চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। একই পদের জন্য আবেদন করছেন অনেক যোগ্য প্রার্থী। ফলে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই এখন চাকরির বাজারে আলাদা করে নজরে আসা কঠিন। তাই কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে আপডেট রাখার ওপর এখন গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেক চাকরিপ্রার্থী। ক্যারিয়ারে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে থাকতে কোন দক্ষতাগুলো কাজে আসতে পারে, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
ডিজিটাল দক্ষতা: এখন প্রায় সব ধরনের পেশাতেই বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার। তাই মূল পেশার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কিছু ডিজিটাল দক্ষতা থাকলে কর্মক্ষেত্রে তা কাজে আসতে পারে। বেসিক কোডিং, ডেটা অ্যানালাইসিস, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (এসইও) এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবস্থাপনার মতো দক্ষতা অনেক পেশাতেই ব্যবহার করা যায়। তবে সব দক্ষতা একসঙ্গে শেখার প্রয়োজন নেই। নিজের পেশা ও কাঙ্ক্ষিত চাকরির ধরন অনুযায়ী কোন প্রযুক্তিগত দক্ষতাগুলো বেশি প্রয়োজন, সেটি আগে ঠিক করে নিন।
যোগাযোগ ও ভাষাগত দক্ষতা: কর্মক্ষেত্রে নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ভালো যোগাযোগের পাশাপাশি লেখালেখি, উপস্থাপনা এবং আলোচনার দক্ষতাও প্রয়োজন। পেশার ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত কোনো বিদেশি ভাষা শেখাও কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি গ্রাহকদের সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে ম্যান্ডারিন, জার্মান কিংবা আরবি ভাষার জ্ঞান বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে কোন ভাষা শেখা বেশি উপযোগী হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পেশা ও চাকরির বাজারের চাহিদার ওপর।
নেতৃত্ব ও দলগত কাজ: কর্মক্ষেত্রে শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করাই যথেষ্ট নয়। অনেক ক্ষেত্রেই অন্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হয়। একটি দলকে পরিচালনা করা, কাজ ভাগ করে দেওয়া, সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করা এবং প্রয়োজনের সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই একজন কর্মীর এসব দক্ষতা থাকলে ভবিষ্যতে বড় দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত জ্ঞান: আর্থিক বিষয়ে পড়াশোনা না থাকলেও কর্মক্ষেত্রে কিছু মৌলিক ধারণা থাকা উপকারী। যেমন- বাজেট তৈরি, বেসিক অ্যাকাউন্টিং এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা থাকলে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে সুবিধা হয়। বিশেষ করে যারা ভবিষ্যতে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে যেতে চান, তাদের জন্য এসব বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বহুমুখী দক্ষতা: একজন চাকরিপ্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি অতিরিক্ত দক্ষতা থাকলে সেটি তার সিভিকে আরও তথ্যবহুল করে তুলতে পারে। যেমন- থ্রিডি মডেলিং, ভিডিও এডিটিং, ডেটা সায়েন্স বা সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও বাস্তব প্রজেক্টের অভিজ্ঞতা থাকলে তা নিয়োগের সময় প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে কোনো দক্ষতার গুরুত্ব নির্ভর করে চাকরির পদ, প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের চাহিদার ওপর।
চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সুবিধা: একাধিক কাজে দক্ষ হলে একজন কর্মীর কাজের পরিধি বাড়তে পারে। ফলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নতুন দায়িত্ব নেওয়া কিংবা ভবিষ্যতে চাকরি পরিবর্তনের সময়ও এসব দক্ষতা কাজে লাগানো সম্ভব। বিশেষ করে প্রযুক্তি, যোগাযোগ, নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনার মতো দক্ষতা একাধিক ধরনের কাজে ব্যবহার করা যায়।
ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগ: অতিরিক্ত দক্ষতার সঙ্গে যদি বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়, তাহলে কর্মক্ষেত্রে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু অনেকগুলো কোর্স করাই যথেষ্ট নয়। শেখা বিষয়গুলো বাস্তব কাজে প্রয়োগ করা এবং নিজের কাজের মাধ্যমে তার প্রমাণ দেখাতে পারাও গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে বলা যায়, চাকরির বাজারে নিয়মিত পরিবর্তনের কারণে একবার কোনো দক্ষতা অর্জন করেই থেমে থাকবেন না। নিজের পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত নতুন কিছু শেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটিই ক্যারিয়ারের জন্য বেশি কার্যকর হবে।