Image description
বাঁয়ে আলী ও ডানে মাজহারুল ইসলাম জয়। ছবি : সংগৃহীত

আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক। একজন রেলস্টেশনের সাধারণ কুলি থেকে বনে গেছেন কোটিপতি।

অন্যজন রাজধানীতে পুলিশকে জিম্মি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই করতে গিয়ে ধরা পড়া দুর্ধর্ষ অপরাধী, যিনি গ্রামে কিনেছেন শত কাঠা জমি। দুজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের অঢেল সম্পদের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর ঈশ্বরগঞ্জ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কুলি থেকে কোটিপতি ‘টেরা জয়’
রেলস্টেশনে কুলি হিসেবে জীবন শুরু করা মাজহারুল ইসলাম জয় (৩০) এখন কোটিপতি। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী এলাকার তেলুয়ারি মুন্সিবাড়ির বাসিন্দা।

তার বাবা স্থানীয় বাজারে সামান্য পান-জর্দা বিক্রেতা হলেও জয়ের চুরির টাকায় এখন পুরো পরিবার কোটিপতি। এলাকায় তিনি ‘টেরা জয়’ নামে পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জয় একসময় রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় যেতে স্থানীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ভাগিয়ে নিয়েছিলেন। তবে তার অপকর্মের কারণে দল তাকে আগেই বহিষ্কার করে।

দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ‘বিজয় এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ভেতরে ছিনতাইকারীচক্রকে নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। শুধু আঠারবাড়ী ইউনিয়ন নয়, আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ তার অপরাধের কথা জানে।

সর্বশেষ গত ২৪ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনার মদন উপজেলার একটি গ্রামে এক মুক্তিযোদ্ধার জানাজা থেকে একটি ১৫০ সিসির পালসার মোটরসাইকেল চুরি করেন জয়। পরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং পাশের কেন্দুয়া উপজেলা থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।

বনানীতে পুলিশ জিম্মিকারী ‘আলী’ ও তার শত কাঠা জমি
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জের রাজিবপুর ইউনিয়নের মমরোজ গ্রামের বাসিন্দা আলী (৩৬)। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে তার দুর্ধর্ষ অপরাধের নেটওয়ার্ক। গত শনিবার রাতে রাজধানীর বনানীতে পুলিশকে জিম্মি করে প্রকাশ্যে একটি মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালান আলী। এ সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধারালো ছোরাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করে। আলীর নামে রাজধানীর বনানী, গুলশান এবং নিজ এলাকা ঈশ্বরগঞ্জে একাধিক চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার অপরাধজগৎ থেকে কামানো টাকা দিয়ে আলী গত মাত্র ১০ মাসের মধ্যে নিজ এলাকায় প্রায় শত কাঠা ফসলি জমি ক্রয় করেছেন। একজন পেশাদার অপরাধীর গ্রামে এত বিপুল পরিমাণ জমির মালিক বনে যাওয়া নিয়ে এলাকায় রীতিমতো তোলপাড় চলছে।

এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও স্বস্তি
এই দুই অপরাধীর গ্রেপ্তার এবং তাদের অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ী ও রাজিবপুর ইউনিয়নের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ, সমালোচনা ও একই সঙ্গে স্বস্তি নেমে এসেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এরা এলাকায় ও এলাকার বাইরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তারা। আমরা তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাই, যাতে আর কেউ এভাবে অপরাধের মাধ্যমে কোটিপতি হওয়ার দুঃসাহস না দেখায়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি সাজ্জদা রোমান জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের অপরাধের নেটওয়ার্ক ও অবৈধ সম্পদের বিষয়ে আরো তদন্ত চলছে।