Image description

চলতি বছরের ৫ আগস্ট গ্রেপ্তারের পর তাঁকে কারাগারে আলো-বাতাসহীন সেলে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। তিনি বলেন, সেখানে কারারক্ষী ও কয়েদিরা আমাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ করত।

 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন এনসিপির এই সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে গত ২ আগস্ট বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল। সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় ৪ আগস্ট তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালতের মাধ্যমে গাজী সালাউদ্দিনকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। গত ১৫ সেপ্টেম্বর জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন তিনি।

 

বগুড়া জেলা কারাগারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তানভীর বলেন, ‘৫ আগস্ট আমাকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া কারাগারের অপরিচ্ছন্ন, বিদ্যুৎহীন এবং আলো–বাতাসহীন একটি সেলে নেওয়া হয়। সেখানে কোনো ফ্যানও ছিল না।’

 

তিনি দাবি করেন, কারারক্ষীদের বড় একটি অংশ আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং তাদের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে। তারা তাঁকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ করত। এছাড়া আশপাশের সেলে থাকা আওয়ামী লীগের কয়েদিরাও তাঁকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করত।

 

সংবাদ সম্মেলনে সালাউদ্দিন আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে কারাগারে সবাইকে ভালো খাবার দেওয়া হলেও আমাকে দুই দিনের বাসি ও পচা খাবার দেওয়া হয়েছিল। সেই খাবার খাওয়ার পর আমার ডায়রিয়া শুরু হয়।’

 

পরে চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হতো না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমার শরীরে অন্তত ৭০ থেকে ৮০টি অজানা ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। সারাক্ষণ জ্বর থাকত আর তারা আমাকে ইনজেকশন দিত।’

তিনি জানান, উন্নত চিকিৎসার কথা বলে তাঁকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়ার পর ফেরার পথে প্রিজন ভ্যানেই সাদাপোশাকের কয়েকজন লোক উঠে তাঁকে মারধর করে।

সালাউদ্দিন আরও জানান, বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক আহমেদ আকবর সোবহান ও তাঁর ছেলে সায়েম সোবহান আনভীরের নাম উল্লেখ করে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

 

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেল ও রিমান্ডে চলা এই নির্যাতনের কথা বাইরে প্রকাশ করলে আমার পরিবারকে গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

 

এছাড়া নির্যাতনের সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সালাহউদ্দিন আম্মারের নাম উল্লেখ করে ‘জুলাইয়ের সবাইকে’ নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আবু সাঈদ লিয়ন, কেন্দ্রীয় মিডিয়া উপকমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত এবং ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব আবদুল আহাদ উপস্থিত ছিলেন।