Image description
কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম থেকে সন্তানকে রক্ষার চেষ্টায় দুই মা। মোহাম্মদপুরের মা তামান্না ইয়াসমিন (বাঁয়ে) ও উত্তরার লাকি রহমান (ডানে)ছবি: কোলাজ

কিশোর মোহাম্মদ ওশান (১৬) স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিল। ঢাকার মোহাম্মদপুরে সেন্ট জোসেফ স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে সে।

ফেরার পথে ওশানকে অনুসরণ করছিলেন এক তরুণ। বারবার একটি কাগজ দেখার জন্য বলছিলেন। তবে তাঁর গতিবিধি ছিল সন্দেহজনক। ওশান একপর্যায়ে দৌড়ে একটি দোকানে ঢুকে যায় এবং দোকানে থাকা লোকদের সাহায্য চায়। দোকানের লোকজন বেরিয়ে এসে দেখে, ওই তরুণ সটকে পড়েছেন।

মাস তিনেক আগের এই ঘটনা উল্লেখ করে ওশানের মা তামান্না ইয়াসমিন (৩৬) প্রথম আলোকে বলেন, ছেলের মুখে এটা শুনে তিনি ভয় পেয়েছিলেন। কারণ, এ ঘটনার আগে ছেলের দুই বন্ধু দুই ঘটনায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়। একজনের কাছ থেকে মুঠোফোন এবং একজনের কাছ থেকে সাইকেল ছিনিয়ে নেয় তাদের সমবয়সীরাই।

তামান্না ইয়াসমিন ও মো. এনায়েত উল্লাহ দম্পতির বাস মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে। ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে নিজের বাসায় বসে তামান্না যখন কথাগুলো বলছিলেন, তখন পাশেই বসা ছিলেন এনায়েত উল্লাহ ও ওশান। তামান্না বলেন, ‘খুব আতঙ্ক লাগে, কত আর চোখে চোখে রাখা যায়, বলেন!’

সারা দেশে ‘কিশোর গ্যাং’ বা অপরাধ চক্রের দৌরাত্ম্যে মা-বাবারা সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত। চিন্তার একটি দিক হলো সন্তানের নিরাপত্তা। অন্য দিক হলো সন্তান বিপথে যায় কি না।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর সন্তান লালনপালন বা প্যারেন্টিং আলোচনায় আসে। এ নিয়ে মায়েদের যে লড়াই, তা জানার চেষ্টা করে প্রথম আলো। অনেকের সঙ্গেই কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তাঁর মধ্য থেকে দুই মা তাঁদের লড়াইয়ের গল্পটি নাম-ছবিসহ প্রকাশে রাজি হন।

মায়েদের আতঙ্ক আরও বেড়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার শিকার হওয়ার পর। পুলিশ বলছে, তার কাছে থাকা মুঠোফোন (আইফোন) ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা তার পূর্বপরিচিত।

অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ দুই কিশোর ‘আরজেড-৩৬’ নামক গ্যাংয়ের সদস্য ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর সন্তান লালনপালন বা প্যারেন্টিং আলোচনায় আসে। এ নিয়ে মায়েদের যে লড়াই, তা জানার চেষ্টা করে প্রথম আলো। অনেকের সঙ্গেই কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তাঁর মধ্য থেকে দুই মা তাঁদের লড়াইয়ের গল্পটি নাম-ছবিসহ প্রকাশে রাজি হন।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা তামান্না ইয়াসমিন ও তাঁর ছেলে মোহাম্মদ ওশান
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা তামান্না ইয়াসমিন ও তাঁর ছেলে মোহাম্মদ ওশানছবি: প্রথম আলো

দুই মায়ের একজন তামান্নার বাস মোহাম্মদপুরে, অন্যজন লাকি রহমানের বাস উত্তরায়। দুটি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের অপরাধী চক্র নিয়ে আলোচনা বেশ পুরোনো। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশি কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়লে মোহাম্মদপুরে অপরাধ বেড়ে যায়।

‘মোহাম্মদপুর কি ঢাকার “সিটি অব গড”’ শিরোনামে গত ১৯ এপ্রিল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। তাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বরাত দিয়ে বলা হয়, মোহাম্মদপুরে অর্ধশত অপরাধী দল সক্রিয়। এর মধ্যে কিশোর গ্যাংও রয়েছে।

