Image description

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বিলমাকশা জলমহালের ভোগদখল ও ইজারা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের আখড়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে বিলমাকশা জলমহালটি ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করে উপজেলা প্রশাসন। এতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিন অংশ নেন। দরপত্র প্রক্রিয়ায় এস এম শাহিন সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এগিয়ে আছেন। এরপর থেকেই জলমহালটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদের অনুসারীরা জলমহালটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন-এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। কয়েকদিন ধরে চলা এই উত্তেজনার একপর্যায়ে আজ দুপুরে আখড়া বাজার এলাকায় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) আমিনুল ইসলাম বলেন, আজ দুপুর ২টা পর্যন্ত ২২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিন বলেন, বিলমাকশা জলমহালটি গত বছর তিনি ইজারা নিয়েছিলেন। এবারও দরপত্রে তিনি সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছেন। কিন্তু উপজেলা বিএনপির সভাপতি বিভিন্নভাবে এতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হয়ে জলমহালটি লুটপাটের জন্য স্থানীয় সাধারণ মানুষকে উসকে দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার তার অনুসারীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এস এম শাহিনের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ। তার দাবি, শাহিনের সমর্থকেরাই প্রথমে তার লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে।

 

এদিকে, বিলমাকশা জলমহালটি এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

অষ্টগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।