রাজধানীর ইসিবি চত্বরের পার্শবর্তী মানিকদী এলাকা। যতদূর চোখ যায় নির্মাণাধীন ভবন ও আবাসন প্রকল্পের সাইনবোর্ড। কিন্তু এক একটি সাইনবোর্ডের পেছনে লুকিয়ে আছে জমি দখল, হয়রানি ও পেশি শক্তি দেখানোর কারবার।
ঠিক এই সূত্রগুলো ধরেই শনিবার রাতে ঘটে যায় নারকীয় ঘটনা। গুলি করতে করতে নিউগিনি প্রোপার্টিজে ঢোকে হামলাকারীরা। যেখানে ছিল সেলেব্রেটি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও। সেটিসহ তছনছ ও লুটপাট করে ওই ভবনে থাকা সবকিছু।
এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে নামে স্টার নিউজ। জানা যায়, নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনায় দুটি পক্ষ। ভুক্তভোগী পক্ষ নাজিম উদ্দিন ভুইয়া এবং হামলাকারী পক্ষের মূলে মতিউর রহমান এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোলাম মহিউদ্দিন। দুটি চক্রই দীর্ঘদিন ধরে আবাসন ব্যবসার নামে এলাকায় গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ গ্রাহকের কাছে তারা প্লট বিক্রি করে। কিন্তু পরে সেই গ্রাহককে তারা আর ভবন নির্মাণের জন্য রাস্তা দেয় না। উপায় না দেখে সেই গ্রাহকই নামমাত্র দামে তাদের কাছে জমি দিয়ে চলে যায়। আবার, স্থানীয় কারো জমি থাকলে চারদিক দিয়ে বেড়া বা দেয়াল তুলে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করে তারা। এসব অপকর্মে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ নিউগিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিন ভূইয়ার বিরুদ্ধে।
এরই রেশ ধরে নাজিম উদ্দিনের আবাসন প্রকল্পের পাশের বেশ কয়েকটি পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে শায়েস্তা করতে শনিবারের হামলা চালায়।
প্রভাবশালী সেই নাজিম উদ্দীনের ব্যাক্তিগত অফিসে স্টার নিউজ। গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। একজন বেরিয়ে তার পিএস পরিচয় দেন। নাজিমউদ্দিনের অফিস রুমে যেতেও বাধা দেন তিনি।
এদিকে হামলার ঘটনায় মামলার পর এলাকাছাড়া অভিযুক্ত সবাই। তবে, মামলার প্রধান আসামি শাহরিয়ার মাহমুদসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ বলছে, বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে।
ডিএমপিডিসি (মিডিয়া) আকতার হোসেনবলেন, নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলার যে ঘটনাটি ঘটেছে, এ ঘটনাতে মামলা হয়েছে। এ ধরনের দখলকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে প্রতিটি ঘটনায় ডিএমপি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
এদিকে হামলার দুদিন পর সরেজমিন দেখা যায় ভাঙচুর হওয়া ওসব ভবন থেকে নির্মাণশ্রমিকরা চলে গেছেন। আশপাশের ভবনের কাজও বন্ধ। আর যারাও বা কাজ করছেন সবাই আছেন আতঙ্কে।