ওশানের মা-বাবার মতে, মোহাম্মদপুরের অপরাধ কমছে না। এই পরিস্থিতিতে সন্তানকে নিরাপদ রাখতে ও সন্তানের বিপথে যাওয়া ঠেকাতে তাঁদের বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে।

তামান্না বলেন, তাঁর ছেলের মুঠোফোনসহ নানা ডিভাইস রয়েছে। তবে এসবের পাসওয়ার্ড তাঁর জানা। তাঁর মতে, আধুনিকে যুগে সন্তানদের জন্য ডিভাইসও জরুরি। ছেলে যেন ‘খারাপ সঙ্গ’ থেকে দূরে থাকতে পারে, সে কারণে স্কুলের বিভিন্ন ক্লাবে তিনি ছেলেকে যুক্ত করেছেন। সে আইটি ক্লাব, সায়েন্স ক্লাবের সদস্য। এ বছর সায়েন্স ক্লাবের নিউক্লিয়াস সাময়িকী প্রকাশের দায়িত্বে ছিল ওশান।

বিপদ সম্পর্কে সন্তানকে শিখিয়েছেন

তামান্না ইয়াসমিন ও এনায়েত উল্লাহর আলিনা ইসলাম (৬) নামের আরেকটি সন্তান রয়েছে। তামান্না ইডেন কলেজ থেকে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস। চাকরি করতেন। তবে অসুস্থতার কারণে ২০১৯ সালে তা ছেড়ে দেন। এখন দুই ছেলে-মেয়ের পেছনেই তাঁর দিনের বেশির ভাগ সময় চলে যায়।

তামান্না বলেন, ছেলেকে সব সময় শিখিয়েছেন কোন কোন বিষয় তার বিপদ ডেকে আনতে পারে। ছেলের সঙ্গে তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, যাতে ছেলে তাঁর কাছে সবকিছু বলে।

স্কুলের একটি প্রকাশনায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ওশানের একটি লেখা ছাপা হয়েছে। সেখানে ওশান ‘অভিভাবকদের ভুল-বোঝাবুঝি’ শিরোনামের একটি অংশে লিখেছে, ‘অনেক অভিভাবক সন্তানের প্রতিটি কাজকে অন্য কারও সঙ্গে মাপতে শুরু করেন, “পাশের ছেলেটা অমুক পেয়েছে, তুই কেন পারলি না?” এই তুলনা সন্তানের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়।’ ওশান নিজে এমন সমস্যায় আছে কি না জানতে চাইলে তার উত্তর, ‘আমার মা-বাবা অনেক সাপোর্টিভ (সহযোগিতাপূর্ণ)।’

তামান্না বলেন, তাঁর ছেলের মুঠোফোনসহ নানা ডিভাইস রয়েছে। তবে এসবের পাসওয়ার্ড তাঁর জানা। তাঁর মতে, আধুনিকে যুগে সন্তানদের জন্য ডিভাইসও জরুরি। ছেলে যেন ‘খারাপ সঙ্গ’ থেকে দূরে থাকতে পারে, সে কারণে স্কুলের বিভিন্ন ক্লাবে তিনি ছেলেকে যুক্ত করেছেন। সে আইটি ক্লাব, সায়েন্স ক্লাবের সদস্য। এ বছর সায়েন্স ক্লাবের নিউক্লিয়াস সাময়িকী প্রকাশের দায়িত্বে ছিল ওশান।

কিশোরকে তার ব৵ক্তিগত প্রতিটি ক্ষেত্রে নজরদারি না করে তারা যা করতে চায়, সেটাকে মর্যাদার সঙ্গে দেখতে হবে।
শিশু অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার

তামান্নার মতে, এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে ওশানের মানসিক বিকাশ ভালো হয়েছে। গত বছর বইমেলায় ওশানের ইংরেজি কবিতার বই পেট্যালস্ বিনেথ অ্যাশেস (ছাইচাপা পাপড়ি) বের হয়েছে। তিনি বলেন, এখন শিশুদের যে ঘরবন্দী জীবন, সেটার জন্য নিরাপত্তাহীনতা বড় অংশে দায়ী। শিশুর জন্য এটা জুলুম। মা-বাবা তো সন্তানকে দেখবেনই। কিন্তু বাইরে নিরাপত্তা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।

