Image description

ঢাকার ইসিবি চত্বরে নিউ গিনি প্রপার্টিজ কমপ্লেক্সে সশস্ত্র একটি দল হামলা চালিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের অত্যাধুনিক নান্দনিক স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’ তছনছ করে দেয়। ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্টুডিওটিতে হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ছবি: সৈয়দ মাহমুদুর রহমান

শতাধিক সশস্ত্র হামলাকারী স্টুডিওটির বিভিন্ন প্রোডাকশন সরঞ্জাম ধ্বংস করে, ২৯টি সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং ৩০ থেকে ৪০টি প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত ক্লায়েন্টদের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ লুট করে নিয়ে যায়। তবে হামলার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ আরও বড় ধরনের রাজনৈতিক ও নাগরিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, চাঁদাবাজি এবং রাষ্ট্রীয় নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগও প্রকাশ্যে এসেছে।

হামলার পরপরই এর প্রকৃত কারণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। এক ভাইরাল ভিডিওতে সালমান অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় চাঁদাবাজদের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর, তারা ওই কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। এতে তার স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তিনি দাবি করেন।

ছবি: সৈয়দ মাহ্মুদুর রহমান

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পুলিশ কর্মকর্তারা এই সহিংসতার পেছনে চাঁদাবাজির কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, ডেভেলপার ও পাশের এক জমির মালিকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা ৩৫ কাঠা জমির দখলসংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

পুলিশ কথিত হামলার পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে, রাতেই মামলা করতে সালমান যখন ক্যান্টনমেন্ট থানায় যান, তখন তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা নিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন।

 
ছবি: সৈয়দ মাহ্মুদুর রহমান

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সৃজনশীল– দুই অঙ্গনেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ‘জুলাই যোদ্ধা’ সালমানের ওপর হামলার নিন্দা জানান। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, কর্তৃপক্ষ নিজেদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে থাকা চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে কি না।

ছবি: সৈয়দ মাহমুদুর রহমান

এদিকে, বিভিন্ন অঙ্গনের তারকা ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো সালমানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। তারা এই অত্যাধুনিক স্টুডিও ধ্বংসের ঘটনাকে দেশের ডিজিটাল সৃজনশীল শিল্পের জন্য বড় ধরনের আঘাত হিসেবে তুলে ধরেছেন তারা।

এদিকে সালমান মুক্তাদির বলেছেন,  ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি আরও বড় পরিসরে স্টুডিওটি নির্মাণ করবেন। তবে দেশের আইনব্যবস্থার ওপর আস্থা হারানোর বিষয়ে যে হতাশা তিনি প্রকাশ করেছেন, তা তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতাকেই সামনে আনে।

ছবি: সৈয়দ মাহমুদুর রহমান

রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার দাপট ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের মতো বিষয়গুলো যখন কোনো পরিবেশকে প্রভাবিত করে, তখন দেশের প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল প্রতিষ্ঠানও যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে–এই ঘটনা তারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।