Image description
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বর্তমান সেটাপে আপনার পক্ষে সফল হওয়া কঠিন। সরকারের কোর্স ওফ একশনে বড় ধরনের কারেকশন আনতে হবে।
 
আপনার উপদেষ্টা প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভার অন্তত ৮৫-৯০ শতাংশ ব্যক্তিকে এমন হতে হবে যারা (পরিবার সহ) কোন ধরনের ব্যবসা করেন না, তদবির করেন না, ঘুষ খান না, যারা প্রভাব বিস্তার করেন না, যারা চাঁদাবাজি দখলবাজি নিয়োগবাজি টেন্ডারবাজি, অর্থাৎ কোন ধরনের ক্ষমতা চর্চা করেন না। অর্থাৎ মেরিটোক্রেটি ম্যানেজমেন্ট করেন। এমন লোক যাঁদের ফোকাস শুধু বেটার পলিসি ও ইফিশিয়েন্ট ম্যানেজমেন্ট। অর্থাৎ জাতীয় সম্পদের দক্ষ ব্যবস্থাপনা, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়, ওভারহেড কমানো, কস্ট ইফিসিয়েন্সি আনা। শুধুমাত্র দেশের অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ ও দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দরকারি প্রজেক্ট করা। এবং যাঁদের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কম বাজেটে বেশি কাজ করা।
 
আল্লাহর ওয়াস্তে, যেসব মন্ত্রীরা নিজেরা ব্যবসা চায়, লাইসেন্স চায়, চাঁদা খায়, তদবির করে তাদের বাদ দেন প্লিজ। এসব গার্বেজ দিয়ে নিজের ও দেশের আমীত সম্ভবনা নষ্ট কইরেন না। ক্ষমতার অপচর্চা থেকে সরকারকে বাঁচান। আপনি ৫-১০% ক্ষমতাপ্রাপ্ত লোকের আকাম সামাল দিতে পারবেন, ৮০-৯০% উপদেষ্টা মন্ত্রী সহকারীর আকাম টেকেল দিতে পারবেন না। এরা যখন তদবিরে নামে, তখন আপনি কিছুই ঠিকঠাক ডেলিভার করতে পারবেন না। ইতিমধ্যেই গ্রেড-৬ বা তারও নিচের যাদের নিয়োগ দেয়ার কথা তাদের গ্রেড ১ ও ২ এ সচিব ও সহকারী পদে নিয়োগ দিয়ে অভিজ্ঞতাহীন কিছু অদক্ষ অথর্বকে এম্পাওয়ার করেছেন, যাদের দৈনিক কাজ তদবির ও প্রভাব খাটানো। এভাবে প্রশাসনকে যে মাথাভারী করেছেন, এসব ওভারহেড সরাতে শুরু করেন। সিরিয়াসলি বলছি এরা আপানার পথের বাঁধা।
 
আমি অনুমান করি আপনার নূন্যতম এক ডজন সহকারী প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রীর বিষয়ে আপনার কাছে অভিযোগের পাহাড় জমেছে এবং আপনি তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন।
 