তামান্না আরও বলেন, ‘বাইরের নিরাপত্তা যদি ঠিকঠাক থাকত, তাহলে আমাদের এত পেরেশানি হতো না। একটি কিশোরেরও তো স্বাধীনতা রয়েছে, তাকে স্বাভাবিক পরিবেশে বড় হতে দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।’

কিশোর বয়সটা এমন যে সেখানে মা-বাবার বেশি নজর রাখাকে তারা খবরদারি মনে করতে পারে—এমন মত তুলে ধরে শিশু অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, কিশোরকে তার ব৵ক্তিগত প্রতিটি ক্ষেত্রে নজরদারি না করে তারা যা করতে চায়, সেটাকে মর্যাদার সঙ্গে দেখতে হবে। তিনি বলেন, সন্তানের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সবকিছু মা-বাবাকে খুলে বলে। ডিভাইসের ইতিবাচক ব্যবহার শেখাতে হবে।

দৈনিক ৫০ টাকা, ফিচার ফোন

ছেলে সাফওয়ান রহমান ও মেয়ে সাওদা রহমানের সঙ্গে মা লাকি রহমান
ছেলে সাফওয়ান রহমান ও মেয়ে সাওদা রহমানের সঙ্গে মা লাকি রহমানছবি: পরিবারের কাছে পাওয়া

লাকি রহমানের বাস উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে। তিনি কর্মজীবী, একা মা (সিঙ্গেল মাদার)। তাঁর ছেলে সাফওয়ান রহমান (১৩) মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। বড় মেয়ে সাওদা রহমান (২১) শান্ত মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন।

লাকি রহমানের সঙ্গে কথা বলতে তাঁর বাসায় যেতে হয়েছিল সকাল সোয়া সাতটায়। ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁর বাসায় যাওয়ার পর দেখা গেল, ছেলে-মেয়েরা স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। তিনি নাশতা তৈরি করে দিচ্ছেন। নিজের জন্য খাবার গোছাচ্ছেন।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে লাকি রহমান বললেন, ছেলের জন্য প্রতিদিন ৫০ টাকা বরাদ্দ। এর মধ্যে ৩০ টাকা ভাড়া আর ২০ টাকা টিফিনের জন্য। যোগাযোগ রক্ষায় বাসায় ছেলের জন্য একটি ‘বাটন ফোন’ (ফিচার ফোন) রেখেছেন।

লাকি বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে সব সময় উদ্বিগ্ন থাকেন তিনি। পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা ও লাশ টুকরা করা এবং কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যার সংবাদ দেখার পর তাঁর দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

সাফওয়ানকে পাঁচ মাস আগে কারাতে ক্লাসে ভর্তি করেছেন লাকি রহমান। তাঁর ভাষায়, ‘কারাতে শেখার জন্য দিয়েছি, যেকোনো পরিস্থিতিতে যেন আত্মরক্ষা করতে পারে।’ সাফওয়ান স্কুলের ডিবেট ক্লাবের সদস্য। আবৃত্তি চর্চা করে। এ বছর স্কাউটে যুক্ত হয়েছে। স্কুলের পড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতিবছর ‘অলরাউন্ডার’ আর ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’-এর পুরস্কার জিতেছে।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে লাকি রহমান বললেন, ছেলের জন্য প্রতিদিন ৫০ টাকা বরাদ্দ। এর মধ্যে ৩০ টাকা ভাড়া আর ২০ টাকা টিফিনের জন্য। যোগাযোগ রক্ষায় বাসায় ছেলের জন্য একটি ‘বাটন ফোন’ (ফিচার ফোন) রেখেছেন।
উত্তরার বাসিন্দা লাকি রহমান ও তাঁর ছেলে সাফওয়ান রহমান
উত্তরার বাসিন্দা লাকি রহমান ও তাঁর ছেলে সাফওয়ান রহমানছবি: সংগৃহীত

