বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগকে দেশে ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দিতে সরকারের অভ্যন্তরে থাকা একটি অংশ এবং প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা একটি চক্র কাজ করছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহে জেলা জামায়াতের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী জেলা কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষা শিবিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধঘোষিত একটি দল কীভাবে রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মিছিল করেছে, তা প্রশ্নের বিষয়। তার দাবি, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব নয়। প্রশাসনের ভেতরে থাকা একটি পক্ষের সহযোগিতা ছাড়া এসব মিছিল সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা ডিজিটাল প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম ব্যবহার করে বক্তব্য দেওয়ায় দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়ছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারকে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, জামায়াতসহ বিরোধী দল সরকারের কাছে ৩৮টি লিখিত প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেগুলোর কোনোটিই সরকার আমলে নেয়নি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিভিন্ন মহানগরে জামায়াত বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০০১ সালে জামায়াতের সহযোগিতা ছাড়া বিএনপির পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব হতো না। অথচ পরবর্তীতে জামায়াতকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী অর্থ পাচার বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। বিএনপি বিরোধী দল সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য দিতে না পেরে জামায়াতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে এর সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন, ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য আমির হামজাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।