এতে সমস্যা হচ্ছে, আপনি আরও বেশি আমলা নির্ভর হয়ে যাবেন। এবং আমাদের আমলাদের মন্ত্রণালয় ভিত্তিক কোনো মিশন ভিশন নাই, ডোমেইন নলেজ নাই, সাবজেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট পুল নাই। এবং অতিরিক্ত বদলি ও দলীয়করনের ফলে নেই কোন ইন্সটিটিউশনাল নলেজ, অতীতের পলিসি সামারি। উপরন্তু সম্প্রতি যারা অতরিক্ত সচিব ও সচিব হয়েছেন আওয়ামী আমলে প্রমোশন না পাওয়ায় তাদের উপরের পদে কাজ করার, বড় চ্যালেঞ্জ নেয়ার, পলিসি ইন্টারভেনশন করার, রিফর্ম করার, বড় পলিসি ডিসিশন নেয়ার, বড় কাজ বা প্রজেক্ট দক্ষতার সাথে করতে পারার কোন দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা নেই। ফলে এদের উপর নির্ভরতার এই ভুল মডেলে আপনি সফল হবেন না।
একটা কথা আছে, ব্যাংক চোরকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দিলে সে শুধু ব্যাংক খায় না, দেশ খায়। মুজিব আমলের শেখ কামাল ও হাসিনা আমলের দরবেশ এসব প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশেই। আজকে আপনি যদি নির্মোহ লোকেদের হাতে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব না দিতে পারেন, এবং ব্যাংক দখল, ব্যবসা দখল, ব্যাংক ঋণ দখল করা কিংবা চাঁদাবাজি দখলবাজি টেন্ডারবাজি নিয়োগবাজির গুরুদের হাতেই দায়িত্ব রাখেন, তারা দেশ খাবে এবং আপনি অবধারিতভাবে ব্যর্থ হবেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এক মন্ত্রণালয়ে আপনি ৩ জনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের ৩ জনের মধ্যে নীতি, ক্ষমতা, তদবির ও কাজ দেওয়ার ব্যাপারে কনফ্লিক্ট হচ্ছে। খাওয়া খাওয়ি ও ভাগাভাগি নিয়েও মতদ্বন্দ্ব হচ্ছে। এমতাবস্থায় সচিব ভালো হলে এই ৩ জনের দ্বন্দে পড়ে কাজ থেকে পলায়নপর হচ্ছেন, কেউ কেউ মন্ত্রণালয়ই ছাড়ছেন। এরকম প্রমাণ আছে, আপনি জানেন। অন্যদিকে সচিব নিজেই ঘুষখোর হলে, এই তিনজনকেই নাকে রশি দিয়ে ঘুরাচ্ছে। অর্থাৎ অনভিজ্ঞ মন্ত্রী ও নির্বাহী ক্ষমতার ওভারহেড- আপনার সরকারকে আমলাতান্ত্রিক জটিল পাঁকে নিদারুণভাবে বেঁধে রেখেছে। ফলে এই মডেল কাজ করবে না।
 
এখান থেকে বেরুনোর পথ এখনই খুঁজুন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত সচিবালয়ে গিয়ে আটকে থাকছে, পলিসি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সচিবের চতুর্মূখী ধান্ধা পুরা সরকার ব্যবস্থাকে স্লো করে দিয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সরকারের রাজস্বের ফুয়েলের বিপরীতে খরচের চাকা অনেক বড় ও ভারী। পরিচালনা ব্যয় দ্রুত কমান, নাইলে তারা খেতে খেতে আপনার সরকারকে খেয়ে দিবে। আপনার দরকার আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় করে প্রজেক্ট সংখ্যা কমিয়ে ফেলা, আমলাতন্ত্রের খরচ কমানো।
 
বাস্তবায়নরত, প্ল্যানিং কমিশনের মূল্যায়ন প্রসেসে এবং মন্ত্রণালয় গুলোতে যদি ২০০০+ প্রজেক্ট অর্থাৎ রানিং এবং পাইপ্লাইন মিলে, সেগুলাকে ১০০০ এ নামিয়ে আনুন। অর্থাৎ সব বাজে প্রজেক্ট, বছরের পর বছর অগ্রগতি না থাকা বা ৩০-৩৫% এর নিচের অগ্রগতির অধিকাংশ প্রজেক্ট বন্ধ করে দিন। অর্থ সেইভ করুন। আপনার হাতে অর্থ নাই। মনে রাখবেন, বছর শেষে বাজেট ঘাটতি হবে ৩৫% এর বেশি। আপনার হাতে টাকার নতুন সোর্স নাই, এদিকে গ্যাস বিদ্যুৎ ও সারের সমস্যা প্রকট, কিনতে বাড়তি টাকার জোগান লাগবে। তাই সব পপুলিস্ট অপখরচের জনতুষ্টিবাদী এজেন্ডা বাদ দিন।
 
