Image description

সারা দেশের চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলবাজদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ষষ্ঠ জাতীয় যুব কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

 

এদিন সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন রমনায় সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতী মানসুর আহমাদ সাকীর সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান হয়।

 

নারায়ণগঞ্জে যুব আন্দোলনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বুলবুল হত্যার বিচার আদায়সহ সব হত্যাকাণ্ড, খুন, গুম ও ধর্ষণ রুখে দিতে যুব আন্দোলনকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলবাজদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে হবে।

 

রেজাউল করীম উল্লেখ করে বলেন, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রমাণ হয়েছে, ইসলামের লেবেল লাগিয়ে যে দলটি মানুষের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে না, তার নাম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আমাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ। এ দেশের আদর্শিক যুবকদের অনুপ্রেরণার নাম ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ।

 

তিনি বলেন, আল্লাহর ওয়াদা রয়েছে, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মুমিন হও। তাই মুমিনের গুণাবলি অর্জনে চেষ্টা ও সাধনা চালিয়ে যেতে হবে।

 

দলটির আমির বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতি এ দেশের আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেড়েই চলছে। তাই আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে পৌঁছে যেতে হবে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

তিনি কনভেনশনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের চলমান কমিটি বিলুপ্ত করে ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য মুফতি মানসুর আহমদ সাকীকে সভাপতি, আ হ ম আলাউদ্দীন ও অ্যাডভোকেট বায়েজিদকে সহসভাপতি এবং রহমাতুল্লাহ বিন হাবিবকে সেক্রেটারি জেনারেল করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।

 

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জানবাজি রেখে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মীরা কাজ করে গেছে। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের প্রত্যেক কর্মীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আগামী বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণে যুব আন্দোলনের প্রত্যেক কর্মীকে ভাই ভাই হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সব সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, কেয়ামতের ময়দানে যে সাত শ্রেণির মানুষ আরশের নিচে ছায়া পাবে, তাদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো আদর্শবান যুবক। সব নবী-রাসুল যুবক বয়সে ইবাদত করেছেন। যুবকদের ইবাদত আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। যুবকরা জাগলে জেগে ওঠে বৃহৎ বিশ্ব।

 

তিনি আরও বলেন, রুহানিয়াত ও জিহাদের সমন্বিত প্রয়াসে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে। আত্মার পরিশুদ্ধি ছাড়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা এলে ইসলামের কোনো উপকার হবে না। তাই যুব আন্দোলনের প্রত্যেক কর্মীকে আদর্শবান, নীতিবান ও চরিত্রবান হতে হবে। আগামীর বাংলাদেশে ইসলামের ব্যানার নিয়ে রাজনীতি করবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। কোনো মুনাফিককে ইসলামের ব্যানার ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

 

বিএনপিকে সতর্ক করে তিনি বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে আমরা বাধ্য হব।

 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, যারা ইসলামের নামে ধোঁকাবাজি করে, মিথ্যা বলে এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ইসলামকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে, তারা প্রকৃত অর্থে ইসলামকে চায় না। মুনাফিকরা কাফেরদের চেয়েও ক্ষতিকর। মুনাফিকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে শরিয়ার পক্ষে গণজাগরণ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ এ দেশের পাড়া-মহল্লা ও প্রতিটি অঞ্চলে ইসলামের দুর্গ গড়ে তুলতে পারলে অচিরেই বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েম হবে, ইনশাআল্লাহ।

 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, একটি দেশের টিকে থাকা ও অগ্রগতি অনেকাংশে যুবশক্তির ওপর নির্ভর করে। যুবশক্তি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যায়, আবার যুবশক্তির কারণেই অনেক সময় রাষ্ট্র ধ্বংস হয়। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারা যুবশক্তিকে নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করার জন্য কার্যকর কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করেনি।

 

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশে জায়গায় কাজ করছে। এটি শুধু কোনো রাজনৈতিক শক্তি নয়, বরং নৈতিকতায় সমৃদ্ধ আদর্শিক নাগরিক গড়ে তোলার একটি প্ল্যাটফর্ম বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মধ্যেই উত্তম আদর্শ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ১০ বছর শাসন করেছেন। কিন্তু আমাদের দেশে ৯২ শতাংশ মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা রাখে না। ইসলামি রাজনীতিই সর্বশ্রেষ্ঠ রাজনীতি, ইসলামের আদর্শই সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ এবং ইসলামের বিচারই সর্বশ্রেষ্ঠ বিচার। এই দাওয়াত নিয়ে এ দেশের প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে হবে।

 

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ বলেন, ইসলামী বিপ্লব প্রতিষ্ঠায় ইসলামী যুব আন্দোলনের কর্মীদের জান-মাল, সময় ও অর্থ দিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। আদর্শবান যুবকরা জাগলেই জাগবে বাংলাদেশ।

 

সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহযোগী সংগঠন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। ওলামায়ে কেরামদের সংগঠনের সর্বস্তরে যুক্ত করতে পারলে অচিরেই মানজিলে মকসুদে পৌঁছানো সহজ হবে। যোগ্য ও আদর্শবান নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমেই রাষ্ট্রে আদর্শিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

 

কনভেনশনে আরো বক্তব্য প্রদান করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মাওলানা মোহাম্মাদ নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলুল করীম মারুফ, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সেক্রেটারি মুফতি রেজাউল করিম আবরার, জয়েন্ট সেক্রেটারি মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান, জাতীয় শিক্ষক ফোরামমের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা এ বি এম জাকারিয়া, ইসলামী আইনজীবী পরিষদের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হানিফ মিয়া, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি আবুল কাশেম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাসির আহমাদ, কামাল উদ্দিন, মোহাইমিন পটোয়ারী প্রমুখ।