্যই আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এতে বোঝা যায়, তৎকালীন বাংলার ‘ভদ্রলোক’ সংস্কৃতি, হিন্দু ধর্মীয় চর্চা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেও খাদ্যাভ্যাসে যথেষ্ট বৈচিত্র্য ছিল।
সাহিত্যে বাঙালির মাছ-ভাতের সংস্কৃতি
খাদ্যাভ্যাসের এই বৈচিত্র্য বাংলা সাহিত্যেও গভীরভাবে রয়েছে। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে সন্ন্যাসী জীবনানন্দকে দুধ ও মসলা দিয়ে রান্না করা মাছ খেতে দেওয়ার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’ ও ‘চোখের বালি’, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শ্রীকান্ত’ এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’তেও খাবার বাঙালির পারিবারিক ও গ্রামীণ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে। উনিশ শতকের কবি ঈশ্বর গুপ্তের একটি বিখ্যাত পঙ্ক্তিতেও বাঙালির মাছ-ভাতের সংস্কৃতির কথা উঠে আসে ‘বাঙালি মাত্রই ভাত-মাছ খায়, দেশে ধান প্রচুর, তাই পানিতেও মাছ প্রচুর।’
বাঙালির দৈনন্দিন জীবন, সামাজিক রীতি ও সংস্কৃতিতে মাছ খাওয়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের। এসব সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা থেকে বলা যায়, বাঙালি হিন্দু পরিচয় ঐতিহাসিকভাবে শুধু নিরামিষভোজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। মাছসহ নানা ধরনের খাবারের উপস্থিতি বাংলার বহুত্ববাদী ও মিশ্র সংস্কৃতির সঙ্গেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিল। অন্যভাবে বললে, বাংলার খাবার ও সংস্কৃতির এই বৈচিত্র্যকে শুধু ‘নিরামিষ’ ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ করার বর্তমান যে চেষ্টা,তা শুধু অতীতকে ভুলভাবে বোঝার বিষয় নয়, এটি বর্তমান রাজনীতিরও একটি অংশ হয়ে উঠেছে। সাংস্কৃতিক তাত্ত্বিক আশিস নন্দীর মতে, এই প্রবণতায় নানা ধরনের পার্থক্য ও বৈচিত্র্যকে বাদ দিয়ে সবকিছুকে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলার চেষ্টা করা হয়।
বাংলার হিন্দুধর্ম কখনোই একক কোনো খাদ্যসংস্কৃতির ওপর গড়ে ওঠেনি। এর ইতিহাস মাংস খাওয়া থেকে নিরামিষভোজী হয়ে ওঠা, অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতার দিকে যাওয়া কিংবা ঐতিহ্য থেকে আধুনিকতার দিকে সরল কোনো যাত্রা নয়। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ধারা, পরস্পরের সঙ্গে মিশে থাকা নানা পরিচয় এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত সামাজিক অর্থের মধ্য দিয়ে বাংলার হিন্দু সমাজের খাদ্যসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। তাই বাংলায় নিরামিষভোজন নিয়ে বর্তমান বিতর্ক শুধু খাবারকে ঘিরে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার বৈচিত্র্যময় হিন্দু অতীতের কোন অংশকে মনে রাখা হবে, কোনটিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং কোনটিকে ‘প্রকৃত’ বা ‘আসল’ ঐতিহ্য হিসেবে তুলে ধরা হবে সেই প্রশ্নেও।
একজন কবি হিসেবে আমি প্রায়ই এই খাবারের বৈচিত্র্য ও মেলবন্ধন দেখতে পাই। শুধু বাংলার সাহিত্য উৎসবগুলোতেই নয়, কলকাতার রাস্তায় এই বৈচিত্র্য আরও স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। এখানে নিরামিষ ও আমিষ খাবারের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। আলু পোস্ত, মোচার ঘন্ট, শুকতো ও লুচির পাশাপাশি পাওয়া যায় ভেটকি পাতুরি, মাছের ঝোল, কাটি রোল, কষা মাংস ও মাটন বিরিয়ানি। এর সঙ্গে আরও আছে ইডলি, দোসা, মোমো ও চাউমিন। এসব খাবারের সঙ্গে আবার মিশে গেছে অরুণাচলের খোলাম এবং আসামের খার। কাঁচা পেঁপে ও ঝাল ভুত জলোকিয়ার চাটনিও কলকাতার খাবারের বৈচিত্র্যে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
কলকাতায় খাবারের ক্ষেত্রে কোনো সীমারেখা নেই। মহাপ্রভু চৈতন্যের ভজন গাওয়ার সময় হোক কিংবা সিঁদুর খেলার উৎসব যে যার পছন্দের খাবার উপভোগ করতে পারেন। এখানে বৈচিত্র্য কোন পরিবর্তন নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাপনেরই অংশ। শহরটি যেন মা অন্নপূর্ণার আরাধনা করে যিনি প্রত্যেক মানুষকে তাঁর নিজের পছন্দ ও জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী খাবার দেন।
- অশ্বিনী কুমার: কবি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং নয়াদিল্লির সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের (সিপিআর) জ্যেষ্ঠ ভিজিটিং ফেলো।
*মতামত লেখকের নিজস্ব
(দ্যা প্রিন্ট থেকে অনুবাদ করেছেন কাজী নিশাত তাবাসসুম)