শুধু কৌশলগতভাবে দরকারি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রজেক্ট করেন, বিপরীতে পলিসি ইন্টারভেনশন করেন। বিদ্যমান রিসোর্স ব্যবহারে দক্ষতা দেখিয়ে বিদ্যমান জনবল , অর্থ, অপারেশন ও রিসোর্স এ ফোকাস করেন। অদক্ষ সিস্টেমে বেশুমার অর্থ ঢেলে ফল পাবেন না। এই সংকটের কালে নতুন নতুন বিল্ডিং বানানোর প্রজেক্টে ঢুইকেন না। আপনার মন্ত্রীরা যার নতুন নতুন প্রজেক্ট করে ধান্ধা করছে, সেগুলা বন্ধ করেন। নাইলে আপনি সফল হইতে পারবেন না।
 
পে-স্কেল আপাতত বন্ধ করুন। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে এটা শুরু করা ভুল ছিল। মূল্যস্ফীতি ৫% এ নামানোর পরে এটা করা দরকার ছিল। যারা বুদ্ধি দিয়েছে ভুল বুদ্ধি দিয়েছে। বন্ধ করতে না পারলে এটাকে বছরে মূল বেতনের ৯-১০% হারে বাড়ানোর পথে যান, অর্থাৎ ২ বছরের বদলে ৫ বছরে স্প্রেড করে দেন, তাও বছরে মূল্যস্ফীতির হারের বাইরে সরকারি বেতন বাড়াইয়েন না। পারলে বেসরকারি মজুরি ১০% বাড়ানোর চেষ্টা করেন, এতে প্রডাক্টিভিটি বাড়বে।
জ্বালানির সমস্যা সমাধানে আগামী ২ বছরে শতভাগ সফল হবেন না। আপনাকে জ্বালানির জন্য বছরে ১৮-২০ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হতে পারে, অর্থাৎ বাড়তি প্রায় ৮-১০ বিলিয়ন ডলার চলে যাবে। এজন্য অন্য সব বাজে খরচ থামিয়ে 'ফিস্ক্যাল স্পেইস' তৈরি করুন। এলসি কোয়ালিটি নিয়ন্ত্রণ করুন, তবে দরকারি ক্যাপিটাল মেশিনারি ও র-ম্যাটেরিয়াল আমদানি বন্ধ কইরেন না।
সোলার এর সাপ্লাই চেইনে নজরদারি করুন, এবং প্রাইস কন্ট্রোল নিন, যাতে শুল্ক সুবিধার বাস্তবায়ন হয়, বাজারে দাম কমে এবং যে কোন মাঝারি ও বড় ছাদ ফাঁকা না থাকে। ক্যারট ও স্টিক পদ্ধতি এপ্লাই করেন। ইনসেন্টিভ ও পেনাল্টি একসাথে দেন।
 
রুগ্ন শিল্পে যাদের প্রোডাক্ট কম্পিটিভনেস নাই তাতে টাকা ঢাইলেন না। শিল্পপতিদের শর্ত সাপেক্ষে প্রণোদনা দেন, তবে তাদের হাতে হাসিনার মত নগদ টাকা দিয়েন না, তাদের যৌক্তিক খরচের বিল পরিশোধ করে দেন। কাঁচা টাকা দিলে তারা পাচার করবে। আপনি লোন দিয়েন না, কস্ট ইনসেন্টিভ দেন। ক্যাপিটাল মেশিনারি ও র-ম্যাটেরিয়াল এর এলসি'র টাকা দেন। কাউকে বেতন পরিশোধের টাকা দিয়েন না, প্লিজ।
ফ্যামিলি কার্ড বাদে সবধরনের কার্ড প্রজেক্ট বন্ধ করুন। বিদ্যমান সোশ্যাল সেইফটি নেটের ১৪০টা প্রজেক্ট অপ্টিমাইজ করে, বাজে ও ভুল হাতে যাওয়া ভাতা বন্ধ করে, টাকা সেইভ করে পরে ফ্যামিলি কার্ড দিন, যেহেতু এটা পলিটিক্যাল মেনিফেস্টর অংশ। বাদবাকি সব কার্ড প্রজেক্ট বন্ধ করুন।
 
