ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি খোদ বিএনপি সাপোর্টাররাও এখন বর্তমান বিএনপি সরকারের উপর ক্ষুব্ধ। এইটা বেড়ে এমন হতে পারে সরকারের উপর সব মিলিয়ে দেশের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ মানুষের অনাস্থা তৈরি হতে পারে যারা সরাসরি রাস্তায় নামতে পারে।’
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত দুই দিনে যেইসব খবর দেখলাম তাতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় সরকার দেশ ভালো চালাচ্ছে না। মিরপুরের ৫০ বছরের পুরোনো শিশু স্বাস্থ্য গুড়িয়ে দেওয়া, মোহাম্মদপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর-লুটপাট যা সিসিটিভি ক্যামেরাতে ধরা পড়ল, দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি বদল কেন্দ্রিক শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ, বিভিন্ন জায়গায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, খাদ্য ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে মানুষ ভালো নেই।
সরকারকে সতর্ক করে অধ্যাপক মামুন বলেন, সরকারকে মনে রাখতে হবে যে এই দেশের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগ সাপোর্ট করে। দেশে যেইভাবে আইন শৃঙ্খলার অবনতি, জমি দখল, ছিনতাই আর চাঁদাবাজি চলছে আর সাথে বেকারত্ব বাড়ছে তাতে যদি আরও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ এইসব কারণে অসন্তুষ্ট হয় অবস্থাটা কল্পনা করুন। আমি দেখতে পাচ্ছি খোদ বিএনপি সাপোর্টাররাও এখন বর্তমান বিএনপি সরকারের উপর ক্ষুব্ধ। এইটা বেড়ে এমন হতে পারে সরকারের উপর সব মিলিয়ে দেশের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ মানুষের অনাস্থা তৈরি হতে পারে যারা সরাসরি রাস্তায় নামতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের আরও মনে রাখা উচিত যে বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগের নীরব সমর্থক আছে। এই বিপুল সংখ্যক সাপোর্টারদের একটা বড় অংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করতে পারছে না, চাকুরি করতে পারছে না বা চাকুরি পাচ্ছে পাচ্ছে না, রাস্তাঘাটে হেনস্তার শিকার হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ করা ব্যতীত অন্য কোন অভিযোগ নেই। নির্বাচনে এদের একটি বড় অংশ এইবার বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। তারা ভোট দিয়েছ জামায়াতকে ক্ষমতার বাহিরে রাখতে। বিএনপিকে ভোট না দিলেও এই সরকার দেশের সকলের সরকার। শুধু বিএনপি যারা করে তাদের সরকার না। আওয়ামী লীগের নীরব সমর্থক বা দল করতো কিন্তু কোন অন্যায় তেমন করেনি তাদের উপর নিপীড়ন চলছে। আর সঙ্গত কারণেই তারা এই সরকারের বিপক্ষে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জমি দখল, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দলীয়করণ ও বেকারত্ব নিয়ে মানুষের ক্ষোভও বাড়ছে। বিএনপির সমর্থকদের মধ্যেও সরকারের প্রতি অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। এই অসন্তোষ যদি আরও ছড়ায়, তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের মধ্যে সরকারের ওপর ব্যাপক অনাস্থা তৈরি হতে পারে। ফলে এরা কোন এক সময় রাজপথে নেমে আসতে পারে। যদি পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে—তা ভেবে দেখা জরুরি।
এই অধ্যাপক বলেন, সরকারের উচিত মানুষের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শোনা, আইনশৃঙ্খলা ও কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলা করা, এবং রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ায়—এমন পদক্ষেপ এড়ানো। মনে রাখতে হবে আপনারা কিন্তু দেশের সকল মানুষের সরকার। যারা আওয়ামী লীগের সমর্থক তাদের মধ্যে বিরাট একটি অংশ নীরব সমর্থক। তাদেরকে এই হয়রানি না করলে নয়? সকলকে সাথে নিয়েই কিন্তু দেশ আগায়। ৩০% মানুষকে তো আপনারা দেশের বাহিরে পাঠিয়ে দিতে পারেন না। এরা এই দেশের নাগরিক এবং এই দেশেই থাকবে। এখন আপনারা যা করছেন দলের জন্য খারাপ আর স্বার্থপর অংশের সাপোর্ট পেয়ে ভাবছেন সব ঠিক আছে। কোন কিছুই ঠিক নাই।
সরকারকে সবকিছু দলীয়করণ না করার আহ্বান জানিয়ে পোস্টের শেষাংশে মানুষ কিন্তু এখন আন্দোলন করা শিখে গেছে। তাই সরকারকে বলছি সংযত হয়ে দেশ চালান। শুধু দল দল করবেন না। সব কিছুকে দলীয়করণ করবেন না। সব কিছুকে দলীয় লেন্সে দেখবেন না। আমি সরকারের সর্বত্র অযোগ্যদের বেশি বেশি আস্কারা পেতে দেখতে পাচ্ছি। যা এই সরকারের পতনের কারণ হবে। এই কথাটা লিখে রাখেন। নিজেদের কফিনে নিজেরাই পেরেক মারবেন না। মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে যা করেছেন এর ফল কিন্তু ভোগ করতে হবে যদি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার না করেন।