লাকির মতে, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে কিশোর সন্তান বিপথে যাবে না। তবে সন্তানদের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তিনি জানান, সপ্তাহে এক দিন তাঁরা বাসায় একসঙ্গে সিনেমা দেখেন। একবার ছেলের এক বন্ধু ছেলের হাতে প্রাপ্তবয়স্কদের সিনেমার নাম চিরকুটে লিখে দিয়েছিল। ছেলের সঙ্গে আস্থা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক না থাকলে তিনি এই ঘটনা জানতে পারতেন না।

লাকি রহমান বলেন, ‘সন্তানদের এমনভাবে বড় করা উচিত, যাতে তারা তাদের সব কথা মা-বাবাকে এসে বলতে পারে। আমি ওকে (সাফওয়ান) বলিনি ওই বন্ধুর সঙ্গে আর মিশো না; বরং ভালো-মন্দ বুঝে চলতে বলেছি।’

আমরা বাচ্চাদের (সন্তান) জন্য যতটুকু পারি করছি। সরকার ও সমাজের দায়িত্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তারা এই দায়িত্ব পালন না করলে আমরা (বাবা-মায়েরা) সন্তানদের পেছনে যে খাটুনি দিচ্ছি, তার সবই বৃথা হয়ে যাবে।
লাকি রহমান

লাকি রহমান যেখানে থাকেন, তার খুব কাছে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে ৯ বছর আগে সমবয়সীদের হাতে খুন হয় কিশোর আদনান কবির (১৪)। মূলত এরপরই কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি আলোচনায় আসে। নাম কিশোর গ্যাং হলেও এসব দলে প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের আধিক্য আছে। এলাকার প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এসব সদস্য মাদক, ছিনতাই, হত্যা, অপরাধে ভাড়ায় খাটার মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্কুলছাত্র আদনান কবির হত্যার ঘটনায় ‘ডিসকো বয়েজ’ ও ‘নাইন স্টার গ্রুপ’-এর আটজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তবে জামিনে বেরিয়ে আসা অপরাধীদের ক্রমাগত হুমকির মুখে আদনানের পরিবার উত্তরা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এখনো উত্তরায় অপরাধী দলের দৌরাত্ম্য রয়েছে।

লাকি রহমান বলছিলেন, ‘আমরা বাচ্চাদের (সন্তান) জন্য যতটুকু পারি করছি। সরকার ও সমাজের দায়িত্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তারা এই দায়িত্ব পালন না করলে আমরা (বাবা-মায়েরা) সন্তানদের পেছনে যে খাটুনি দিচ্ছি, তার সবই বৃথা হয়ে যাবে।’

কিশোর গ্যাং সমস্যাটি শুধু ঢাকার নয়, সারা দেশেরই সমস্যা। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একট বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দেশে ২৩৭টির মতো কিশোর গ্যাং রয়েছে। কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যার পর পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কিশোর গ্যাংসহ অপরাধী দলের সদস্যদের ধরা হচ্ছে।

সব মা-বাবার অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা নেই

কিশোর গ্যাং সমস্যাটি শুধু ঢাকার নয়, সারা দেশেরই সমস্যা। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একট বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দেশে ২৩৭টির মতো কিশোর গ্যাং রয়েছে। কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যার পর পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কিশোর গ্যাংসহ অপরাধী দলের সদস্যদের ধরা হচ্ছে।

অপরাধ দমন করা যেমন জরুরি, তেমনি কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে নানা উদ্যোগ দরকার বলে মনে করেন এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা।

শিশু বিকাশ ও অভিভাবকত্ব বিশেষজ্ঞ এবং হেভেন এডুকেশন সার্ভিসেসের প্রধান পরামর্শক আঞ্জুমান পারভীন প্রথম আলোকে বলেন, অর্থ ব্যয় করে স্কুলের ক্লাব, আত্মরক্ষা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সন্তানকে যুক্ত করতে পারেন না সব মা-বাবা। স্কুলগুলোর উচিত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশে কাজ করা। সরকারের উচিত এলাকাভিত্তিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলা, যেখানে সব শিশুর অংশগ্রহণ থাকবে, নিরাপত্তা থাকবে।

সরকারের আরেকটি দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন ‘শিশুরাই সব’-এর আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার। তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের বিকাশে মাঠ ও পার্ক রাখা এবং সেখানে নিরাপত্তার সঙ্গে শিশুরা যাতে খেলতে-ঘুরতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।