ইউনিভার্সাল কার্ড নামে প্লাস্টিক কার্ড, ফারমার কার্ড, শিক্ষা কার্ড এগুলা বেদরকারি। আপনার দরকার ইউনিভার্সাল লগিন এর ওয়ান আইডি, সিং পাসের মতো একক ভার্চুয়াল আইডি দিয়ে সব মন্ত্রণালয়ের সব সেবায়, সব সরকারি বেসরকারি জায়গায় লগিন ও আইডি অথেন্টিকেশন করা যাবে, এটা সফট আইডি, এর জন্য হার্ড প্লাস্টিক কার্ড থাকার জরুরত নাই। আমাদের দরকার ন্যাশনাল ইন্টার-অপারেবিলিটি, কানেক্টিভিটি হাইওয়ে এবং ডেটা গভর্নেন্স। মন্দার কালে যারা ১২৫-১৩০ টাকার প্লাস্টিক কার্ড ৩৬০ টাকা বিক্রির ধান্ধা করসে, তাদের ধান্ধা বন্ধ করে দেন। ভাতা দেওয়ার জন্য দরকার ডেটাবেজ, কার্ড দরকার নাই। ডেটাবেজ করতে ২০০০ কোটি খরচ না করে, বিবিএস ও এনআইডি ডেটা দিয়ে ফ্যামিলি ট্রি বানিয়ে, ইউটিলিটি বিল, মোবাইল টপ-আপ, মোবাইল ব্যাংকিং, মজুরি সার্ভে, খানা জরিপ থেকে গরীব মানুষের সাশ্রয়ী ডেটাবেজ বানান। বিদ্যমান ভাতার ডুপ্লিকেশন থামান।
যত কার্ড তত দুর্নীতি।
 
বিমান ২৫ টা বোয়িং কেনার সমর্থ রাখে না, বিমানকে প্রাইভেটাইজ করে দিন।
 
ভালো শিক্ষক, মানসম্পন্ন শিক্ষা, কর্ম দক্ষতা তৈরি, স্বাস্থ্যে ও দেশে ও প্রবাসে সস্তায় কর্মসংস্থান তৈরিতে দৃশ্যমান কিছু ডেলিভারি করেন, দ্রুত। প্লিজ। শিক্ষায় বিল্ডিং করায় মনোযোগ না দিয়ে কোয়ালিটি এডুকেশন, টিচার্স ট্রেনিং এবং ভালো স্বাস্থ্য সেবা আনার জন্য কিছু করুন। আপনার মন্ত্রী যদি টয়লেট পরিষ্কার করতে যায় বুঝে নিয়েন, মাঝের ১৮ লেয়ারের লোকেরা তাদের কাজ করছে না।
 
মন্ত্রীরা কোন সপ্তাহে কোন কাজ ডেলিভারি দিবে তার, কোয়ার্টার ভিত্তিক এক্টিভিটি ক্যালেন্ডার বানাতে বলুন। মন্ত্রীদের ওয়ার্ক-আওয়ারে মিটিং মিছিল এ যেতে মানা করুন। গ্যান্ট চার্টে প্রমিজের বিপরীতে কাজ ডিলিভারি করতে বলুন।
সবশেষে চাঁদাবাজি। এটা সরকার ও সরকারি দলের কোনও কাজে আসে না। বরং সরকারকে ডুবানোর মেশিন। আপনি দলকে হার্ড পাওয়ার নির্ভর করে রাখলে, সব সন্ত্রাসের সক্ষমতা আপনার দলের হাতে আসবে। সব সন্ত্রাসের জন্য আপনার কর্মীরা ভাড়া খাটবে। সব অপরাধের দায় আপনার হবে। আজকে লীগের কর্মীরা দলে ঢুকে গেছে। আপনার নেতা এমপি মন্ত্রীরা তাঁদের চাঁদা তুলতে ও দখল্বাজিতে ব্যবহার করছে। চাঁদাবাজির কর্মী কিংবা মিছিলের লাঠিয়াল মানে মানসম্পন্ন কর্মসংস্থানের অভাব। আপনি বিএনপিকে লাঠিয়াল বাহিনীর ঠিকানা কইরেন না। এতে হাসিনা ও আওয়ামীলীগের মতই ধ্বংস হবে শহীদ জিয়ার বিএনপি।